শিরোনাম
◈ আদালতের আদেশ তো শিক্ষার্থীদের পক্ষেই, তাহলে কার বিপক্ষে আন্দোলন: ওবায়দুল কাদের ◈ গণতন্ত্রের জন্যও শিক্ষার্থীদের লড়াই করার আহ্বান আমির খসরুর ◈ চাল কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা, সবজি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে ◈ কোটাবিরোধীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা শনিবার ◈ ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা ◈ আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন, কমবে গ্যাস সংকট ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশ, ভারত ও চীন তিনদেশই খুশি ◈ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার ◈ কোটা আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যাবে বলে আশাবাদ আইনমন্ত্রীর ◈ অতি বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় হাঁটুপানি, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত : ২২ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৫৩ রাত
আপডেট : ২২ নভেম্বর, ২০২৩, ১২:৫৩ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তবুও শেষ সুযোগ দিতে চান বিএনপিকে 

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছিলেন, বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো আন্দোলন করতে চায়, করুক, ধৈর্য ধরতে হবে। তাদের আন্দোলনে বাধা দেওয়ার দরকারই নেই। কোনো রকম বাধা দেওয়া হবে না। প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে এমন নির্দেশনা ছিল। কিন্তু ২৮ আক্টোবরের ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর হতে বাধ্য হয়েছিল। সরকারও কঠোর হতে বাধ্য হয়। প্রধানমন্ত্রীর ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় ওদের তাণ্ডব। সম্প্রতি প্রশাসনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ে কয়েকটি স্তরে কথা বলে এমন ধারণা পেয়েছি। এখনো বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইলে সুযোগ তৈরি করার চিন্তা রয়েছে সরকারের। যদিও এটি বাস্তবায়ন করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের। নিজেদের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ও অনুরোধ করে সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, আন্দোলন করা নয়, শেখ হাসিনার সরকারকে উচ্ছেদ করে ফেলার একমাত্র চিন্তা বিএনপির। 

‘আইন দেখে সুযোগ সৃষ্টি করা হবে’Ñ বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার রাশেদা সুলতানা। সেই সঙ্গে ভোটের তারিখ পেছানোর প্রয়োজন হলে সেটাও কমিশন ভেবে দেখবে বলেও সাংবাদিকদের জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কাছের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আলাপ প্রসঙ্গে জানান, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেনতেনভাবে ক্ষমতায় যেতে চান না। তিনি সুষ্ঠু, অবাধ ও সকলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন  হোক এটা চান। সংবিধানের মধ্যে থেকে  অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এতে তিনি নিজেও একধরনের তৃপ্তি পাবেন। সেসব দল বিএনপি হোক বা জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, গণতন্ত্রী পার্টি হোক অর্থাৎ সবদল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। মিথ্যা অভিযোগ আসার পরও তিনি প্রতিবাদ জানিয়ে সঠিক তথ্য জনগণকে জানিয়েছেন। এ কারণে তিনি গণভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন সময়ে দেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেছেন জাতির সামনে। 

জাতীয়-আন্তর্জাতিক ইস্যুসহ সকল বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের সন্তুষ্টজনক জবাব দিয়েছেন। শেখ হাসিনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর কর্মকাণ্ড। এজন্য বঙ্গবন্ধুকন্যা অতীতে বিভিন্ন সময় অনেকবেশি ধৈর্য ধরেছেন। নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়ে একজন সচিব জানান, তিনি এক মৌখিক নির্দেশনার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিকভাবে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরামর্শ দেন। চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে ওই কমকর্তা আরো বলেন, ২৮ অক্টোবর বা বিভিন্ন সময় পুলিশসহ সাধারণ মানুষের ওপর বিএনপির হামলাকে ফিলিস্তিনদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার সঙ্গে তুলনা করা যায়। ইসরায়েল যেভাবে হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে-বিএনপির ক্যাডাররাও সেভাবে পুলিশ হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। প্রধান বিচারপতির বাসভবনের প্রধান ফটকে হামলা করেছে। একজন পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। অর্ধশতাধিক সাংবাদিককে পিটিয়ে, জখম করে, পঙ্গু করে দিয়েছে। যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করেছে। বহু পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা করেছে। 

ওই কর্মকর্তা বলেন, বিএনপিকে বলা হয়েছিল ‘খোলা মাঠে’ সমাবেশ করতে। তারা তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চায়। শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ করবে-এ প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় সরকার তাদের সেখানে সমাবেশ করতে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু তারা সমাবেশের নামে তাণ্ডব করেছে। সন্ত্রাসীরা ব্যাগে করে ঢিল ও ককটেল নিয়ে এসেছিল। এগুলো বৃষ্টির মতো ছুড়েছে। এতে অন্তত ১০০ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, এর আগেও ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াতকে এভাবে তাণ্ডব করতে  দেখেছিল মানুষ। কিছু ক্যামেরা ভাঙা হয়েছে, কিছু অকার্যকর করে দিয়েছে, এরপরও অনেক ধরনের ক্যামেরা ছিল, ক্যামেরার মাধ্যমে পুলিশ-র‌্যাব, গোয়েন্দারা অপরাধী চিহ্নিত করছে তাদের আইনের কাছে  সোপর্দ করেছে ও করছে।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে জানিয়ে এক কর্মকর্তা জানালেন, বিএনপির সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের উপদেষ্টা দাবি করা ব্যক্তি এখন জেলে। এই প্রশ্ন উঠতেই পারে, একটি রাজনৈতিক দলের অফিসে রাজনৈতিক নেতা ইশরাকের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন করে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করার পরও দলটির কথা বলতে কি লজ্জা করে না? আসলে তিনি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন আমেরিকান নাগরিক। মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তিনি তাদের কোনো উপদেষ্টা নয়। তার ব্যাপারে তথ্যসংগ্রহ করতে গিয়ে নানা রকম লোমহর্ষক তথ্য মিলেছে পুলিশের হাতে।    

বাংলাদেশের জনগণের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে, গণতান্ত্রিক দৃষ্টিতে সংবিধানের বাইরে যাওয়ার আর কোনো সুযোগ নেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠারও আর সুযোগ নেই। উচ্চ আদালতের রায় তো আছেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্তির প্রসঙ্গে। বাংলাদেশের মানুষ লড়াকু। বাংলাদেশের জনগণ নিজেরা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণ করবে, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে নয়। মানুষ অনেক বেশি সচেতন। জাগ্রত মানুষকে মিথ্যা গল্প শুনিয়ে  বোকা বানানোর দিন শেষ।  

পুলিশ ২৮ অক্টোবরের  তাণ্ডব থামাতে চেয়েছিল। নিবৃত্ত করতে গেলে পুলিশকে তারা পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যা সুনিশ্চিত করতে চাপাতি দিয়ে মাথায় কোপ দিয়েছে। পুলিশের মনোবল ভাঙতেই এমন নৃশংসতা চালানো হয়েছিল। হরতালের নামে এখন যা হচ্ছে ত্রাস-তাণ্ডব। কিন্তু পরিস্থিতির উন্নতি না হলে নির্বাচন কশিশনকে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার। প্রশ্ন উঠেছে, মুখোশ পরে বাসের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এটা কেমন ধরনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন? চোখেরর সামনে বাস পুড়তে দেখে হুঁশ হারিয়ে ফেলছেন মালিক। আসলে ক্ষমতায় যেতে মানুষ নিয়ে বাজি খেলার সুযোগ দিতে চায় কেউ। 

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট, কথাসাহিত্যিক ও ফিল্মমেকার
    

 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়