স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তান তেইশ বছর পর আবারও দক্ষিণ এশীয় গেমস আয়োজন করতে যাচ্ছে। আগামী বছরের ৩ থেকে ১১ এপ্রিল দেশটিতে আঞ্চলিক ক্রীড়া উৎসবটি অনুষ্ঠিত হবে। সাউথ এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (পিওএ)-এর সভাপতি আরিফ সাঈদ।
তিনি দক্ষিণ এশীয় অলিম্পিক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সভায় গেমস আয়োজনের প্রস্তুতি পর্যালোচনার পাশাপাশি ইসলামাবাদ, লাহোর ও পেশোয়ারে আসরটি আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বাংলাদেশ, মালদ্বীপ, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধিরা সরাসরি সভায় অংশ নেন। অন্যদিকে ভারতের প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি সভায় যোদ দেয়।
সূত্রমতে, সকল প্রতিনিধিই প্রস্তাবিত তারিখগুলোতে সম্মতি জানিয়েছেন।
এদিকে সোমবার (২৪ আগস্ট) সাউথ এশিয়া অলিম্পিক কাউন্সিলের একটি প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদের প্রস্তাবিত ক্রীড়া ভেন্যুগুলো পরিদর্শন করেন। এই গেমসে ২৮টি খেলা ও ৩৪৬টি পদক ইভেন্ট থাকবে এবং তিনটি আয়োজক শহরে ৩,২০০-এরও বেশি ক্রীড়াবিদ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও বিপুল সংখ্যক কারিগরি কর্মকর্তাও যুক্ত থাকবেন।
পাকিস্তান প্রায় ৪,০০০ ক্রীড়াবিদ ও অন্যান্য বিদেশি দর্শনার্থীকে আতিথ্য দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রোববারের সভায় অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধিরা এই আঞ্চলিক ইভেন্ট আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের গৃহীত প্রস্তুতি ও পদক্ষেপগুলো পর্যালোচনা করেন। ফেডারেল সরকার ইতোমধ্যেই পিওএ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে গেমস আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করার ঘোষণা দিয়েছে।
২০২১ সালে পাকিস্তানের এই গেমস আয়োজনের কথা ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে তা স্থগিত করা হয়। বর্তমানে প্রস্তুতির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে। পরিদর্শন করা প্রতিনিধিদলটি রবিবার তক্ষশিলা জাদুঘর এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক স্থানও পরিদর্শন করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ফেডারেল সরকারের নির্দেশে ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (সিডিএ) আগামী বছর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য সাউথ এশিয়ান গেমস এবং সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ইভেন্টে আগত বিদেশি অতিথিদের আবাসন ও অন্যান্য সুবিধা প্রদানের প্রস্তুতি শুরু করেছে।
একজন ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ‘ডন’ পত্রিকাকে বলেছেন, ফেডারেল সরকার আগামী বছর ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য তিনটি আন্তর্জাতিক ইভেন্ট সাউথ এশিয়ান গেমস, এসসিও সম্মেলন এবং ওআইসি-এর বৈঠক সফলভাবে আয়োজনের জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
তিনি জানান, গেমসটি সফলভাবে আয়োজনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পিওএ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ফেডারেল সরকার যৌথভাবে প্রস্তুতি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, সবাই এ বিষয়ে একমত এবং গেমস আয়োজনে একটি দল হিসেবে কাজ করছে।
ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা জানান, ভারতের প্রতিনিধি ভার্চুয়ালিবৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এবং নির্ধারিত তারিখগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। তার মতে, এর থেকেই বোঝা যায় ভারত এতে অংশ নিতে আগ্রহী। তবে অন্য একটি সূত্র সতর্ক করে বলেছে, ভারতের অংশগ্রহণের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। সূত্রটি জানিয়েছে, ভারত খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতিকে মিশিয়ে ফেলছে এবং পাকিস্তান সফর এড়িয়ে চলছে। এমনকি সম্প্রতি তারা একটি ভলিবল ইভেন্টেও অংশ নেয়নি।