জার্মানির ব্যস্ততম ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দুই কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান 'ফ্রাপোর্ট' এবং স্থানীয় জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির সবচেয়ে বড় এই পরিবহন হাবটিতে বিভিন্ন পদে ও বিভিন্ন স্থানে কর্মরত মোট ছয়জন পুরুষ কর্মী ম্যালেরিয়ার এই প্রাদুর্ভাবে সংক্রমিত হন। আক্রান্তদের মধ্যে বেঁচে যাওয়া অপর চার কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ধারণা, কোনো এক উড়োজাহাজে করে বহিরাগত একটি 'অ্যানোফিলিস' মশা দেশটিতে আসে এবং সেটির কামড়েই কর্মীরা আক্রান্ত হন।
"এয়ারপোর্ট ম্যালেরিয়া" নামে পরিচিত এই বিরল ঘটনাটি মূলত তখনই ঘটে, যখন ঘটনাক্রমে সংক্রমিত মশা বিমান বা কার্গো পণ্যের ভেতরে চড়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলে আসে। এরপর গন্তব্য বিমানবন্দরের ভেতরে বা আশপাশের মানুষকে কামড়ায়।
জার্মানির সরকারি রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা- রবার্ট কক ইনস্টিটিউট (আরকেআই) জানায়, গত ৪ থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে এই কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম চারজনের ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়।
ডাচ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্ট (আরআইভিএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে যে ম্যালেরিয়া পরজীবীর সবচেয়ে বিপজ্জনক ও মারাত্মক প্রজাতি 'প্লাজমোডিয়াম ফ্যালসিপেরাম'-এর কারণে এই প্রাদুর্ভাব ঘটেছে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট জনস্বাস্থ্য বিভাগ বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত তদারকি করছে। কর্মীরা একটি নাকি একাধিক মশার কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মশার সঠিক প্রজাতি এবং ভৌগোলিক উৎস শনাক্ত করতে বিমানবন্দর প্রাঙ্গণে ফাঁদ পেতে ধরা মশাগুলোকে বেলজিয়ামের অ্যান্টওয়ার্পে অবস্থিত ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিনে' জিনগত (জেনেটিক) পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
ফ্রাঙ্কফুর্ট স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান পিটার টিনম্যান জার্মানির বার্তাসংস্থা ডিপিএ-কে জানান, সংক্রমণের জন্য দায়ী মশাটি সম্ভবত এরই মধ্যে মারা গেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এতে স্থানীয় সাধারণ জনগণের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি নেই বললেই চলে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ম্যালেরিয়া কেবল সংক্রমিত মশার কামড়ের মাধ্যমেই ছড়ায় এবং এর সংক্রমণ সরাসরি মানুষ থেকে মানুষের দেহে ছড়াতে পারে না।
বিমানবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ফ্রাপোর্ট তাদের সব কর্মীকে ম্যালেরিয়ার মতো কোনো সম্ভাব্য উপসর্গ দেখা দিলেই অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
জার্মানির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের স্বাস্থ্য সতর্কবার্তায় উল্লেখ করেছে যে, ম্যালেরিয়ার প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা অত্যন্ত কার্যকর হলেও—অবহেলা করা হলে রোগ জটিল হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে রোগী কোমায় চলে যেতে পারে বা মৃত্যুও ঘটতে পারে।
আরকেআই উল্লেখ করেছে, আক্রান্ত এসব রোগীর সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশ ভ্রমণের কোনো রেকর্ড না থাকায় চিকিৎসকেরা প্রাথমিক পর্যায়ে ম্যালেরিয়া পরীক্ষা করাতে দেরি করেন, যা শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী ঝুঁকি হয়ে দাঁড়ায়।
পশ্চিম ইউরোপে স্থানীয়ভাবে কিংবা বিমানবন্দরে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। আরকেআই-এর তথ্য অনুযায়ী, ফ্রাঙ্কফুর্ট বিমানবন্দরে এর আগে সর্বশেষ ২০২৩ সালে এ ধরনের একটি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল।