মহাকাশযানের কৌশলগত সক্ষমতা ও যুদ্ধের ময়দানে টিকে থাকার ক্ষমতা যাচাই করতে প্রথমবারের মতো মহাকাশভিত্তিক কৌশলগত মহড়া পরিচালনা করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
‘ইউএস স্পেস কমান্ড’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ উদ্বোধনী ‘লাইভ-ফ্লাই এক্সারসাইজ সিমুলেটেড’ বা কৃত্রিম সংঘাতের পরিবেশে সামরিক স্যাটেলাইট এবং মহাকাশযানগুলোর সুনির্দিষ্ট ও গতিশীলতা নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।
মহাকাশে এভাবে বিভিন্ন স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানকে পরস্পরের সাপেক্ষে আক্রমণ ও প্রতিরক্ষার কৌশলে চালনা করাকে ‘অরবিটাল ডগফাইটিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইউএস স্পেস ফোর্সের ভাইস চিফ অফ স্পেস অপারেশনস জেনারেল মাইকেল এ. গুটলেইন।
বিভিন্ন ফাইটার জেটের মধ্যে চলা ‘ক্লোজ এয়ার কমব্যাট’ বা নিকট দূরত্বে আকাশযুদ্ধের সঙ্গেই তিনি এই নতুন মহাকাশ কৌশলের তুলনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।
এ মহড়ার পেছনের কৌশলগত গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’-এর কমান্ডার জেনারেল স্টিফেন হোয়াইট বলেছেন, “একটি স্থির ও অনুমান করা যায় এমন কক্ষপথ থেকে কার্যক্রম পরিচালনার ফলে আমাদের সম্পদগুলোকে এমন নির্দিষ্ট অবস্থান থেকে লড়াই করতে হয়, যা সহজেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
“মহাকাশ ক্ষেত্রে নিজেদের টিকিয়ে রাখতে, সেরা পারফর্ম করতে ও কৌশলগত সুবিধা পেতে হলে আমাদের সক্ষমতায় উচ্চতর গতিশীলতা ও টিকে থাকার সক্ষমতা থাকা জরুরি।”
মার্কিন সেনাবাহিনী বা নৌবাহিনীর মতো সশস্ত্র বাহিনীর স্বাধীন শাখা হিসেবে ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইউএস স্পেস ফোর্স প্রতিষ্ঠিত হয়। একই বছরে ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’কেও সমন্বিত এক ‘কমব্যাট্যান্ট কমান্ড’ হিসেবে পুনরায় চালু করেন ট্রাম্প।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের আমলে তৈরি ‘স্পেস কমান্ড’ পরবর্তীতে ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।
বর্তমানে মহাকাশে সামরিক অভিযান পরিচালনার সার্বিক দিকনির্দেশনা ও দায়িত্ব পালন করছে ইউএস স্পেস কমান্ড।
অন্যদিকে, স্পেস ফোর্স সামরিক কর্মী সংগঠিতকরণ, নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া ও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে তাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার দায়িত্বে থাকা প্রধান সার্ভিস ব্রাঞ্চ হিসেবে কাজ করছে।
মহাকাশে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের কৌশলগত চলাচল ও নিরাপত্তা জোরদার করতে সম্প্রতি ‘অ্যাপোলো ম্যানুভার্স ২০২৬’ নামের এক গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ মহড়া সম্পন্ন করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
আন্তর্জাতিক অংশীদারদের অংশগ্রহণে পরিচালিত এ মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল যখন চীন ও রাশিয়ার মতো পরাশক্তিগুলো অন্যান্য মহাকাশযান নজরদারির আওতায় আনতে নিজস্ব স্যাটেলাইট চালন সক্ষমতা দ্রুত উন্নত করে চলেছে।
পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথ বর্তমানে জনাকীর্ণ ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এ কক্ষপথে থাকা বিভিন্ন সামরিক স্যাটেলাইট ব্যবহার করে ‘গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম’ বা যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ‘মাল্টিন্যাশনাল ফোর্স-অপারেশন অলিম্পিক ডিফেন্ডার’-এর কমান্ডার ও ‘ইউএস স্পেস কমান্ড’-এর প্রধান জেনারেল স্টিফেন হোয়াইট বলেছেন, “অ্যাপোলো ম্যানুভার্সের মতো মহড়াগুলো আমাদের মহাকাশ ক্ষেত্রে কৌশলগত সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও বিভিন্ন চাহিদা দেখানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
“সরাসরি ফ্লাইং অপারেশনের মাধ্যমে একাধিক কক্ষপথে সমন্বিত কার্যক্রম পরিচালনা করা আমাদের অংশীদারিত্বের যুদ্ধকালীন দক্ষতাকে আরও দৃঢ় করছে, যার মাধ্যমে আমরা রণকৌশল পরিমার্জন, প্রতিযোগিতাপূর্ণ লজিস্টিকস মূল্যায়ন ও স্যাটেলাইট সার্ভিসিংয়ের বিভিন্ন চাহিদা সফলভাবে নির্ধারণ করতে পারছি।”