শিরোনাম
◈ আদালতের আদেশ তো শিক্ষার্থীদের পক্ষেই, তাহলে কার বিপক্ষে আন্দোলন: ওবায়দুল কাদের ◈ গণতন্ত্রের জন্যও শিক্ষার্থীদের লড়াই করার আহ্বান আমির খসরুর ◈ চাল কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা, সবজি ১৫ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে ◈ কোটাবিরোধীরা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা শনিবার ◈ ৫ শতাংশ কোটা পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্যরা ◈ আনোয়ারা-ফৌজদারহাট পাইপলাইন মেরামত সম্পন্ন, কমবে গ্যাস সংকট ◈ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে বাংলাদেশ, ভারত ও চীন তিনদেশই খুশি ◈ আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটালে বরদাশত করা হবে না: ডিএমপি কমিশনার ◈ কোটা আন্দোলনকারীরা ঘরে ফিরে যাবে বলে আশাবাদ আইনমন্ত্রীর ◈ অতি বৃষ্টিতে রাজধানীর বেশিরভাগ এলাকায় হাঁটুপানি, জনজীবন বিপর্যস্ত

প্রকাশিত : ২৮ মার্চ, ২০২৩, ০২:৩২ রাত
আপডেট : ২৮ মার্চ, ২০২৩, ০২:৩২ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের হিসাব মধ্যবিত্তদের, নিম্নবিত্তের হাহাকার!

জিল্লুর রহমান

জিল্লুর রহমান: [১] একটি দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, কুড়িগ্রামের চিলমারী সদর উপজেলার বাসিন্দা মোজাম্মেল হক। রংপুরের মাছুয়াটারীতে তিন সন্তান আর স্ত্রী নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে থাকেন। পেশায় রিকশাচালক। প্রতিদিন যে আয় হয়, তা দিয়ে বাড়িভাড়া, সংসারের খরচ আর তিন সন্তানের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। তার ওপর গেল কদিন ধরে তার দুই মেয়ে বায়না ধরেছে মুরগির মাংস খাওয়ার। কিন্তু নিজের উপার্জন দিয়ে পুরো মুরগি কেনার সামর্থ্য হচ্ছে না। তাই মেয়েদের জন্য বাধ্য হয়ে মুরগির গিলা, কলিজা আর পা কিনেছেন মোজাম্মেল। তিনি বলেন, বাড়িত পাঁচজন খাওয়াইয়া (সদস্য)। একটা রিসকে (রিকশা) ভাড়া নিয়ে চলাই। যে আয় হয় সেট থাকি (তা দিয়ে) দৈনিক মালিককে দেই দুই’শ টেহা (টাকা) আর দুই-আড়াই’শ থাকে। তাই দিয়ে দৈনিক চাল, বাজার, ছৈলপৈলদের (সন্তানদের) খাতা-কলম, স্কুলের বেতন দেওয়া নাগে (লাগে)। মুরগির যে দাম, গোডাল (পুরো) মুরগি কিনপের (কিনতে) পাই না। ছৈল দুইডা মুরগি খাবার চাওছে। সেই জন্যে এক কেজি ব্রয়লার মুরগির গলা, গিলা, পা আর মুরগির হাড্ডি ১৪০ টেকা দিয়ে নিলোং (নিলাম)। ছৈল তো বুজবের নয়। এটা দিয়ে বোজামো...(বোঝাব)। 

[২] পেশায় তিনি সরকারি হাই স্কুলের শিক্ষক, থাকেন মিরপুরে। বাড়তি ইনকামের জন্যে শিক্ষকতার পাশাপাশি উবারে গাড়ি চালান। যাত্রী হবার সুবাদে জানতে পারলাম ভদ্রলোকের সংসারে দুই মেয়ে ও স্ত্রী আছেন। মেয়েদের পড়াশোনার পেছনে প্রায় ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়, বাসা ভাড়া ১৮ হাজারের মত, আনুষাঙ্গিক বিলতো আছেই, বেতন পান ৫০ হাজারের কাছাকাছি। বাধ্য হয়েই তিনি গাড়ির ড্রাইভিং সীটে। কিছুদিন আগেও বাড়তি ইনকামে সংসার খরচ হয়ে যেতো, কিন্তু দ্রব্যমূল্য ক্রমাগতহারে বাড়তে থাকায় সঙ্কটে পড়েছেন তিনি, এখন প্রায়ই ধার দেনা করে চলতে হয়, পার্ট টাইম কাজ করে যা পাওয়া যায় তাতে ব্যয় মেটানো সম্ভব হয়ে উঠেনা। [৩] ঢাকার ভাষানটেকে বাজার করতে আসা আনিসুল বলেন, ‘স্বল্প আয়ের মানুষের হাসি-কান্না অনেকটাই নির্ভর করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। দাম কম থাকলে পেটভরে দুমুঠো খাওয়া যায়। 

দাম লাগামছাড়া হলে অনেক সময় না খেয়ে কাটাতে হয়’। তিনি বলেন, মাসের শুরুর দিকে হাতে টাকা থাকলেও শেষের দিকে ধার করে চলতে হয়।  যে হারে পণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে পরিবার নিয়ে চলা কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই চিত্র শুধু রংপুর বা ঢাকার নয়, সারা দেশের। রোজাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরো সঙ্কটজনক অবস্থায় উপনীত হয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্তিতিতে এমনিতেই সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে, কমেছে কর্মসংস্থান, যার প্রভাব উন্নয়নশীল দেশেই বেশি পরিলক্ষিত হয়। বৈশ্বিক মন্দা মোকাবেলায় সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করলেও এখনো দৃশ্যমান সাফল্য অর্জিত হয়নি। আমদানি ব্যয় বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে অস্বাভাবিক হারে জিনিসত্রের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রনে কোন কার্যকর ব্যাবস্থা নিচ্ছে না সরকার,ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমত জিনিস পত্রের দাম বাড়াচ্ছে। সামনে আসছে ঈদ, স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছে ঈদের চাঁদ যেন শুকনো বাঁকানো খেজুরের ডাল ছাড়া আর কিছুই নয়। আমাদের গুটিকতক লোকের ঈদ আনন্দের মাঝে স্বল্প আয়ের লোকদের আহাজারি আগ্নেয়গিরির মত প্রজ্জেলিত লাভা ঢেলে দিচ্ছে। জিল্লুর রহমান, লেখক: সংবাদকর্মী

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়