শিরোনাম
◈ ফিফার কা‌ছে তেহরা‌নের আহ্বান, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বকাপ থেকে সরিয়ে দেয়া হোক  ◈ যুদ্ধক্ষেত্রে না গিয়েও ইরানকে যেভাবে সাহায্য করছে চীন ও রাশিয়া! ◈ চসিক নির্বাচন: মেয়র পদে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করাতে চায় জামায়াত! ◈ রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার নাম, সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের ◈ সংসদের সামনের দিনগুলো কেমন হবে ◈ অপারেশন থিয়েটারে মির্জা আব্বাস, মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার ◈ ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, চাপ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ◈ গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মালদ্বীপে ৫ বাংলাদেশি নিহত ◈ ক্রিকেটের মতো সংসদেও নিরপেক্ষ আম্পায়ারিং করব: স্পিকার ◈ আবারও দুবাই শহরের কেন্দ্রীয় অংশে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ

প্রকাশিত : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:১৬ বিকাল
আপডেট : ১৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চসিক নির্বাচন: মেয়র পদে সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করাতে চায় জামায়াত!

দৈনিক পূর্বকোণ প্রতিবেদন:  আগামী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করাতে চায় জামায়াতে ইসলামী। দলের চট্টগ্রাম মহানগরী শাখা ইতিমধ্যে এই ছাত্রনেতার নাম প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।

ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাদিক কায়েমের পরিবার খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার নয়নপুর গ্রামে বাস করলেও তার পৈতৃক বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায়। প্রায় ৪০ বছর আগে কাপড়ের ব্যবসার সূত্রে তার বাবা খাগড়াছড়িতে স্থায়ী হন। তবে সাতকানিয়াতেও সাদিক কায়েম ও তার পরিবারের নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে।

ডাকসু নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী সাদেক কায়েম জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির নেতাদের একজন হিসেবেও পরিচিত। চট্টগ্রামে বাড়ি এবং তরুণদের মধ্যে তার ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত। তবে ঢাকা কেন্দ্রীক রাজনীতিতে সক্রীয় সাদিক কায়েমকে চসিক নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত প্রার্থী করা হবে কিনা, তা নির্ভর করছে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের ওপর।

কেন সাদিক কায়েমকে ভাবছে জামায়াত: এক মাস আগে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে ঢাকায় জামায়াতের ‘অবিশ্বাস্য’ উত্থান হলেও দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর চট্টগ্রামে দলটির ফলাফল ছিল হতাশাজনক। শহরের সঙ্গে যুক্ত চারটি আসনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনের মধ্যে মাত্র দুটিতে জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এর মধ্যে একটি আসনে বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী না থাকলে ফল ভিন্ন হতে পারতো-এমন আলোচনাও রয়েছে।

নির্বাচনে এই ব্যর্থতার পেছনে জননন্দিত ব্যক্তিত্বের বদলে কেবল দলীয় নেতাদের প্রার্থী করা এবং অন্যান্য এলাকার মতো তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় মুখকে সামনে না আনা বড় ‘ভুল’ হিসেবে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই সমালোচনা করেছেন।

এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেই ‘ভুল’ আর করতে চায় না দলটি। সেজন্য জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের আলোচনায় অন্যান্য সম্ভাব্য নেতাদের পাশাপাশি সাদিক কায়েমের নামও উঠে আসে। কয়েকদিন আগে তার নামটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

আরও যাদের নাম: জামায়াতে ইসলামী সাধারণত অভ্যন্তরীণ মতামতের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে। স্থানীয় জনমত, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মতামত, প্রার্থীর যোগ্যতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, জনপ্রিয়তা এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা যাচাই করে কেন্দ্র থেকে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়। এর আগে স্থানীয় পর্যায়ের ভোটে উঠে আসা সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা তৈরি করে তা কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো হয়।

জামায়াত সূত্র জানায়, চলতি মাসের শুরুতে চট্টগ্রামের জামায়াতের রুকন, ছাত্রশিবিরের সদস্য, জামায়াতের মহিলা বিভাগের রুকন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতিসহ বিভিন্ন শাখার নেতাদের কাছ থেকে গোপনে ভোট নেওয়া হয়। সেই ভোটে মেয়র পদে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগরী শাখার আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী ও চট্টগ্রাম-১১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়া মোহাম্মদ শফিউল আলমের নাম উঠে আসে। পরে মহানগর জামায়াতের পক্ষ থেকে এই চারজনের নামের পাশাপাশি সাদিক কায়েমের নামও কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

জানতে চাইলে জামায়াতের চট্টগ্রাম মহানগরী আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘গোপন ভোটে উঠে আসা কয়েকটি নামের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন নেতার নাম প্রস্তাব আকারে কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার পর নাম প্রকাশ করা হবে।’

মহানগরী জামায়াতের আরেকজন নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, তরুণ প্রজন্মের জনপ্রিয় সেই নেতাই হলেন সাদিক কায়েম। মেয়র প্রার্থীর নাম এখনো চূড়ান্ত না হলেও ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের ১৪ জন নারী প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে জামায়াত

জাতীয় নির্বাচনের পরই আলোচনায় আসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রসঙ্গ। তবে চসিক নির্বাচন কবে হবে, সে বিষয়ে এখনো কেনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে কিনা, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়