শিরোনাম
◈ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল: টিকিটের দামেই নতুন ইতিহাস ◈ লেবারের নেতৃত্বে অ্যান্ডি বার্নহাম, প্রথম ভাষণেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ ◈ নদীর পানি বাড়ছে, উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে বন্যা নিয়ে সতর্কতা ◈ মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের গুঞ্জন, আলোচনায় একাধিক নতুন নাম ◈ ইরানে ট্রাম্পের ‘মহাপরিকল্পনা’ কি স্থল অভিযানের প্রস্তুতি? ◈ শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের সহযোগী তানিম রেজা বাপ্পি আটক ◈ সরকারের ৫ মাস পূর্তি: শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ◈ দেশের যেসব অঞ্চলে সকালের মধ্যেই ঝড় হতে পারে  ◈ শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রশ্নে ভারতের নতুন বক্তব্য ◈ এটা রাজনৈতিক মঞ্চ নয়, যাকে পছন্দ হয় না, তাকেই ফ্যাসিস্ট বানিয়ে দেন: ছাত্রদল নেতাকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কড়া জবাব

প্রকাশিত : ২৭ মে, ২০২২, ০২:৩৬ রাত
আপডেট : ২৭ মে, ২০২২, ০২:৩৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

‘মুজিব বায়োপিক’ হতে হবে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির মতোই শ্রেষ্ঠ

দীপক চৌধুরী

দীপক চৌধুরী: ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে নির্মিত ছবিটির ‘ট্রেইলার’ হিসেবে ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবে’  যা দেখানো হয়েছে তা মেনে নেওয়া যায় না।’ এমন মন্তব্য শুনলাম বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি কাপড়ের দোকানে বসে। যিনি এ মন্তব্য করলেন তিনি আওয়ামী লীগের ‘সাপোর্টার’ না তবে বঙ্গবন্ধুর ভক্ত। তার মতে, জাতির পিতাকে সবার মাথার ওপর স্থান দিতে হবে। এটাই অভিমত সত্তরোর্ধ বয়সী কাপড়ের ব্যবসায়ীর। শিল্পকলা একাডেমির দোতলায় বসে যাদের সঙ্গে কথা হচ্ছিলো তারা শিল্পাঙ্গন, নাটক ও যাত্রাশিল্পের মানুষ। ‘বঙ্গবন্ধু বায়োপিক’-এর ট্রেইলার নিয়ে তারাও ক্ষুব্ধ। এতে বুঝতে পারি বা যে কেউ ধারণা করতে পারেন এ ট্রেইলারটি অনেকেই দেখেছেন। তারা জানান, এতে একটি ‘ভুল মেসেজ’ যাচ্ছে মানুষের কাছে। এ দেশে অনেকেই মনে করেন, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অসত্য তথ্য দেওয়া ঠিক নয় বা প্রচার করা ঠিক নয়। 

তরুণ বয়সী একজন নাট্যভিনেতা মন্তব্য করলেন, ‘ট্রেইলার’ দেখেই বোঝা যায়  ‘বঙ্গবন্ধু বায়োপিক‘ ভালো হবে না। বঙ্গবন্ধুর কী ব্যক্তিত্ব, কী কণ্ঠ, কী রকম ভরাট কিন্তু কিছুই যেনো পাইলাম না সেখানে।  তাঁর মুখ পড়ে বোঝা যায় তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ ‘মুজিব : দ্য মেকিং অফ আ নেশন’-এর ট্রেইলার দেখে। জাতির পিতাকে নিয়ে ছবি নির্মাণ ব্যয়ে সমুদয় কতো কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বা হবে এটাকে অনেকেই বড় করে দেখেন না। তবে এতে যারা কাজ করবেন তাদের অবশ্যই বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক চিন্তা, দর্শন, দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্দেশ্য বুঝতে হবে। অনেক মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। বঙ্গবন্ধুকে  হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। অর্থের ক্ষমতা সবচেয়ে বড় ক্ষমতাÑ এটা আমি সবসময় মানি না। মনে রাখতে হবে যে, উনি আমাদের জাতির পিতা। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। সারা দুনিয়ায় কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মতো সৎ, ত্যাগী, আদর্শবাদী, গুণী, মানবপ্রেমিক রাজনীতিবিদ দ্বিতীয় কেউ নেই।    

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝড় ওঠার পর  ‘মুজিব: দ্য  মেকিং অফ অ্যা  নেশন’  বা  ‘মুজিব : একটি জাতির রুপকার’ ছবির পরিচালক হিসেবে শ্যাম বেনেগাল টুইটারে যা বলেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। আমি জানি, শ্যাম বেনেগাল বিখ্যাত ব্যক্তি। ভারতীয় বিখ্যাত পরিচালক ও অভিনেতা। তিনি ১৯৭৬ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৯০ সালে পদ্মভূষণ, ২০০৫ সালে দাদাসাহেব ফালকে, ২০১৩ সালে এএনআর পদকে ভূষিত হয়েছেন। ‘অংকুর’, ‘ভূমিকা’, ‘সর্দানি বেগম’, ‘জুবায়দা’র মতো বিখ্যাত ছবি বানিয়ে তিনি তাক লাগিয়েছেন ভারতবর্ষের দর্শকদের। অসাধারণ মেধাবী ও গুণী এ পরিচালক সম্পর্কে কোনো সন্দেহ থাকার কথা নয় বাঙালি দর্শকদের। শ্যাম বেনেগালকে নির্বাচন করাও সঠিক হয়েছে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির কোনো ত্রুটি আমি দেখছি না বা বিচার করছি না। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই ট্রেইলার মানুষকে ছবিটি  দেখতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। আমি একজন বাঙালি হিসাবে এই ৯০ সেকেন্ডে যে সকল ঐতিহাসিক ত্রুটি-অসঙ্গতি আমার  চোখে ধরা পড়েছে তা রীতিমতো হতাশাব্যঞ্জক, দুঃখজনক, কষ্টদায়ক ও পীড়াদায়ক। মুক্তিযুদ্ধ অনেক বিরাট বিষয়, যা কেবল বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পর দীর্ঘবছর ‘বঙ্গবন্ধুর নাম’ মুখে আনা বন্ধ ছিল কিন্তু এখন তো সেটি নেই। এখন আমরা বঙ্গবন্ধুকে টিভিতে দেখি, পত্রপত্রিকায় বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানতে পারি। বলা যায়,  এখন বঙ্গবন্ধুকে আমরা প্রতিদিন দেখি। আমরা সবচেয়ে বেশি জানি ও চিনি। টেলিভিশন, বেতার, চলচ্চিত্রে, নাটকে প্রতিদিন এ প্রজন্ম দেখে। তাঁর ভাষণ  শোনে। আমরা অর্থাৎ বাঙালিদের চোখে অতিপ্রিয়জন তিনি। আমরা তাঁকে হৃদয় দিয়ে ধারণ করি। কিন্তু যারা এ ছবিটির সঙ্গে কাজ করেছেন তারা কতোটুকু বুকে ধারণ করেন? বঙ্গবন্ধু হয়ে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করলেন আরেফিন শুভ। এটা কী প্রেমের ছবি নাকি? উপন্যাস বা সিনেমার মতো ফিকশন নয়।  দায়সারাগোছের কাজ করার তো প্রশ্নই ছিলো না, কীভাবে হলো? শুভ মোটামুটি মানের অভিনেতা মানলাম। কিন্তু এটা তো সত্যি, এতোটাই কি সহজ বঙ্গবন্ধু চরিত্রে রূপ দেওয়া? আর তিশা? বঙ্গমাতার চরিত্রে! মহিয়সী নারী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা চরিত্রে তিশা অভিনয় করছেন শুনলাম। সবকিছুই আমরা জলাঞ্জলি দিতে পারি কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছবি নিয়ে ‘সিরিয়াস’ হতে চাই। বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতা  চরিত্রে রূপ দেওয়ার জন্য সুদীর্ঘ সময় অর্থাৎ মাসের পর মাস ‘হোমওয়ার্ক’ করতে হবে, এটা করেছেন কি তারা? এ ছবি ‘রিলিজ’ দেওয়ার আগে শতভাগ ভাবতে হবে। ছবি ‘রিলিজ’ দেওয়ার আগে যেন ভাবা হয়। কারণ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির পিতা। তাড়াহুড়ো করার কিছুই নেই।  

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক, কলামিস্ট  ও কথাসাহিত্যিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়