শিরোনাম
◈ রেলপথে নতুন দিগন্ত: ট্রান্স-এশিয়ান নেটওয়ার্কে যুক্ত হবে বাংলাদেশ ◈ নেপালে অবৈধভাবে বসবাস ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার ◈ সি‌পিএলে মিরা‌জের দুর্দান্ত বো‌লিং‌য়ে জিত‌লো গায়ানা, পে‌লেন ম্যাচসেরার পুরস্কার ◈ ‘আমরা কখনোই তাদের ভুলব না’, ৯/১১-এর ২৫ বছর পূর্তিতে ট্রাম্প ◈ বাংলা-ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে সামঞ্জস্য আনা হবে: ববি হাজ্জাজ ◈ যেকোনও মূল্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হবে: স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী  ◈ বনানীতে ২০ বর্গফুট কবরের জায়গা ৪ কোটি টাকা, ফ্ল্যাটের দামের কাছাকাছি শেষ ঠিকানার খরচ ◈ ইউক্রেন যুদ্ধে ৫ লাখের বেশি রা‌শিয়ার সেনা সদস‌্য নিহত : ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রধান ◈ বিশ্ব ক্রীড়া র‍্যাংকিংয়ে ৪৮ ধাপ পতন, দক্ষিণ এশিয়ায় সবাইকে পেছনে ফেলে পিছিয়ে বাংলাদেশ ◈ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে এক সেমিস্টার পড়াশোনার সুযোগ, আবেদন ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:০২ দুপুর
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:০৪ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

নেপালে অবৈধভাবে বসবাস ও সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ১০ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর পর্যটন এলাকা থামেল থেকে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও ভিসা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম। গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) থামেল এলাকার একাধিক হোটেল থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের আইনি পদক্ষেপ ও অনুসন্ধানের জন্য নেপালের অভিবাসন দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের বরাত দিয়ে নেপালি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে থামেল ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের হোটেলগুলোতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিবাসন বিভাগ ইতিমধ্যেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

অভিযানের স্থান ও গ্রেপ্তারকৃতদের বিষয়ে পুলিশের উপত্যকা অপরাধ তদন্ত কার্যালয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) শরদ কুমার থাপা ছেত্রী জানান, থামেল এলাকায় বেশ কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের বিশৃঙ্খলা ও সন্দেহজনক তৎপরতার খবর পেয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, থামেল এলাকার ‘হোটেল ঢাকা এক্সপ্রেস’, ‘হোটেল দি ভেদা’ এবং ‘হোটেল আল-রহমান’ নামের তিনটি বাণিজ্যিক আবাসিক হোটেল থেকে এই ১০ জনকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন: ফাহিমা আক্তার হাসান (৪৬), মাহমুদ (৪৮), মাহবুব হাসান (৪৫), রিপন মাহমুদ (৪৯), মো. কারামত আলী খান (৩০),

সাইদুর রহমান (৩০), মো. খলিলুর রহমান (৫০), আরিফুর রহমান (২৮), মো. মারুফ মৃধা (৪২), মোহাম্মদ হানিফ মিয়া (৬৪)।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, অভিযানের সময় এই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘খাতুনে জান্নাত’ নামের এক নারী পালিয়ে যান। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের বিষয়ে নেপাল অভিবাসন দপ্তরের পরিচালক তিকারাম ঢাকাল জানান, ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আটককৃতদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত একজন নিজ ভিসার মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত সময় ধরে (ওভারস্টে) অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন। অন্য আসামিরা কী উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন এবং কী কাজে জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, আটক ব্যক্তিরা থামেলের ‘মুসলিমা টোল’ এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময় স্থানীয়দের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়তেন। পাশাপাশি তাঁরা যে ভিসায় নেপালে প্রবেশ করেছিলেন, তার শর্ত লঙ্ঘন করে অর্থ উপার্জনমূলক এবং অন্যান্য অননুমোদিত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিলেন বলে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কাঠমান্ডুকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে বাংলাদেশিদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর নামে প্রতারণা করার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও নেপাল পুলিশ একাধিক চক্রকে গ্রেপ্তার করেছিল, যারা ইউরোপ বা উন্নত দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের কাঠমান্ডুতে এনে জিম্মি করত এবং মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিত।

পুলিশের তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া এই ১০ জনও একই ধরনের কোনো মানব পাচার, চাকরির ভুয়া প্রলোভন বা অবৈধ অর্থ লেনদেনকারী সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কি না।

নেপালের অভিবাসন দপ্তরের তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে জরিমানা, কারাদণ্ড বা নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) মতো আইনানুগ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

  • সর্বশেষ