স্পোর্টস ডেস্ক : মরক্কোয় হতে যাওয়া ২০২৭ সালের মার্চের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো থাকবে কি না সেটা নিয়ে আছে সংশয়। এরমধ্যে বিভিন্ন ফেডারেশন ও ফুটবল সংস্থাগুলোর কেউ ইনফান্তিনোর পক্ষে কেউবা তাঁর বিরুদ্ধে। এবার ইনফান্তিনোকে নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করল সৌদি আরবও।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রতি নিজেদের সমর্থনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন (এসএএফএফ)।-- চ্যানেল২৪
ব্যর্থ হওয়া বিশ্বকাপ স্বত্ব বিক্রি সংক্রান্ত পরিকল্পনার জেরে ফিফার সাম্প্রতিক সংকটের এক মাস পর এই প্রথম কোনো প্রভাবশালী দেশের প্রকাশ্য সমর্থন পেলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ২০৩৪ বিশ্বকাপ আয়োজক দেশও ফিফা সভাপতিকে সমর্থন জানালো।
সৌদি আরব ফুটবল ফেডারেশন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফুটবলের বৈশ্বিক ঐক্য ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টায় ইনফান্তিনোর পাশে রয়েছে তারা।
সৌদি ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই মুহূর্তে এসএএফএফ ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং ফিফা নেতৃত্বকে সমর্থন জানাচ্ছে, যাতে তারা ফুটবল পরিবারের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে এবং সবার কল্যাণে খেলাটির বিস্তার ঘটাতে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে পারেন।’
একই সঙ্গে তারা ফিফা নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন ‘সবার উদ্বেগগুলো খোলামেলাভাবে বিবেচনা করে সরাসরি মুখোমুখি সংলাপের’ ব্যবস্থা করা হয়।
৩৭ সদস্যের ফিফা কাউন্সিলের (যেখানে সৌদি কর্মকর্তা ইয়াসের আল মিশালও সদস্য হিসেবে আছেন) কোনো সভা ডাকেননি ইনফান্তিনো। এর পরিবর্তে তিনি তিন সপ্তাহ আগে মরক্কোর রাবাতে ফিফার বেশিরভাগ ব্যবস্থাপনা দলের সাথে বৈঠক করেন। পরবর্তীতে ফিফার এক বিবৃতিতে ভুল স্বীকার করার পাশাপাশি সভাপতির অবস্থানকে সমর্থন জানানো হয়।
নিজের ১০ বছরের সভাপতি হিসেবে মেয়াদে সৌদি আরব এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফুটবল ও রাজনৈতিক দিক থেকে ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন ইনফান্তিনো। এছাড়া ২০৩৪ বিশ্বকাপকে সৌদির দিকে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। সম্প্রতি গত রোববার প্যারিসে সৌদি-সমর্থিত একটি ভিডিও গেমিং ইভেন্টেও দুজনে একসাথে উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত এক মাস ধরে সৌদি আরব ফুটবল অঙ্গনে বেশ নিরব ছিল। অথচ এর মধ্যে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি), ইউরোপের ইউয়েফা এবং উত্তর আমেরিকার কনকাকাফ—সবাই মিলে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। ফিফার একটি বাণিজ্যিক সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে গোপনে বিক্রির চেষ্টা করার জন্য তারা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণা’ ও ‘বিশ্বাসভঙ্গের’ অভিযোগ তুলেছিল।
পরে এই সিদ্ধান্ত থেকে ফিফার পিছু হটার বিষয়ে সৌদি ফেডারেশন বলেছে, এগুলো ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক পদক্ষেপ। তবে ফুটবলে চলমান বিভাজনই প্রমাণ করে যে আরও প্রশস্ত এবং সরাসরি সংলাপের প্রয়োজন রয়েছে।