শিরোনাম
◈ আর্মব্যান্ড ছাড়াই হামজা নেতা: থমাস ডুলি ◈ তুচ্ছ ঘটনায় বারবার সংঘর্ষে ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ ও আইডিয়াল কলেজ ◈ পাথর নিক্ষেপ ঠেকাতে কক্সবাজারগামী ট্রেনে বসছে সিসি ক্যামেরা ◈ গোয়েন্দা নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য: পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা নাকচ করেনি সৌদি ◈ দফায় দফায় হামলা, ধ্বংসস্তূপ থেকে যেভাবে বেঁচে ফিরলেন মোজতবা খামেনি ◈ ডিমের বাজারে অস্বাভাবিক দাম ও কৃত্রিম সংকট নিয়ে কড়া বার্তা বাণিজ্যমন্ত্রীর, ব্যবসায়ীদের যা বললেন ◈ জার্মানিতে দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার চাকরি, আবেদন করতে পারবেন যারা ◈ আকাশসীমার জটিলতা কাটল, ১ অক্টোবর থেকে আসছে রূপপুরের ইউরেনিয়াম ◈ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো হামলার জন্য প্রস্তুত: পাকিস্তানকে রাজনাথ সিংয়ের কড়া বার্তা ◈ এবার লাইভে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কড়া বার্তা দিলেন সালমান মুক্তাদির! (ভিডিও)

প্রকাশিত : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ১১:৪৬ দুপুর
আপডেট : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সরকারি অফিসে চাঁদাবাজি: সমন্বয়ককে জনতার পিটুনি

ফাঁদে ফেলে ঘুষ লেনদেনের ভিডিওধারণ করে সরকারি অফিসারকে ব্লাকমেইল। দাবি করা হয় মোটা অংকের টাকা চাঁদা, টাকা না দিলে দেওয়া হয় অফিসে তালা ঝুলানোর হুমকি। পরে ২০ হাজারের চুক্তিতে দফারফা। কিন্তু বিপত্তি বাধলো চাঁদার টাকা নিতে গিয়ে। দলবলসহ জুলাই আন্দোলনের সমন্বয়ককে পিটিয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষুব্ধ জনতা।

বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিনা খাতুনের অফিসে চাঁদা নিতে গিয়ে এমনই পরিস্থিতিতে পড়েন জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব নাজমুল হাসান রনিসহ কয়েকজন সহযোগী। পরে রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশের উপস্থিতিতে অ্যাম্বুলেন্সে তুলে সমন্বয়ক রনি ও তার সহযোগীদের নেওয়া হয় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে। যদিও চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই সমন্বয়ক।

ঘটনার সময় সমন্বয়ক নাজমুল হাসান রনির সাথে ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সদস্য আরিফ, আবু হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেবহাটা উপজেলা শাখার বহিষ্কৃত আহ্বায়ক মুজাহিদ, সাবেক যুগ্ম আহ্বোয়ক মীর আরিফ, ইমরান হোসেন ও জুলাই আহত নাহিদ ইসলাম।

তবে এঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেবহাটা উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক মুজাহিদ। তার দাবি, তিনি সকাল থেকে জেলা শহরে একটি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

advertisement

ঘটনার সময় দেবহাটা উপজেলা অফিস পাড়া এলাকায় চাঁদাবাজ চক্রের সাথে যোগসাজোশের অভিযোগে ফারুক মাহবুবুর রহমান নামের এক সাংবাদিকও অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মারপিটের শিকার হন বলে খবর পাওয়া গেছে।

তিনি গত ১৫ বছরের আওয়ামী শাসনামলে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সাইনবোর্ডে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগ করে সম্প্রতি এনসিপিতে ভিড়েছেন।

দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, কয়েকজন যুবক এসে অফিসার কখন আসবেন জানতে চান। আমি বলি তিনি আসতে দেরি করবেন। তখন তারা উত্তেজিত হয়ে অফিসার না এলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। কিছুক্ষণ বসে থেকে হঠাৎ রাগন্বিত হয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে যান।

স্থানীয় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একাধিক ডিলার বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে শুনছিলাম কিছু যুবক সমন্বয়ক পরিচয়ে খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিসে এসে ঝামেলা করছে। আজ তারা অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিতে এসেছে-এমন খবর পেয়ে আমরা অফিসের সামনে ছুটে যাই। তবে ততক্ষণে তারা অফিস পাড়া থেকে পালিয়ে যায়।

এদিকে, সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন রনি বলেন, আমার মামাত ভাইয়ের দূরসম্পর্কের এক ভাই ডিলারশিপ পেতে উপজেলা ফুড অফিসারকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দেন। ঘুষ দেওয়ার একটি ভিডিও ফুটেজও তার কাছে আছে বলে দাবি করেন।

রনি আরও বলেন, বিষয়টি তিনি উচ্চমহলে জানালে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু সম্প্রতি ফুড অফিসার তাকে ঘুষের টাকা ফেরত নিতে অফিসে যেতে বলেন।

বুধবার সকালে অফিসে গেলে ফুড অফিসার উপস্থিত ছিলেন না। ফিরে আসার সময় সখিপুর মোড়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলার হয়। আর জুলাই আহত নাহিদ ইসলাম করেছেন ভিন্ন দাবি, তার বলছেন, সম্প্রতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের এক কর্মকর্তার অনৈতিক কাজের কিছু ভিডিও ফুটেজ ফাঁস করাকে কেন্দ্র করে এ হামলা হয়েছে।

যদিও, ঘুষ গ্রহণ দাবি করা সমন্বয়ক নাজমুল হোসেন রনির পাঠানো ওই ভিডিওতে দেখা গেছে- এক ব্যক্তি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহিনা খাতুনকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

দেবহাটা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিসার শাহিনা খাতুন বলেন, কয়েকজন যুবক আমাকে ফাঁসিয়ে জরিমানার নামে ২০ হাজার টাকা দাবি করেছে। ঘটনার সময় আমি অফিসের কাজে বাইরে ছিলাম। পরে জানতে পারি তারা আমার অফিসে টাকা নিতে এসে হুমকি দিয়েছে। এরপর কী ঘটেছে তা আমি জানি না।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা বলেন, আমি সদ্য যোগদান করেছি। তবে আজকের এই ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই। আমি খোঁজ-খবর নেব।

সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে রনি এসে আমাকে বলেছিল, ডিলারশিপ নিয়োগে নাকি ঘুষ নেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বলেছিলাম, উপযুক্ত প্রমাণসহ অভিযোগ দিলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে আজ তারা সরাসরি সেখানে গিয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা কাম্য নয়। আমরা তো তাদেরকে আশ্বস্ত করেছিলাম যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাহলে তারা কেন সরাসরি সেখানে গেল? সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

সূত্র: যায়যায়দিন 

  • সর্বশেষ