ওয়াংখেড়েতে ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে রেকর্ড সংগ্রহ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ম্যাচের শেষটাও হলো রেকর্ডের মাধ্যমেই। ১০৭ রানের বিশাল ব্যবধানে জিম্বাবুয়েকে হারাল ক্যারিবীয়রা। এর মাধ্যমে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়টা তুলে নিল তারা। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ওমানকে ১০৫ রানে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা৷ এতদিন এটাই ছিল সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে জিম্বাবুয়ে। পাওয়ার প্লে শেষ হতে না হতেই সাজঘরে ফেরেন তিনজন ব্যাটার। সপ্তম ওভারে ফেরেন আরও এক ব্যাটার। তাতেই চাপে পড়ে রোডেশীয়রা। আউট হওয়ার আগে ব্রায়ান বেনেট ৫, মারুমানি ১৪, রায়ান বার্ল শূন্য ও ডিওন মেয়ার্স ২৮ রান করেন।
পঞ্চম উইকেটে টনি মুনয়োঙ্গাকে নিয়ে চাপ সামলে নেন সিকান্দার রাজা। কিন্তু তাদের তোলা রানরেট ম্যাচ জেতার জন্য যথেষ্ট ছিল না। আর এই দুই ব্যাটার আউট হওয়ার পর দাঁড়াতেই পারেননি কেউ। আউট হওয়ার আগে দলনেতা সিকান্দার রাজা ২৭ রান করেন। আর ১৪ রান আসে মুনয়োঙ্গার ব্যাট থেকে।
শেষ উইকেট জুটিতে নিজের ব্যাটিং ক্যারিশমা দেখান ব্র্যাড ইভান্স। মাত্র ২১ বলে ২টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৪৩ রান করেন তিনি। ৭ রানে অপরাজিত থাকেন এনগারাভা। আর রানের দেখা পাননি তিনজন ব্যাটার। জিম্বাবুয়ের ইনিংস থামে ১৪৭ রানে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবচেয়ে সফল বোলার গুদাকেশ মোতি। ২৮ রানের খরচায় সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন তিননি। তিনটি উইকেট পেয়েছেন আকেল হোসেন।
এর আগে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় উইন্ডিজ। ১২ বলে ৯ রান করে আউট হন ওপেনার ব্রেন্ডন কিং। খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি আরেক ওপেনার সাই হোপও। তিনি ফেরেন ১৪ রানে।
এরপর শুরু হয় শিমরন হেটমায়ার শো। তাকে সঙ্গ দেন রোভম্যান পাওয়েল। অবশ্য অল্প রানেই সাজঘরে ফিরতে পারতেন হেটমায়ার। ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ক্যাচ মিস হলে বেঁচে যান হেটমায়ার। এরপরই শুরু হয় চার-ছক্কার ফুলঝুরি। পাওয়েলকে সঙ্গে নিয়ে মাত্র ৫২ বলে গড়েন ১২২ রানের জুটি।
মাত্র ১৯ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন হেটমায়ার। সুযোগ ছিল সেঞ্চুরি করার। কিন্তু ৮৫ রানে থেমে যায় তার ইনিংস। মাত্র ৩৪ বলে খেলা এই অনবদ্য ইনিংসটি সাতটি করে চার ও ছয়ে সাজানো। এদিকে ফিফটির দেখা পেয়েছেন রোভম্যান পাওয়েলও। ৩৫ বলে চারটি করে চার-ছক্কায় ৫৯ রান করেন তিনি।
ইনিংসের শেষদিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন রাফারফোর্ড-শেফার্ডরা। মাত্র ১৩ বলে ৩১ রান করে অপরাজিত থাকেন শেরফাইন রাদারফোর্ড। ১০ বলে ২১ রান করেন রোমারিও শেফার্ড। এছাড়া জেসন হোল্ডার ৪ বলে ১৩ ও ম্যাথু ফোর্ডে ১ বলে ১ রান করেন। ২০ ওভারে ২৫৪ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এর মাধ্যমেই হয়েছে একাধিক রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটাই ক্যারিবিয়ানদের সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। শুধু তাই নয়, বিশ্বকাপের এবারের আসরেও এটাই সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। আর বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের রেকর্ডে এই ইনিংসের অবস্থান দুই নম্বরে। সবার উপরে অবস্থান কেনিয়ার বিপক্ষে করা শ্রীলঙ্কার করা ২৬০ রানের ইনিংসটি।