স্পোর্টস ডেস্ক : প্রথম টেস্টে অনায়াস জয় পেলেও আত্মতৃপ্তিতে ভুগতে চান না ফিল সিমন্স। ম্যাকাইয়ে পরের ম্যাচে নামার আগে দলকে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, ভয়ঙ্কর রুপে ফিরবে অস্ট্রেলিয়া দল।
ডারউইনে মাত্র সাড়ে তিন দিন ও ১১ সেশনে অস্ট্রেলিয়ার মতো দলকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। ধারাবাহিকতা ধরে রাখার মিশনে ম্যাকাইয়ে শনিবার দ্বিতীয় টেস্টে মাঠে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
ম্যাকাইয়ে জিতলে তো বটেই, ড্র করতে পারলেও আরেকটি ইতিহাস গড়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবার সিরিজ জয়ের কৃতিত্ব দেখাবে বাংলাদেশ। যা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে সফরকারী কোনো দলের জন্য বিরল সাফল্য।
প্রায় ১৪০ বছরের টেস্ট ইতিহাসে অস্ট্রেলিয়ার মাঠ থেকে দুই বা ততোধিক ম্যাচের সিরিজে সফরকারী কোনো দলের কোনো ম্যাচ না হেরে দেশে ফেরার ঘটনা আছে মাত্র ৬টি। এর মধ্যে চারটিতে ছিল বৃষ্টির প্রভাব।
ছোট্ট এই পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার, ঘরের মাঠে কতটা দুর্ভেদ্য অস্ট্রেলিয়া দল। এটি ভালোভাবেই জানা সিমন্সের। তাই তো বৃহস্পতিবার অনুশীলনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সতর্ক থাকার তাগিদই দিলেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
আমি দলকে শুধু একটাই কথা বলেছি এবং তা যেকোনো জায়গায় আমি আবার বলতে প্রস্তুত- অস্ট্রেলিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ফিরে আসবে। তাই আমাদের হয় পারফরম্যান্সের এই ধারা বজায় রাখতে হবে, নতুবা আরও একটু উন্নতি করতে হবে।
কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মাত্র ১ শতাংশও ভালো করতে পারি, তবে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সেই উন্নতিটুকু থাকে। কারণ আমরা জানি, তারা তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনবে এবং আমাদের ওপর আরও কঠিন আক্রমণ চালাবে। ডারউইন টেস্টের আগে খুব একটা ভালো অবস্থায় ছিল না বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সফরে ভরাডুবির পর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ৫৪ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে রূপকথার গল্পই লিখেছে বাংলাদেশ দল। আর ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও ভালো কিছুর বিশ্বাস ঠিকই ছিল সিমন্সের। কীভাবে ছিল সেই আস্থা, সেটিই বললেন ক্যারিবিয়ান এই কোচ।
“আমি দলের অনুশীলনগুলো দেখেছি। তিন দিনের ম্যাচের আগে আমরা কীভাবে অনুশীলন করেছি ও টেস্ট ম্যাচের আগের তিন দিন কীভাবে অনুশীলন করেছি- তা আমি দেখেছি। আমাদের পরিশ্রমের ধরণ বদলায়নি।
সেদিন মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও যখন আমরা ফিরে এলাম, তখন আমাদের পরিশ্রমের মান বা কাজের গতি কমেনি- একই ছিল। এটি আমাকে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছিল, যে ছেলেরা এটা চায়। তারা ভালো করতে চায়। সুতরাং, সাফল্য তো কোনো না কোনো সময় আসারই ছিল।ম্যাকাইয়ে পরের ম্যাচের জন্যও আত্মবিশ্বাস অনেক উঁচুতে বললেন সিমন্স।
একটি টেস্ট ম্যাচ জেতার পর এক ধরণের আত্মবিশ্বাস তো আসেই। আমরা ভালো খেলেছি, একটি দারুণ টেস্ট ম্যাচ জিতেছি, তাই আত্মবিশ্বাস উঁচুতে রয়েছে। এসময় বাংলাদেশের প্রধান কোচ জানান, ডারউইন টেস্টের জয়টিই তার ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্য।
নিশ্চিতভাবেই এটি আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা টেস্ট জয়। অন্যান্য ফরম্যাটে আমার বড় জয় আছে, তবে টেস্ট জয়টিই সেরা।