টেস্ট সিরিজের হতাশা কাটিয়ে ওয়ানডেতে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে বাংলাদেশ। তবে সেই প্রত্যাশার শুরুটা সুখকর হয়নি বাংলাদেশের জন্য।
হারারেতে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে ৩৬.৪ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন নিউম্যান নিয়ামুরি। বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ১০ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করে ইতিহাস গড়েছেন নাহিদ রানা।
তবে তার এই অসাধারণ পারফরম্যান্সও ম্যাচ জেতাতে যথেষ্ট হয়নি। ব্যাটিং ব্যর্থতায় ২৫ রানের বিব্রতকর হারে সিরিজ শুরু করে বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন নুরুল হাসান সোহান।
ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ৬ বলে ৮ রান করা তানজিদ হাসান তামিম সাজঘরে ফেরেন। পরের ওভারে আবারও দ্বিতীয় আঘাত হানেন মুজারাবানি। ৭ বলে ৩ রান করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান। মাত্র ৪ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ১০ বলে ৬ রান করে আউট হন সৌম্য সরকার। পাওয়ার প্লেতে একেবারেই ব্যর্থ টাইগাররা। শুরুতেই টপ অর্ডারের তিন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ১০ ওভার শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৩২ রান।
দলীয় বিপর্যয়ের মধ্যেও কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও নুরুল হাসান সোহান। দুজন মিলে ৪৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন, যা কিছুটা আশা জাগালেও তা টেকসই হয়নি। ৫৮ বলে ১ চারসহ ২৫ রান করা তাওহীদের বিদায়ে ভাঙে সেই জুটি। এরপর দ্রুতই ধস নামে বাংলাদেশের ইনিংসে। ৭ বলে ৩ রান করে ফেরেন মিরাজ। ২১ ওভারে ৭৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান সোহান। তবে বিতর্কিত এক সিদ্ধান্তে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় তাকে। ডিআরএস না থাকায় রিভিউয়ের সুযোগ না পেয়ে হতাশা নিয়েই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। ৪৪ বলে ১ ছক্কা ও ৩ চারে ৩১ রানের ইনিংস খেলে থামেন সোহান। শেষদিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ কিছুটা চেষ্টা করলেও তা যথেষ্ট হয়নি। রিশাদ ১০ বলে ৩ রান করে কট বিহাইন্ড হন ব্র্যাড ইভান্সের বলে। একই বোলারের শিকার হয়ে ১০ বলে ৫ রান করেন তাসকিন আহমেদ। শেষ পর্যন্ত একের পর এক উইকেট হারিয়ে ২৫ রানের হতাশাজনক পরাজয়কে সঙ্গী করে বাংলাদেশ।
এর আগে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে দারুণ শুরু এনে দেন বাংলাদেশের বোলাররা। ইনিংসের শুরু থেকে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ওপেনিং জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তৃতীয় ওভারে ক্যাচ মিসের সুযোগ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ, গালিতে বেনেটের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন রিশাদ হোসেন।
তবে সেই ভুলের বড় মূল্য দিতে হয়নি। ৩৬ রানের মধ্যে ভেঙে যায় ওপেনিং জুটি। বেন কারান ১৮ রানে রান আউট হন মেহেদী হাসান মিরাজের দুর্দান্ত থ্রোতে। এরপর মোসাদ্দেকের ক্যাচে সাজঘরে ফেরেন বেনেট। ইনোসেন্ট কাইয়া ২৬ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও তাসকিন আহমেদের বলে গোল্ডেন ডাকের শিকার হন ক্রেইগ এরভিন। পরবর্তীতে ১ রান করে ফেরেন সিকান্দার রাজা, তাকে আউট করেন নাহিদ রানা।
ওয়েসলি মাধেভেরে ডাক মেরে ফেরেন, ক্লাইভ মাদান্দে করেন ২ রান। ৩ রানে আউট হন ব্র্যাডলি ইভান্সও। ৮ উইকেটে ৭০ রানে বিপর্যস্ত জিম্বাবুয়ে শেষদিকে ইনোসেন্ট নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভার ৬৩ রানের প্রতিরোধ গড়ে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায়। নিয়ামহুরি ৩৩ রান ও এনগারাভা ২৭ রান করলে জিম্বাবুয়ে অলআউট হয় ১৪১ রানে।
বোলিং নৈপুণ্যের পরও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ম্যাচ হাতছাড়া করে বাংলাদেশ। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের জয় তুলে নিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
একই ভেন্যুতে ৯ জুলাই দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল।