শিরোনাম

প্রকাশিত : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৬:৫৮ বিকাল
আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৭:০৯ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

হেঁটে ঘোরার জন্য বিশ্বের সেরা ১০ শহর

শহর ভ্রমণে সব সময় অটোরিকশা, ট্যাক্সি, মেট্রো বা জটিল যাতায়াত পরিকল্পনার প্রয়োজন হয় না। অনেক শহরেই প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হেঁটেই ঘুরে দেখা যায়। সম্প্রতি স্কাইস্ক্যানারের এক সূচকে হেঁটে ঘোরার জন্য বিশ্বের সেরা ১০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় ইউরোপের সাতটি শহর রয়েছে।

ভ্রমণ বুকিং প্ল্যাটফর্ম স্কাইস্ক্যানার যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বিভিন্ন শহর নিয়ে এই তালিকা তৈরি করেছে। শহরগুলোর প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে দূরত্ব, হাঁটার পথের সংখ্যা, গড় উচ্চতা, বায়ুর মান ও নিরাপত্তাসহ মোট ১৪টি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া শহরের জনঘনত্ব, দর্শনীয় স্থানের সংখ্যা এবং সেগুলো ঘুরে দেখতে কত সময় ও কত পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়, সেসব বিষয়ও সূচকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হেঁটে ঘোরার জন্য বিশ্বের সেরা ১০ শহর হলো—

১. কর্দোভা, স্পেন

২. নাগাসাকি, জাপান

৩. হিরোশিমা, জাপান

৪. রেজিও কালাব্রিয়া, ইতালি

৫. মন্টে কার্লো, মোনাকো

৬. তার্তু, এস্তোনিয়া

৭. বুরসা, তুরস্ক

৮. বোলজানো, ইতালি

৯. সারায়েভো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা

১০. ভিক্টোরিয়া, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া, কানাডা

তালিকার শীর্ষে রয়েছে স্পেনের কর্দোভা। আন্দালুসিয়ার এই শহর একসময় গুরুত্বপূর্ণ রোমান নগরী ছিল। পরে এটি ইসলামী বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে। শহরটির সবচেয়ে পরিচিত স্থাপনা মসজিদ-গির্জা লা মেস্কিতা। এ ছাড়া কর্দোভার পুরোনো শহর, ভিয়ানা প্রাসাদ, লা হুদেইরিয়া ও আলকাজার দে লস রেয়েস ক্রিস্তিয়ানোস হেঁটে ঘুরে দেখা যায়।

স্কাইস্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, কর্দোভার প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হেঁটে ঘুরতে সময় লাগে মাত্র ২৬ মিনিট। শহর ও আশপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে ২৯টি পথ।

দ্বিতীয় স্থানে থাকা জাপানের নাগাসাকি পাহাড়, সমুদ্র ও ঐতিহাসিক স্থাপনার জন্য পরিচিত। তৃতীয় স্থানে রয়েছে একই দেশের হিরোশিমা। শহরটির শান্তি উদ্যান ও ঐতিহাসিক স্থানগুলো পর্যটকদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয়।

ইতালির রেজিও কালাব্রিয়া রয়েছে চতুর্থ স্থানে। দেশটির অন্যান্য ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের তুলনায় শহরটি কিছুটা কম পরিচিত হলেও হেঁটে ঘোরার জন্য এটি বেশ উপযোগী। মেসিনা প্রণালির ওপারে সিসিলি দ্বীপের দৃশ্য, সমুদ্রসৈকত এবং মাউন্ট এটনার দৃশ্য এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। শহরটির প্রধান দর্শনীয় স্থানগুলো হেঁটে ঘুরতে সময় লাগে প্রায় ২৫ মিনিট বা ২ হাজার ৩২১ পদক্ষেপ।

পঞ্চম স্থানে থাকা মোনাকোর মন্টে কার্লো বিলাসবহুল গাড়ি, অভিজাত দোকান ও সুপারইয়াটের জন্য পরিচিত। তবে শহরটি পায়ে হেঁটেও সহজে ঘোরা যায়। শহরের আয়তন এক বর্গকিলোমিটারেরও কম। যদিও কিছু রাস্তা বেশ খাড়া।

এস্তোনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর তার্তু রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় সংস্কৃতির রাজধানী হওয়া এই শহর তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত। এখানে রয়েছে পুরোনো শহর, কাঠের বাড়ি, পার্ক, নদীর তীরের হাঁটার পথ ও নানা ধরনের স্ট্রিট আর্ট। তালিকাভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে তার্তুর বায়ুর মান সবচেয়ে ভালো।

সপ্তম স্থানে রয়েছে তুরস্কের বুরসা। উসমানীয় সাম্রাজ্যের প্রথম রাজধানী হিসেবে শহরটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। এখানে রয়েছে ব্যস্ত বাজার, উসমান গাজির সমাধি, বুরসা গ্র্যান্ড মসজিদ ও কোজাহান সিল্ক মার্কেট। শহরটির প্রধান আকর্ষণগুলো হেঁটে ঘুরতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে।

ইতালির বোলজানো রয়েছে অষ্টম স্থানে। ডোলোমাইটস পর্বতমালার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত হলেও শহরটি নিজেও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়। পিয়াজা ওয়ালথার, ভিয়া দেই পোর্তিচি ও সাউথ টাইরল প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর হেঁটে ঘুরে দেখা যায়। শহর ও আশপাশে হাঁটার জন্য রয়েছে ৫০৫টি পথ। তালিকার মধ্যে বোলজানোকে সবচেয়ে নিরাপদ শহর হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।

নবম স্থানে থাকা বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার রাজধানী সারায়েভো ছোট ও সহজে হেঁটে ঘোরা যায়। মিলিয়াচকা নদী ও দিনারিক আল্পসের কাছাকাছি অবস্থিত শহরটির পুরোনো পাথুরে রাস্তা ও বৈচিত্র্যময় স্থাপত্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে। এখানে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা জাদুঘর, ওয়ার চাইল্ডহুড মিউজিয়াম, সিটি হল, বাসচারশিয়া বাজার ও লাতিন ব্রিজ।

তালিকার দশম স্থানে রয়েছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া। শহরটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, হাঁটার উপযোগী রাস্তা ও দর্শনীয় স্থানগুলো পর্যটকদের জন্য এটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

সূত্র: স্কাইস্ক্যানার

  • সর্বশেষ