শিরোনাম
◈ প্রথম অধিবেশন বসতে পারে ২৬ ফেব্রুয়ারি, কে বসবেন সভাপতির আসনে? ◈ প্রাথমিকভাবে আট উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড, কমিটি গঠন ◈ ডিসি সারোয়ারকে শোকজ ◈ ৪৪তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে ৪১৩৬ জনকে নিয়োগ, তালিকা প্রকাশ ◈ অস্ট্রেলিয়া-শ্রীলঙ্কা গ্রুপে অপরা‌জিত থে‌কে জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে ◈ রোজার প্রথম দিনেই মুরগির দাম চড়া, কেজিতে বাড়লো ২০ থেকে ১০০ টাকা ◈ ৫০ নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়োগ নিয়ে দুই জোটে চলছে হিসাব-নিকাশ ◈ জনগণের ট্যাক্সে চলি, তাই জবাবদিহি নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ◈ বগুড়া থেকে হিরো আলম গ্রেপ্তার ◈ তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ট্রাম্পের চিঠি: প্রতিরক্ষা চুক্তি ও বাণিজ্যে জোর

প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৬:৫৯ বিকাল
আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৭ রাত

প্রতিবেদক : মহসিন কবির

৫০ নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়োগ নিয়ে দুই জোটে চলছে হিসাব-নিকাশ

মহসিন কবির: বিএনপির জোটের সরকার গঠনের পর এখন রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও সংসদে ৫০ নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়োগ নিয়ে চলে নানা হিসাব-নিকাশ। বিএনপিসহ জামায়াত জোটে চলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। আন্দোলন সংগ্রামে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন তরাই নিয়োগের অগ্রাধিকার পাবেন বলে জানা গেছে।  

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসনের মধ্যে এককভাবে ২০৯ ও জোটগতভাবে ২১২টি আসনে জয়ী হওয়ায় বিএনপি পাবে ৩৫ আসন। ফলে দলটির ভেতরে শুরু হয়েছে হিসাব-নিকাশ। আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় নেত্রীদের মূল্যায়নের দাবি যেমন জোরালো, ঠিক তেমনি প্রভাবশালী মহলের সুপারিশও আলোচনায় রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর। কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন, তা নিয়েই এখন কৌতূহল ও জল্পনা তুঙ্গে।

গত মঙ্গলবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। এরই ধারাবাহিকতায় আলোচনায় এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদে যেতে তোড়জোড় চলছে। অনেক নারীনেত্রী এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাননি। সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে চেষ্টা-তদবির করছেন।

কারা এই আসনগুলোতে মনোনয়ন পাবেন তা নির্ভর করছে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তের ওপর। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নারী রাজপথে ছিলেন, তাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে এই ৩৫ আসনে। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও জায়গা পেতে পারেন।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ২৯৬ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গেজেট অনুযায়ী, ৩৫ সংরক্ষিত নারী আসন বিএনপির জোট এবং ১২টি জামায়াত জোট পেতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন। জামায়াতে ইসলামী

পেয়েছে ৬৮টি, এনসিপি ৬টি। জোটগতভাবে জামায়াত পেয়েছে ৭৪টি আসন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৭ আসন।

সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকা প্রয়োজন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো জোটে যুক্ত হয়ে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারে। তবে স্বতন্ত্ররা কোনো জোটে যোগ দিলে আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে কমপক্ষে ছয়টি নির্বাচিত আসন প্রয়োজন। তবে চাইলে দলগুলো জোটবদ্ধভাবে নারী আসনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবে, এতে কোনো আইনি জটিলতা নেই।

এ ছাড়া ইসি জানায়, সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে এসব আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে ইসি এসব আসনের ভোট আয়োজন করবে। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যরা। প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রার্থী একের বেশি হলে ভোট নেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হন।

আইন অনুযায়ী, শপথ নেওয়া সংসদ সদস্যদের তথ্য তিন কার্যদিবসের মধ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে ইসিতে পাঠানো হয়। সাধারণ নির্বাচনের ফল গেজেট প্রকাশের ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দল বা জোট তাদের প্রার্থী তালিকা ইসিতে জমা দেয়। এরপর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ইসি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের জন্য শপথগ্রহণ করা সদস্যদের দলভিত্তিক তালিকা প্রস্তুত করে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ-কেউ এখনও রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ জায়গা করে নিতে পারেন।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান আলোচনার অগ্রভাগে আছেন। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি এবং পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী ছিলেন।

এ ছাড়া আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, ঢাকা-১৪ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়ে হেরে যাওয়া সানজিদা ইসলাম তুলি, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া, মহিলা দলনেত্রী শাহানা আকতার সানু, নিয়াজ হালিমা আর্লি, রাবেয়া আলম, রুমা আক্তার, লাইলী বেগম, ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান, সাবেক এমপি ইয়াসমিন আরা হক, চেমন আরা বেগম, জাহান পান্না, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ড. আরিফা জেসমিন নাহিন। এ ছাড়া কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন, রিজিয়া পারভিন ও কনক চাঁপার নামও শোনা যাচ্ছে।

আলোচনায় রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেনের (লেচু মিয়া) মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন। এ ছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে আলোচনায় আছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, নাদিয়া পাঠান পাপন, শাহিনুর সাগর, চট্টগ্রামের বিএনপি নেতা সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে আইনজীবী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা।

জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ গণমাধ্যমকে  বলেছেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। দলটির রাজনীতি রক্তের সঙ্গে মিশে আছে। প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে অবদান রেখেছি, প্রতিটি অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সফল করেছি। ব্যক্তিগত চাওয়া পাওয়া নেই; তবে রাজনীতিতে মূল্যায়ন চাই। দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। দল এখন সরকার গঠন করেছে, আমরাও চাই সরকারের কাজে অংশগ্রহণ করতে; সরকারকে সহযোগিতা করতে।

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা আগণমাধ্যমকে বলেছেন, দীর্ঘ ২০ বছর ধরে যারা রাজপথে প্রতিটি আন্দোলন কর্মসূচিতে ছিল, বিশেষ করে ১/১১ পর থেকে রাজপথে কর্মসূচি ঘিরে হামলা, মামলা, কারাবরণ করেছেন, তাদের মূল্যায়ন প্রত্যাশা করছি।

ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, দলের জন্য কাজ করেছি; কোথাও পালিয়ে যাইনি। যেহেতু দলের আদর্শের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই, তাই প্রত্যাশা করছি— আমাকে মূল্যায়ন করা হবে। যদি ন্যায়সঙ্গত ও যথাযথ বিবেচনা করা হয়, তাহলে মূল্যায়ন পাব। এমনকি তালিকায় মেরিট লিস্টে নাম থাকবে। তবে যদি লবিং প্রাধান্য পায় সে ক্ষেত্রে না পেলেও হতাশা থাকবে না।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে সরাসরি ভোটে জয়ী হয়েছেন সাত নারী প্রার্থী। ২ হাজার ২৮ প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৮১ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের সাফল্যের হার বেশ ইতিবাচক। যে সাতজন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা সবাই বিএনপি নেত্রী হলেও একজন দল থেকে বহিষ্কার হয়ে স্বতন্ত্রভাবে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেছেন। তিনি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগর আংশিক) আসনে রুমিন ফারহানা।

এ ছাড়া বিএনপি থেকে অন্য যে ছয়জন নির্বাচিত হয়েছেন, তারা হলেন মানিকগঞ্জ-৩ (সাটুরিয়া, মানিকগঞ্জ পৌর ও জেলা সদরের ৮ ইউনিয়ন) আসনে আফরোজা খানম, ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো, সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর (লুনা), ?নাটোর-১ আসনে সাবেক মন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ফারজানা শারমিন পুতুল, ?ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির সাবেক মহাসচিব কেএম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম ও ?ফরিদপুর-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর এবার শুরু হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব-নিকাশ। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী ২৯৭টি সাধারণ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পেয়েছে ২১২টি, জামায়াত জোট ৭৪টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসন। এই ফলের ভিত্তিতেই সংবিধান ও সংসদীয় বিধান অনুযায়ী ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন দলগুলোর মধ্যে আনুপাতিক হারে বণ্টিত হবে। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সমীকরণে বিএনপি জোট পেতে পারে ৩৫টি এবং জামায়াত জোট ১২টি সংরক্ষিত নারী আসন। ফলে জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য নারী প্রার্থীদের নাম নিয়ে দলীয় অন্দরে আলোচনা চলছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে ভোট দেবেন ত্রয়োদশ সংসদের নির্বাচিত সদস্যরা। প্রতিটি রাজনৈতিক দল বা জোট তাদের প্রাপ্ত আসন অনুযায়ী একক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। একক প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না। তবে প্রার্থী একের বেশি হলে ভোট নেওয়া হয় এবং সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীরাই নির্বাচিত হন।

এদিকে সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে ছয়জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য থাকা প্রয়োজন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও কোনো জোটে যুক্ত হয়ে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। তবে স্বতন্ত্ররা কোনো জোটে যোগ না দিলে আসনের হিসাব পরিবর্তিত হতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের

(বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান (শফিকুর রহমানের স্ত্রী), ঢাকা মহানগর

দক্ষিণের মহিলা বিভাগ জামায়াতের সিনিয়র সদস্য ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য সাবেক এমপি শাহান আরা বেগম, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ব্যারিস্টার সাবিকুন্নাহার মুন্নী। তিনি ছিলেন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি। এ ছাড়া দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দের স্ত্রীর নামও রয়েছে জামায়াতের সংরক্ষিত আসনের তালিকায়।

এ ছাড়া আলোচনায় আছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, মহিলা বিভাগের নেত্রী মার্জিয়া বেগম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খন্দকার আয়েশা খাতুন এবং কেন্দ্রীয় পরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট, জামায়াতে ইসলামীর রুকন ও নারী নেত্রী কাজী মারিয়া ইসলাম বেবি, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য রাবেয়া খানমের নামও শোন যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় মজলিসের শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ডা. শিরিন আক্তার রুনা, মহানগরীর মহিলা বিভাগের কর্মপরিষদ সদস্য তানহা আজমি। মহানগরী কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৪ আসন সদস্য সচিব নার্গিস খান, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য কানিজ ফাতেমা, সেলিনা আক্তার, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আয়েশা সিদ্দিকা পারভীনেরও নাম আলোচনায় রয়েছে সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যের কোটায়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয় ফোরামে নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মহিলা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নারী-পুরুষ মিলিয়ে জামায়াতে ইসলামীর ১০ লাখেরও বেশি কর্মী রয়েছে। যার মধ্যে ৬০ শতাংশ পুরুষ ও ৪০ শতাংশ নারী। মহিলা বিভাগের লোকবল রয়েছে তিনটি পর্যায়ে। সহযোগী সদস্য, কর্মী ও রুকন। রুকন হলো সর্বোচ্চ। অর্ধ লাখ রুকন সদস্য রয়েছেন। কর্মী রয়েছেন প্রায় চার লাখ। এ ছাড়া সারাদেশে অসংখ্য সহযোগী সদস্য রয়েছে মহিলা বিভাগের।

জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা গণমাধ্যমকে বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়