স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপ জেতাতে এসেছিলেন। পারেননি। তাই সরে যাচ্ছেন। এমনটাই জানিয়ে দিলেন রবার্তো মার্তিনেজ। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েকটি দেশের কোচ। সেই ধারা দেখা গেল পর্তুগালেও। পদত্যাগ করলেন দলের কোচ। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের হারের দায় নিজের ঘাড়ে নিলেন তিনি।
স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। খেলা শেষে মার্তিনেজ় বলেন, আমি বিশ্বকাপ জেতাতে পর্তুগালে এসেছিলাম। দলের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। পারিনি। তাই থাকার কোনও মানে হয় না। পর্তুগাল ফুটবল সংস্থা এ বার নতুন কোচ নিয়োগ করবে। আমার চুক্তি আজকেই শেষ। পর্তুগালের হয়ে এটাই আমার শেষ ম্যাচ ছিল।
হারের দায় নিজের ঘাড়ে নিয়েছেন মার্তিনেজ়। তাঁর দাবি, প্রস্তুতিতে কোনও খামতি ছিল না। কিন্তু মাঠে সেটা দেখা যায়নি। মার্তিনেজ বলেন, “আমরা পুরো তৈরি হয়েই নেমেছিলাম। স্পেনের মতো দলকে ৯০ মিনিট আটকে রেখেছিলাম। কিন্তু ভাগ্য খারাপ। মুহূর্তের ভুল সব শেষ। আমারই হয়তো কিছু ভুল ছিল। তাই জিততে পারলাম না। দলের সকলে খুব ভাল খেলেছে। ওদের জন্য গর্বিত।
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছে রোনাল্ডোরও। এই ম্যাচের আগে তিনি জানিয়েছিলেন, এটিই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। ফলে ফুটবলের বিশ্বযুদ্ধে আর দেখা যাবে না তাঁকে। তবে পর্তুগালের হয়ে এখনও খেলতে পারেন তিনি। অবসরের কথা ভাবেননি। রোনাল্ডোর প্রশংসা শোনা গিয়েছে মার্তিনেজ়ের মুখে। তিনি বলেন, “রোনাল্ডো দুর্দান্ত ফুটবলার। দুর্দান্ত অধিনায়ক। ও কিংবদন্তি। ওর মতো ফুটবলারের সঙ্গে সাজঘর ভাগ করতে পেরে আমি গর্বিত। এত বছর ধরে একটা দেশকে টেনেছে। ট্রফি জিতিয়েছে। ও বিশ্বের সর্বকালের সেরাদের এক জন।
গত বারের বিশ্বকাপ চলাকালীন পর্তুগালের তৎকালীন কোচ ফের্নান্দো স্যান্টসের সঙ্গে বিবাদ হয়েছিল রোনাল্ডোর। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেও তাঁকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখেছিলেন স্যান্টস। মরক্কোর কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। তার পরেই স্যান্টসকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয় মার্তিনেজকে। আরও এক বিশ্বকাপ শেষে পর্তুগালের আরও এক কোচের চাকরি গেল।
মার্তিনেজ় খারাপ দল পাননি। ধারেভারে পর্তুগাল কারও থেকে কম ছিল না। রোনাল্ডো ছাড়াও ব্রুনো ফের্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিটিনহা, নুনো মেন্দেস, জোয়াও ক্যানসেলো, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিলকো কনসিসাও, রাফায়েল লিয়াও, গন্সালো রামোসের মতো ফুটবলার ছিল দলে। কিন্তু মাঠে পর্তুগালের খেলায় সেই একতা দেখা যায়নি। তার দায় অবশ্য খানিকটা হলেও কোচের। আর সেই কারণেই হয়তো পদত্যাগ করলেন মার্তিনেজ।