শিরোনাম
◈ দেবিদ্বারে হাসনাত আবদুল্লাহর ব্যানার পুড়িয়ে দিলো দুর্বৃত্তরা ◈ ঢাকায় বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা: আবহাওয়া শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস ◈ সাত সকালে কেঁপে উঠল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ◈ গণভোটের সভায় তোলপাড়: ১৬১ জন ‘ফ্যাসিস্ট শিক্ষকের’ নাম ঘোষণা করলেন রাকসু জিএস আম্মার ◈ বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকলেও ফ্লাইটে উঠতে বাধা: ই-ভিসা জটিলতায় বিপাকে যুক্তরাজ্যগামী বাংলা‌দেশি যাত্রীরা ◈ নির্বাচিত সরকারের সামনে পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জ দেখছে ক্রাইসিস গ্রুপ ◈ ভারতীয় পণ্যের শুল্ক কমাল যুক্তরাষ্ট্র, ট্রাম্পকে মোদির ধন্যবাদ ◈ স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান (ভিডিও) ◈ সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকসহ ৮ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ◈ কা‌রো হুকু‌ম পালন না ক‌রে আইসিসিকে নিরপেক্ষ হওয়ার আহ্বান শহীদ আফ্রিদির

প্রকাশিত : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০১:০২ রাত
আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৯:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

স্বাধীনতার ঘোষণা প্রসঙ্গে যা বললেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান (ভিডিও)

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরী শুধু বন্দরনগরী নয়, বাণিজ্যিক রাজধানী নয়, এটি সুর্দীঘ সংগ্রামের ইতিহাস আর প্রতিরোধের রাজধানী। বাংলাদেশে একাত্তর সালে স্বাধীনতার ঘোষণা এখান থেকে হয়েছিল।

‘‘আপনাদেরই এক গর্বিত সন্তান সবার আগে চিৎকার দিয়ে বলেছিলেন উই রিভল্ট। তিনি হচ্ছেন এলডিপির সম্মানিত সভাপতি ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম। জিয়াউর রহমান সাহেবকে হাতে ধরে সামনে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। চট্টলাবাসী আপনাদেরকে স্যালুট। এ গর্বিত ইতিহাসের আপনারাই সূচনা করেছিলেন।‘‘

তিনি বলেন, ‘‘কেন তিনি (অলি) আজকে আক্ষেপ করে বলেন আমি লড়াই করেছি রণাঙ্গণে, আমি জাতীয়তাবাদী দল গঠনে দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলাম জিয়াউর রহমান সাহেবের পরে। তিনি এখন বলেন আমি এখন বিএনপিতে নাই, থাকতে পারি নাই। কারণ এটি জিয়াউর রহমান সাহেবের বিএনপি নয়, তিনি বলেন এটি বেগম জিয়ারও বিএনপি নয়। তিনি আরেকটি কথা বলেন, সেটা আমি বলতে চাই না। তার মুখ থেকে আপনারা শুনে নেবেন।‘‘

অভ্যুত্থানের পরের ঘটনা বর্ণনা করে তিনি বলেন, “এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গার দখলদারি শুরু হয়ে গেল। এরা বাংলদেশকে কী দেবে।” অতীতের কাসুন্দি টেনে দেশকে বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না মন্তব্য করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্মে বর্ণে আর কোনো ভেদাভেদও তার দল চায় না।

সোমবার রাতে চট্টগ্রামে বন্দর স্কুল মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, “অতীতের কাসুন্দি টেনে জাতিকে বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। ধর্মে বর্ণে আর কোনো ভেদাভেদ আমরা চাই না। সকল ধর্মের মানুষ মিলে আমরা এ দেশকে ফুলের বাগান হিসেবে সাজাতে চাই। সকলের জন্য আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাই। বিশেষ করে মা-বোনদের জন্য, চলাচল এবং কর্মস্থলে সকল শক্তি দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো। মায়ের মর্যাদায় মাথার উপরে তুলে রাখবো ইনশাল্লাহ।‘‘

জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী আয়োজিত সমাবেশ দলের আমির বলেন, “আমি জামায়াতে ইসলামীর একজন ছোট দায়িত্বশীল, কিন্তু আমি জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না। আমি এদেশের ১৮কোটি মানুষের বিজয় চাই। ১৮ কোটি মানুষের যেদিন মুক্তি আসবে সেদিন আমাদের সকল কার্যক্রম সফলতা পাবে ইনশাল্লাহ।”

চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনারা এই মুক্তি মিছিলে থাকবেন? আপনারাতো এ সমুদ্র পাড়ের মানুষ, আপনারা কি সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসকে ভয় পান? ঢেউকে ভয় পান? এ ভয়কে যারা জয় করেছে ১২ তারিখেও তারা জয় করবে ইনশাল্লাহ।”

শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা জাতিকে গর্বিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। যুবসমাজ যারা লড়াই করেছিল তাদের দাবি একটাই ছিল-‘আমরা ন্যয় বিচার চাই’, আমরা সমাজের সর্বক্ষেত্রে নায্যটা চাই। সমস্ত নাগরিকদের ন্যায্যতা চাই। এই নায্য দিতে যারা অস্বীকার করেছিল তাদের খালি হাতে মোকাবেলা করে দেশ থেকে বিদায় করে দিয়েছি। সে মায়ের সন্তানদেরকে ভয় দেখাইও না।

‘‘আমাদের মায়েদের গায়ে হাত দিচ্ছ, আগুন জ্বলে উঠবে এ আগুন কেউ নেভাতে পারবে না। অপবাদ দিয়ে আমাদের ঠেকাতে পারবা না। ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাদের গতি স্তব্ধ করতে পারবা না। আল্টিমেট মঞ্জিলে না যাওয়া পর্যন্ত আমরা থামব না। আমাদের মঞ্জিল হচ্ছে ন্যায় ইনসাফের ভিত্তিতে আল্লাহর দেওয়া বিধানের ভিত্তিতে এ বাংলাদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

‘‘আপনারা কি চান বাংলাদেশ পুরাপুরি মুক্তি পাক? আপনারা কি চান এটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াক। যদি তাই চান তাহলে ফ্যাসিবাদী খাসলতের যারা এদেরকে চিরতরে লালকার্ড দেখাতে হবে।‘‘


কোনো দলের নাম না নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “সবচেয়ে নির্যাতিত দল জামায়াতে ইসলামী ধৈর্য ধরলো, দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করলো, শহীদ পরিবারগুলার কাছে দৌঁড়ে গিয়ে হাজির হলো, আহত পঙ্গুদের পাশে গিয়ে সান্ত্বনা যোগালো, বন্যা কবলিত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ালো, আর সে জায়গায় এক দল চাঁদাবাজিতে ঝাঁপাই পড়লো।


‘‘আমি তাদের এখানকার শীর্ষনেতাদের হাতে ধরে বলেছি, দোহাই আল্লাহর আমরা সবাই মজলুম ছিলাম মেহেরবানি করে এখন জালেম হবেন না। মানুষকে কষ্ট দেবেন না, চাঁদাবাজি বন্ধ করুন, অমুক আলম তমুক আলমের সাম্রাজ্যের পাহাড়াদারি বন্ধ করুন। এখানে ওখানে বিভিন্ন জায়গার দখলদারি শুরু হয়ে গেল। এরা বাংলদেশকে কী দেবে।

তার ভাষ্য, “সে দলের নেতাদেরকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা শান্তির পথে মানুষকে সম্মান, ভালোবাসার পথে তারা আসছেন না। এখন তারা লেগেছেন আমাদের পেছনে। আমাদের মা-বোনদের পেছনে। এখানে একজন বোন বলে গেছেন তাদের কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা, তারা মা-বোনদের গায়ে হাত দেন, তারা হুমকি দেয় কাপড় খুলে ফেলবে।

‘‘এরা কি মায়ের পেট থেকে জন্ম নেয় নাই? এরা যদি মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়ে থাকে এদেরকে অনুরোধ করবো প্রথম তোমার মাকে সম্মান করো। তুমি যদি তোমার মাকে সম্মান করতে জানো তাহলে গোটা বাংলাদেশ এবং বিশ্বের সকল মাকে সম্মান করতে পারবা। আর তোমার যদি সেই পারবিারিক শিক্ষা না থাকে তাইলে তুমি মানুষ নও। এটি আমার কথা নয়, আল্লাহর কালামের কথা।‘‘

এক্স পোস্টের বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমি কেন এর প্রতিবাদ করি এখন আমার আইডি হ্যাক করে আমার নামে এতো জঘন্য একটা বিষয় চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন বলবেন যে আপনার এই কলাটা খাইলো কে। ঠাকুর ঘরে কে রে, ওই কলা অর্ধেক কামড় খেয়ে বলে আমি কলা খাই না। আলহামদুলিল্লাহ কে করেছে তা আবিষ্কার হয়ে গেছে। এবং ওদের পেছনে কোনো কালো হাত আছে তা আমরা আবিষ্কার করবো ইনশাল্লাহ।‘‘

তিনি বলেন, “দুই দিন আগেও গাজীপুরে একজন ফ্যাশন ডিজাইনারের কাছে চাঁদা চাইতে গেছিল। চাঁদা দেয় নাই, মেরে ফেলছে। এরা আবার বড় গলায় কথা বলে। এরা যখন ক্ষমতায় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে ঢুকে সেখানে কি করেছিল আপনারা সবাই জানেন। এখনো কি করে সবই জানেন।

‘‘আর আমার নামে চালাই দিসে, অসুবিধা নাই। আল্লাহ রসুল বলেছেন কেউ যদি কারও নামে মিথ্যাচার করে, অপবাদ দেয়, আল্লাহ তার মাথার উপরে লানত হিসেবে ফেরত দেবেন। মহান আল্লাহ সাক্ষী এ ধরনের নোংরা কথা তো দূরে থাক এ ধরনের নোংরা চিন্তা আমরা জীবনেও করি নাই, আমাদের মা-বাপ এ শিক্ষা আমাদের দেন নাই।‘‘

এবারে জনজোয়ার আটকানো যাবে না মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের যারা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছিল, জুলাইকে যারা স্বীকৃতি দেয়নি, সেই তরুণ সমাজ জাতিকে একটা বার্তা দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত এ তরুণ ছাত্রসমাজ জানিয়ে দিয়েছে, তারা চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, মামলাবাজ এবং নারীদের ইজ্জত হরণকারী এদেরকে তারা লালর্কাড দেখিয়ে দিয়েছে। জনজোয়ার আর আটকানো যাবে না।

মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দলের প্রধান শফিকুর চট্টগ্রাম-১০, চট্টগ্রাম-৯, চট্টগ্রাম-১১ ও খাগড়াছড়ি আসনে জামায়াতের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা এবং চট্টগ্রাম-৮ আসনে ভোটের শরিক দল এনসিপির প্রার্থীর হাতে শাপলাকলি তুলে দেন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়