শিরোনাম
◈ কার বেতন কোন এসআরওর অধীনে? জেনে নিন নবম পে স্কেলের ক্যাটাগরিগুলো ◈ দেশীয় অর্থায়নেই সম্পন্ন হবে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প: পানি সম্পদ মন্ত্রী ◈ ৫০ সংসদীয় কমিটি গঠন : ক্ষুব্ধ বিরোধী দল, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ◈ পে স্কেলের গেজেট অনুমোদনের পরও আটকে আছে ◈ আম্বানির চিড়িয়াখানা ভানতারায় গাজীপুর থেকে চুরি হওয়া দুই লেমুর আছে কি না নিশ্চিত নয় সিআইডি! ◈ শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশি আলু-পেঁয়াজ, রপ্তানি সম্ভাবনা যাচাইয়ে যাবে প্রতিনিধি দল ◈ কাপ্তাই লেকের পানি উচ্চতা বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট ◈ দেশের বাজারে কমল স্বর্ণের দাম, ২২ ক্যারেট ভরি ২ লাখ ৩১ হাজার ৮৮০ টাকা ◈ এআই বিনিয়োগে বাড়ছে ইলেকট্রনিক পণ্যের চাহিদা, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতেও চাঙা বৈশ্বিক বাণিজ্য ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের নতুন নিয়ম, চাকরি হারালে ৬০ দিনের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব!

প্রকাশিত : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৭ দুপুর
আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:১৭ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

পিতা মাতা ভালো থাকুক এটা কে না চায়: চীফ হুইপ

মনিরুল ইসলাম: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এমপি বলেছেন, সম্পত্তি হস্তান্তর বিল নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা শরিয়া আইনের দোহাই দিয়ে এর বিরোধিতা করেছেন। অথচ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে শরিয়া আইন চালুর কোনো ঘোষণা ছিল না। পিতা মাতা ভালো থাকুক এটা কে না চায়?

তিনি আরও বলেন, বৃদ্ধ মা-বাবার অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনের বিরোধিতা করা দুঃখজনক। আজ শুক্রবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন-পরবর্তী জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে চীফ হুইপ এসব কথা বলেন।

চীফ হুইপ বলেন, তৃতীয় অধিবেশনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর বিল অন্যতম। এ আইনের মাধ্যমে বৃদ্ধ মা-বাবা সন্তানকে সম্পদ দান বা হস্তান্তর করলেও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই সম্পদের ভোগদখলের অধিকার তাঁদের থাকবে। সন্তান সম্পদ গ্রহণের পর যাতে মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাতে বা অসহায় অবস্থায় ফেলে দিতে না পারে, সে লক্ষ্যেই আইনটি করা হয়েছে।

মা-বাবার প্রতি সম্মানের বিষয়ে হাদিসের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে চীফ হুইপ বলেন, ইসলামে মা-বাবার প্রতি সম্মান ও দায়িত্ব পালনের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সুরক্ষায় প্রণীত আইনের বিরোধিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইন প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন সাহেব নিজেও গুমের শিকার হয়েছিলেন। প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশের মাধ্যমে আসা ১৩৩টি আইনের মধ্যে ১৬টি আইন সংসদীয় পর্যালোচনার জন্য রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে পর্যালোচনা ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে এসব আইনকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।

তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার-সংক্রান্ত আইন প্রণয়নের আগে ১৬ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনা করে তাঁদের পরামর্শ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবী, বিচারক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হয়েছে, যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কোনো সুযোগ না থাকে।

চীফ হুইপ জানান, নতুন মানবাধিকার বিলে আগের ‘অনূর্ধ্ব ১০ বছর’ শাস্তির বিধান বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট সর্বনিম্ন শাস্তির সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে ২০৫ কোটি ডলার ঋণ ও সুদ পরিশোধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি গ্রহণ করেছেন। এমপি-মন্ত্রীদের রসিদ ছাড়া বিল পরিশোধ না করা, সরকারি প্রটোকল কমানো এবং সাধারণ জীবনযাপনের মতো বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি খাবারের ব্যয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগে বছরে যেখানে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খাবারের বিল হতো, সেখানে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, একটি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লাগে। বিগত সরকার আদানি গ্রুপের সঙ্গে অসম চুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১৭ শতাংশ বৈদেশিক নির্ভরতা তৈরি করেছিল। বিদ্যুৎ না পেলেও বিপুল অঙ্কের ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল এবং বিদ্যুতের দাম নির্ধারণের আগের ব্যবস্থার বিভিন্ন দিকেরও সমালোচনা করেন চীফ হুইপ।

কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষকদের সুদসহ ঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে বিপুলসংখ্যক কৃষক উপকৃত হয়েছেন। দুই কোটি পরিবারের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে সারের চাহিদা প্রায় ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে বর্তমানে ১৬ থেকে ১৭ লাখ মেট্রিক টন অতিরিক্ত সার মজুদ রয়েছে। তবে বিতরণে সাময়িক সমস্যার জন্য বিগত সরকারের প্রায় ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার সার ডিলার পলাতক থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁদের কেউ কেউ কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলেও দাবি করেন চীফ হুইপ। কৃষি উৎপাদন বাড়াতে খাল খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে চীফ হুইপ বলেন, সে সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তিনি ফার্মগেট থেকে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত রাস্তার পাশে শত শত লাশ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় এবং খাদ্য রপ্তানি শুরু করে।

বর্তমানে কৃষক কার্ডের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড, হেলথ কার্ড এবং ইমামদের ভাতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান চীফ হুইপ।

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে চীফ হুইপ বলেন, বিগত সরকারের করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক এবং চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মতো বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি গ্রহণ করেছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।
অর্থ পাচার রোধ এবং দেশের আর্থিক সুরক্ষার জন্য অর্থমন্ত্রী ১৮(ক) ধারা বাতিল করেছেন বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন জনসভার বক্তব্য তুলে ধরে চীফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি পুরো দেশের প্রধানমন্ত্রী। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যার কারণে জনগণের কষ্টের জন্য প্রধানমন্ত্রী আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের সদিচ্ছার কোনো ঘাটতি থাকলে তা ধরিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সংসদে বাক্‌স্বাধীনতা চর্চার পাশাপাশি শালীনতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে চীফ হুইপ বলেন, সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য ও বিতর্ক থাকবেই। তবে জাতীয় স্বার্থে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতা বজায় রেখে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি সরকার ও বিরোধী দলকে গণতন্ত্র পুনর্নির্মাণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ. বি. এম. আশরাফ উদ্দিন নিজান উপস্থিত ছিলেন।

  • সর্বশেষ