স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান ক্রিকেটে মাঠের ব্যর্থতার সঙ্গে বিতর্ক যেন এখন নিত্যসঙ্গী। ইংল্যান্ড সফরে একের পর এক পরিবর্তনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন। আইপিএলের সঙ্গে তার অতীত সম্পর্ক টেনে হেসনের আনুগত্য নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক উইকেটকিপার-ব্যাটার রশিদ লতিফ। এমনকি পরোক্ষভাবে তাকে ‘ভারতের এজেন্ট’ হিসেবেও ইঙ্গিত করেছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর পাকিস্তান দলে বড়সড় রদবদল হয়। সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর পাশাপাশি টেস্ট কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। শেষ টেস্টে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় হেসন ও অ্যাশলি নফকেকে।
হেসনের অতীত নিয়েই আপত্তি লতিফের। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগে কাজ করেছেন হেসন। পাশাপাশি পাকিস্তান সুপার লিগের দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। লতিফ মনে করেন, জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা বিদেশি কোচের ক্ষেত্রে আনুগত্যের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ‘মাইক হেসনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি আলাদা, কিন্তু একজন বিদেশি কোচের জন্য আনুগত্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বব উলমার যখন ছিলেন, আমি জানি তিনি পাকিস্তানের প্রতি অনুগত ছিলেন। জিওফ লসনও পেশাদার ছিলেন, লাহোরে থেকেছেন এবং তারও আনুগত্য ছিল।হেসনের আইপিএল-সংশ্লিষ্টতাকে আরও বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন লতিফ।
তার মতে, 'আনুগত্যের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এখানে সন্দেহ থেকেই যায়। আমি বলছি না যে কেউ অনুগত নয়, অবশ্যই হতে পারে। তবে এসব বিষয় যাচাই করা ভালো। তার অতীত দেখুন, কোনো না কোনো সংযোগ থাকবেই। আপনি যে ক্ষতি করতে পারেননি, অন্য কেউ হয়তো ভেতর থেকে সেই ক্ষতি করতে পারে।
এমনকি পাকিস্তান ক্রিকেটে বাইরের প্রভাব ও ‘এজেন্ট’ তৈরির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘বিশেষ করে আইপিএলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন কাউকে যদি সেখানকার কেউ ব্যবহার করতে চায়, তখনই এজেন্ট তৈরি হয়।
এর আগে হেসনের ঘরোয়া ক্রিকেট সম্পর্কে জ্ঞান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন লতিফ। তবে হেসন জানিয়েছেন, সাত ক্রিকেটারকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত তার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই হয়ে গিয়েছিল এবং ওই সিদ্ধান্তে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।