স্পোর্টস ডেস্ক : যখন নেইমার চোট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে, ঠিক তখনই তিনি অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। তিনি মূলত দলের সঙ্গে যুক্ত হতে এসেছেন, পাশাপাশি তার পায়ের অবস্থা বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করানোর জন্যও; বিশেষ করে কাফ মাসলের চলমান ব্যথা নিয়ে। সতর্কতার কারণে তিনি সান্তোসের শেষ তিনটি ম্যাচে খেলেননি। যে ম্যাচগুলো ছিল ব্রাজিলিয়ান সিরি আ’য় গ্রেমিও এবং কোপা সুদামেরিকানায় সান লরেঞ্জো ও ডিপোর্তিভো কুয়েঙ্কার বিপক্ষে।
বাহ্যিক আলোচনা ও সাম্প্রতিক অনিয়মিত খেলার মাঝেও তার ঘনিষ্ঠরা পরিস্থিতি খুব গুরুতর নয় বলে জানাচ্ছেন। ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে নেইমার নিজেও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
হাসিমুখে তিনি বলেন, ‘কী সমস্যা? এটা তো ঠিক আছে, কোনো সমস্যা নেই।’ তবে তার এই আশাবাদী বক্তব্যের সঙ্গে ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) মেডিকেল টিমের সতর্ক অবস্থান পুরোপুরি মেলে না। তারা ইতিমধ্যে কঠোর ও ব্যক্তিগতভাবে তৈরি একটি চিকিৎসা প্রোটোকল প্রস্তুত করছে।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সমস্যাটি হলো কাফে প্রায় দুই মিলিমিটার এডিমা, যা দ্রুত দৌড়ানো ও ড্রিবলিংয়ের মতো নেইমারের মূল শক্তির জায়গাগুলোর জন্য প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে। ফেডারেশন এখন সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে তার ব্যক্তিগত ফিজিওথেরাপিস্টদের সঙ্গে কাজ করছে, যাতে প্রতিটি ধাপে তার রিকভারি মনিটর করা যায়।
হেলিকপ্টারে করে এই ‘স্টাইলিশ’ আগমন ব্রাজিলে সমর্থক ও বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ মনে করেন, একজন তারকার পারফরম্যান্স সর্বোচ্চ রাখতে এমন সুবিধা প্রাপ্য; আবার অনেকে মনে করেন, এটি দলীয় শৃঙ্খলা ও সমন্বয়ের ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্যও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি শুরুতে নেইমারকে স্কোয়াডে রাখেননি, পরে আবার ফিরিয়ে আনেন। আনচেলত্তি বরাবরই দলীয় শৃঙ্খলা ও সম্মিলিত কাজের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। ফলে এই তারকার বিশেষ সুবিধা দলের ভেতরের ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, নেইমার কবে পুরোপুরি অনুশীলনে ফিরতে পারবেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, ব্রাজিলের লক্ষ্য একটি প্রস্তুতি ম্যাচে তাকে পরীক্ষা করা, যেখানে তার ফিটনেস চূড়ান্তভাবে যাচাই করা হবে।
যদি তার অবস্থা প্রত্যাশা অনুযায়ী না হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী টুর্নামেন্ট শুরুর ২৪ ঘণ্টা আগে পর্যন্ত দলে পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে ব্রাজিলের।
১৩ জুন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। মরক্কো, স্কটল্যান্ড ও হাইতির মতো দল থাকায় ব্রাজিলকে শুরু থেকেই বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে।
নেইমারের জন্য এটি সম্ভবত শেষ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি ক্যারিয়ারের চূড়ান্ত সাফল্য জেতার সুযোগ খুঁজছেন। কিন্তু ধারাবাহিক চোট সমস্যাই এখন তার সবচেয়ে বড় বাধা।
রিও ও সাও পাওলোতে আলোচনা থামছেই না। সবাই একমত ব্রাজিলের প্রয়োজন সেরা ফর্মের নেইমারকে, কিন্তু তারকাকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার সূক্ষ্ম ভারসাম্যই এখন কোচ আনচেলত্তির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা।
এই মুহূর্তে নেইমার আকাশ থেকে নেমে ক্যাম্পে পৌঁছেছেন ঠিকই, কিন্তু মাঠে তার প্রতিটি পদক্ষেপ এখন আরও সতর্কভাবে ফেলতে হবে, কারণ সামনে অপেক্ষা করছে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চ।