শিরোনাম
◈ সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত নবম পে-স্কেল নিয়ে, আসছে বড় পরিবর্তন ◈ যুদ্ধের নিন্দায় ঐকমত্য ব্রিকস নেতাদের, আসছে যৌথ ঘোষণা ◈ মেগা মাস্টারপ্ল্যানে বদলে যাচ্ছে কক্সবাজার, লক্ষ্য আন্তর্জাতিক পর্যটন-ব্যবসার হাব ◈ হাম উপসর্গে দেশজুড়ে আরো ৭ জনের মৃত্যু ◈ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী ◈ রেলপথে নতুন দিগন্ত: ট্রান্স-এশিয়ান নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে বাংলাদেশ ◈ নেপালে অবৈধভাবে বসবাস ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ◈ সি‌পিএলে মিরা‌জের দুর্দান্ত বো‌লিং‌য়ে জিত‌লো গায়ানা, পে‌লেন ম্যাচসেরার পুরস্কার ◈ ‘আমরা কখনোই তাদের ভুলব না’, ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে ট্রাম্প ◈ বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: ববি হাজ্জাজ

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৭ দুপুর
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৫:০৩ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

যুদ্ধের নিন্দায় ঐকমত্য ব্রিকস নেতাদের, আসছে যৌথ ঘোষণা

ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত হয়েছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের এবারের সম্মেলন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা গেছে, সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে আগে একটি যৌথ ঘোষণার খসড়ায় একমত প্রকাশ করেছেন ব্রিকস নেতারা। আজ শনিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। বৈশ্বিক পরিসরে জোটটির প্রভাব বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ যৌথ ঘোষণার পরিকল্পনা বলে জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় সংঘাতকে কেন্দ্র করে ব্রিকসের সদস্য ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে তৈরি হওয়া বিভাজন দূর করার চেষ্টা চলছে এবারের সম্মেলনে।

ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আবারও পরস্পরের ওপর পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু করার সময় এই সম্মেলন হচ্ছে। আগস্টের বেশির ভাগ সময় সংঘাতে কিছুটা বিরতি ছিল। ওই সময়ে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুতিরা লোহিত সাগর অঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।

চারটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা একটি যৌথ ঘোষণায় সম্মত হয়েছেন। এতে কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ করার সম্ভাবনা কম। তবে যেকোনো দেশের একতরফা যুদ্ধের নিন্দা জানানো হবে। আজ শনিবার পরে ব্রিকসের নেতারা এই নথি অনুমোদন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সম্মেলনের আয়োজক ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথ ঘোষণার বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা আগে বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে এমন ভাষা খুঁজে বের করাই ব্রিকসের বড় পরীক্ষা হবে, যা আবুধাবি ও তেহরান দুই পক্ষই মেনে নিতে পারে। এমনটি সম্ভব হলে যৌথ ঘোষণার পথ পরিষ্কার হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের যৌথ বিবৃতি বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না। তবে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মতো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিকর নীতির বিরুদ্ধে উদীয়মান দেশগুলোর জোট হিসেবে ব্রিকসের ঐক্য প্রদর্শন করবে।

গত মে মাসে নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক হয়েছিল। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যের কারণে ওই বৈঠক থেকে কোনো যৌথ বিবৃতি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রভাব বাড়াতে চায় ব্রিকস
আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন প্রণয়নে প্রভাব বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়ে নিজেদের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব বাড়াতে চায় ব্রিকস। জোটটির কয়েকটি সদস্য মনে করে, এসব প্রতিষ্ঠান পশ্চিমা শক্তির প্রভাবাধীন।

শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এবং আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানসহ অন্যরা।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান ও উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। নয়াদিল্লি তাই কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্য সহযোগিতা বাড়ানো, বাধা কমানো এবং ব্যবসার সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিভাজন দূর করা এবং যৌথ ঘোষণায় ঐকমত্যে পৌঁছানো ব্রিকসের কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিক বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়ে আগস্টে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করে।

ব্রিকসের সদস্য দেশগুলো হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

যুক্তরাষ্ট্র ও তার পশ্চিমা মিত্রদের প্রভাবাধীন বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ২০০৯ সালে ব্রিকস প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে জোটটির সদস্য দেশগুলোতে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষের বসবাস। বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় এক-চতুর্থাংশও এই দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণে।

 

  • সর্বশেষ