ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে কোন ২৬ জন, তা জেনে যাওয়ার পর এখন সবার চোখ মরক্কোর বিপক্ষে ১৩ জুন তাদের প্রথম ম্যাচের দিকে। আপাতত ভক্ত-সমর্থকদের কৌতূহল একাদশ নিয়ে। তারা জানার চেষ্টা করছে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শুরুর লাইনআপ কেমন হবে, বিশেষ করে স্কোয়াডে নেইমারের অন্তর্ভুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পর। গত তিনটি বিশ্বকাপের মতো এবারও কি তাকে ও অন্য দশজনকে নিয়ে দল তৈরি হবে?
স্কোয়াড ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে কার্লো আনচেলত্তি জানিয়ে দিয়েছেন, নেইমারকে একজন সেন্ট্রাল স্ট্রাইকার হিসেবে দেখেন তিনি। তার মন্তব্যের বেশি গভীরে তিনি যাননি। তবে কোচ ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি এমন একজন খেলোয়াড়ের কথা বলছেন যিনি সেন্টার ফরোয়ার্ডের পেছনে খেলেন। আনচেলত্তি দৃঢ়কণ্ঠে আরেকটি কথাও বলেছেন, খেলার মতো যোগ্য হলেই কেবল শুরুর একাদশে জায়গা পাবেন নেইমার।
আরেকটি বিশ্বকাপে নেইমার, বাবা বললেন, ‘আজ খুশির দিন’
কোচের কথা, ‘আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, সোজাসাপ্টা কথা: সে যদি খেলার মতো যোগ্য হয় তাহলেই খেলবে। ট্রেনিংয়ে তা নির্ধারণ হবে। আমি মনে করি শুধু একজজন খেলোয়াড়ের ওপর সব প্রত্যাশা চাপিয়ে দেওয়া ভালো কিছু নয়।’ কোন দল খেলাবেন, সেটাও ইতোমধ্যে ভেবে রেখেছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। অবশ্য ব্রাজিলের দায়িত্ব নিয়ে এখন পর্যন্ত যে দলকে তিনি খেলিয়েছেন, তাতে নেইমার ছিলেন না। এ কারণে ১০ নম্বর জার্সিধারীকে যে ইতালিয়ান কোচ তার ভাবনায় রাখবেন না, সেটা মনে করা অযৌক্তিক।
শারীরিকভাবে ফিট থাকলে গোলপোস্ট সামলাতে নিঃসন্দেহে আলিসনই প্রথম একাদশে থাকবেন। সেন্ট্রাল ডিফেন্সে মারকুইনহোস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস সেন্টার ব্যাক হিসেবে শুরুর একাদশে জুটি গড়বেন। এই দুজন আবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন।
ডানপ্রান্তে দানিলোর চেয়ে ওয়েসলি এগিয়ে আছেন। কিন্তু আনচেলত্তি ইতোমধ্যে দেখিয়েছেন, প্রতিপক্ষ বিবেচনায় তিনি কৌশল বদলে ওই পজিশনে একজন সেন্টার-ব্যাককে খেলাতে পারেন। সেক্ষেত্রে ইবানেজের একাদশে থাকার সম্ভাবনা আছে। বাঁ দিকে নিশ্চিতভাবে শুরুর লাইনআপে থাকবেন অ্যালেক্স সান্দ্রো।
মাঝমাঠ নিয়ে কোনো সংশয়-দ্বিধা নেই। কাসেমিরো ও ব্রুনো গুইমারায়েস নিশ্চিতভাবে প্রথম একাদশে থাকবেন। একটু সামনের দিকে রাফিনিয়া, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, ম্যাথেউস কুনহা ও লুইজ হেনরিকে আক্রমণভাগ সামলানোর দৌড়ে বেশ এগিয়ে।
এই কারণে প্রশ্ন উঠেছে, নেইমারের ব্যাপারে কী হবে? দল ঘোষণার পরপর এই প্রশ্ন উঠেছে এবং বিশ্বকাপের আগে সামনের দিনগুলোতেও তা অব্যাহত থাকবে। সত্যি হলো, তার নাম উঠতেই ওই পজিশনের খেলোয়াড়দের জন্য চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ১০ নম্বর জার্সিধারী এই খেলোয়াড়। এখন যে প্রশ্ন থেকে যায়: তাহলে বিকল্প কে?
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য অনুযায়ী আনচেলত্তি ম্যাথেউস কুনহার মতো নেইমারকে একই ভূমিকায় দেখছেন। তবুও ম্যানইউ খেলোয়াড়ের জন্য কোনো হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন না আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ডাক পাওয়া ফরোয়ার্ড। দলের সবচেয়ে ধারালো স্ট্রাইকার হিসেবে কুনহাকে রাখতে পারেন আনচেলত্তি, যদিও এই পজিশন তার খুব একটা পছন্দ নয়।
রাফিনিয়া ডান উইংয়ে খেলতে পারেন। সেক্ষেত্রে শুরুর একাদশে নেইমারকে রাখার জন্য লুইজ হেনরিকেকে বেঞ্চে রাখা হতে পারে। এক্ষেত্রে কুনহা মূল স্ট্রাইকার হিসেবে আরেকটু সামনে খেলবেন, আর নেইমার তার একটু পেছনে থেকে ফরোয়ার্ডের ভূমিকা পালন করবেন।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ শুরু করার আগে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে। ৩১ মে মারাকানায় তাদের প্রতিপক্ষ পানামা, ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে প্রতিপক্ষ মিশর। বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছু ট্রেনিং সেশন ও এই প্রীতি ম্যাচগুলোই পরিষ্কার করে দেবে, একাদশ সাজাতে কী সিদ্ধান্ত নেবেন ব্রাজিল ট্যাকটিশিয়ান।