বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) সংসদীয় আসনে দল মনোনীত প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, কোনো মুসলমানকে কাফের বলার অধিকার কারও নেই।
তিনি আরও বলেন, 'এটি শুধু রাজনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন নয়, বরং ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সরাসরি অবমাননা।'
আজ শুক্রবার সকালে তার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি এ কথা বলেন।
পরওয়ার বলেন, 'জামায়াতে ইসলামী কোনো হত্যা, গণহত্যা বা ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ দশক পার হলেও এসব অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা বা জিডিও হয়নি। এটাই প্রমাণ করে অভিযোগগুলো রাজনৈতিকভাবে সাজানো।'
'শেখ মুজিবুর রহমান ও জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তাদের রাজনৈতিক উত্তরসূরিরা দলীয় স্বার্থে মিথ্যা ন্যারেটিভ তৈরি করে রাজনীতিকে যুক্তি, নৈতিকতা ও আদর্শশূন্য করে ফেলেছে এবং জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে এসব ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করছে,' যোগ করেন পরওয়ার।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উদ্দেশে তিনি বলেন, 'উনার মাকে উনি জিজ্ঞাসা করতে পারতেন, কেন তিনি জামায়াতের সঙ্গে গেলেন, যাদের তারেক রহমান একাত্তর ইস্যু নিয়ে অপরাধী মনে করেন? অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে যদি আবার আপনারা একাত্তরকে ব্যবহার করেন, তাহলে কী হলো ফ্যাসিবাদকে দোষ দিয়ে! সেই নেতিবাচক মনোভাব তো আপনাদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে।'
জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় যারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা বা পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এ রকম ১৪-১৫ জনের নাম আমরা দিতে পারবো, যারা ঊনআশির সংসদে ছিলেন। যার মধ্যে শাহ আজিজুর রহমান ও আব্দুর রহমান বিশ্বাস ছিলেন, উল্লেখ করেন পরওয়ার।
তিনি আরও বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান জীবিত অবস্থায় একাত্তরের বিষয়ে সমাধান করে গেছেন। তিনি সব ভেদাভেদ ভুলে, অনৈক্য যেন দেশে না থাকে তার চেষ্টা করেছেন। তিনি কলাবরেটর অ্যাক্ট [বাংলাদেশ কলাবরেটরস (স্পেশাল ট্রাইব্যুনালস) অর্ডার, ১৯৭২] তুলে নিয়ে ব্যাপারটাকে কিন্তু সমাধান করে গেছেন।
দুঃশাসন, দুর্নীতি ও রাজনৈতিক নিপীড়নের অন্ধকার অধ্যায় শেষ করতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও উল্লেখ করেন এই জামায়াত নেতা। উৎস: ডেইলি স্টার।