মনিরুল ইসলাম : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুনরুত্থানের চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রকামী মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১২ দলীয় জোট এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে ধারাবাহিক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি গ্যাস সংকটের কথাও উল্লেখ করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌচলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটির কথা তুলে ধরে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পদক্ষেপে শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে বিএনপি নেতা বলেন, সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ—ফ্যামিলি কার্ডসহ সহায়তা কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন।
পরিবেশগত ঝুঁকির প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে খাল খনন কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে; পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যের মধ্যে ইতোমধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খনন সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।
আইন-শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের সমালোচনা করতে পারে, তবে তা যেন দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রাখার পাশাপাশি সংযমী থাকার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, আইনটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই প্রণয়ন করা হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন মোস্তফা জামাল হায়দার। তিনি বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে, তবে বর্তমান বিরোধী দল সে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না বলে মত দেন।
আলোচনা সভায় ১২ দলীয় জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন এবং দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।