শিরোনাম
◈ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রয়োগ বন্ধের আহ্বান জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ◈ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে চেন্নাইকে হারিয়ে গুজরাটের জয় ◈ পাকিস্তানে যাকাত নিতে এসে পদদলিত হয়ে ১১ জনের মৃত্যু ◈ আইপিএলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দর্শক মাতালেন অরিজিৎ সিং ◈ মহান স্বাধীনতাকে হেয় করে প্রথম আলোর প্রকাশিত প্রতিবেদনের নিন্দা ◈ শনিবার আওয়ামী লীগের যৌথ সভা  ◈ আইনের শাসন না থাকায় কারো জীবনের নিরাপত্তা নেই: মির্জা ফখরুল ◈ বিএনপির ইফতার মাহফিলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ◈ সরকার নির্ধারিত দামেই নিত্যপণ্য বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ কিছু পত্রিকা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে নেগেটিভ রিপোর্ট করে: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত : ২০ মার্চ, ২০২৩, ১২:২৬ রাত
আপডেট : ২০ মার্চ, ২০২৩, ১২:২৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বিদ্যুৎ উৎপাদন, চাহিদা এবং যোগান পরিস্থিতি কী?

এবি সিদ্দিক

এবি সিদ্দিক: বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ বিদ্যুৎ গ্যাস নির্ভরশীল। ক্যাপটিভ বিদ্যুতে গ্যাসের চাহিদা ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। গৃহস্থালী খাতে গ্যাসের ব্যবহার ১৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ, সারে ৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সিএনজি খাতে ৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ, বাণিজ্যিক খাতে শূন্য দশমিক ৫৫ শতাংশ, চা শিল্পে শূন্য দশমিক ১১ শতাংশ আর ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্প খাতে ১৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ গ্যাসের চাহিদা রয়েছে বা বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে। পেট্রোবাংলার গত ২০২১ সালের মাসিক এমআইএস রিপোর্টে জানা যায়, গত ২০১৫-১৬ অর্থবছরে মোট গ্যাসের উৎপাদন ছিলো ২৭ হাজার ৫৫৯ দশমিক ২৫৫ এমএমসিএফ (মিলিয়ন ঘন ফুট) যা ২০২০-২১ সালের মে মাসে কমে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৯১ দশমিক ৮৬৭ এমএমসিএফ’এ। একই সময়ের ব্যবধানে দেশিয় কোম্পানিগুলো উৎপাদন ১১ হাজার ১৯৪ দশমিক ৩৮৩ এমএমসিএফ থেকে কমে ৭ হাজার ৯৮৭  দশমিক ৬৫৮ এমএমসিএফ’এ দাঁড়ায়। অপর দিকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানি (আইওসি) গুলোর উৎপাদনও একই সময়ের ব্যবধানে ১৬ হাজার ৬৪ দশমিক ৮৭২ থেকে কমে ১৫ হাজার ১০৫ দশমিক ২০৯ এমএমসিএফ দাঁড়ায়। এককথায় গ্যাসের উৎপাদন দ্রুত কমে আসছে। 

গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ কমার সঙ্গে সঙ্গে পেট্রোবাংলার মুনাফও কমছে বলে জানা গেছে। গত ২০২১ সালে গ্যাস বিক্রয় বাবদ আয় ছিল  ১ হাজার ২৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা যা পরের মাসে বেড়ে ১ হাজার ১১৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে মোট আয় ছিল ১০ হাজার ৯৫২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। পেট্রোবাংলা গ্যাস, কয়লা সহ অন্যান্য উৎপাদিত দ্রব্য বিক্রি করে  গত অর্থবছরে কর অন্তেঃ নীট মুনাফা করে ১ হাজার ৬৫১ কোটি ৯০ লাখ  ৫৬ হাজার কোটি টাকা। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগারে দিয়েছে ৭ হাজার ৯১৭ কোটি ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। সরকার গ্যাসে মুনাফা করলেও সংকট মোকাবেলায় এলএনজি আমদানিতে ভতুর্কি দিতে গিয়ে হিমহিস খেতে হচ্ছে। বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়ছেই। আর এলএনজি আমদানি করতে গিয়ে সরকারকে মোটা অংকের লোকসানও গুণতে হচ্ছে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকার ১৭ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদনির সিন্ধান্ত নেওয়া হয় যাতে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ ধরা হয় ২ হাজার ৮ শত কোটি টাকার বেশি। আর জাতীয় বাজেটের আওতায় এলএনজি আমদানি মূল্য পরিশোধ বাবদ পেট্রোবাংলাকে দেওয়া হয় ১ হাজার ৪ শত কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে গ্যাস উৎপাদন ও এলএনজি আমদানিসহ গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৯ বিসিএফ। প্রতি ঘনমিটারে ভতুুর্কি যাচ্ছে ২ টাকা ২১ পয়সা। এতে করে ভতুর্কি গুণতে হবে প্রায় ৬ হাজার ৮ শত কোটি টাকা। এর আগের অর্থবছরে ভতুর্কি দেওয়া হয় আড়াই হাজার কোটি টাকা। গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের কোনো বা বাড়ানোর বিষয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। 

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে যতাযোথ ভাবে কাজে লাগানো হচ্ছে না। বাপেক্স বেশ কয়েকটি ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। আর নিজেরাও ৮টি ক্ষেত্রের ৭টিতে গ্যাস উৎপাদন করছে। তাদের দৈনিক উৎপাদিত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ৩ দশমিক ৬৯২ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফ)। তবে বাপেক্স-এর রয়েছে নানা সীমাবন্ধতা। অভিযোগ, তাদের আবিষ্কৃত ক্ষেত্র দেওয়া হচ্ছে বিদেশি কোম্পানিকে। তাদের উৎপাদিত গ্যাসের দামও কম দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। বাপেক্স-এর একজন সাবেক কর্মকর্তা জানান, ৮টি গ্যাস ফিল্ডর  ৫টি গ্যাসক্ষেত্রেও এই স্তর থেকে গ্যাসের সন্ধান মেলেছে। এই স্তরের আরো নিচে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এর জন্য প্রয়োজন ডিপ ড্রিলিং বা মাটির আরো গভীবে খনন কাজ চালানো। তিনি আরো বলেন, বাপেক্স-এর রিগগুলো গড়ে ৫ হাজার মিটারে খনন করার স্বক্ষমতা রয়েছে। ৭ হাজার মিটারের বেশি গভীরতায় খনন করতে হলে নতুন রিগ দরকার। কিন্তু তাদের রিগ সংকট রয়েছে বলেও তিনি জানান। কিন্তু সরকার বিষয়টির প্রতি নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। অপরদিকে সুমদ্রে ভারত, মায়ানমান তেল-গ্যাস  অনুসন্ধান ও উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশ সরকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন করার জন্য কোনো উদ্যোগই নিচ্ছেন না। দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে মজুদকৃত গ্যাসের পরিমাণ। বর্তমানে দৈনিক চাহিদা  ৩৭০ কোটি ঘনফুটের বেশি থাকলেও সরবরাহ করা যাচ্ছে প্রায় ৩০০ কোটি মিলিয়ন ঘনফুট। পেট্রোবাংলার গত জুলাই মাসের এম আই এস রিপোর্টে বলা হয়ছে, ২০২০ সালে গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছিল ২১৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুটের বেশি যা ২০২১ সালের জুনে ২০৮ কোটি১০ লাখ ঘনফুটে কমে আসে। চাহিদা অনুযায়ি গ্যাসের সরবরাহ করা যাচ্ছে না।  

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গ্যাসের চাহিগা, অপরদিকে কমছে উৎপাদন। যার ফলে অচিরেই গ্যাস সংকটা তীব্র আকার ধারণ করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন তাদের এক প্রতিবেদনে বলেছে, আগামী ২০২৫ সালেই উত্তোলনকৃত মজুদ ফুরিয়ে যেতে পারে। তাদের প্রতিবেদন অনুযায়ী বর্তমানে গ্যাস মোট জ্বালানি খাতে ৬৫ শতাংশ ভূমিকা রাখছে। গত ১ জুন/২১ তারিখ পর্যন্ত উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ ছিল ১১ দশমিক ৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ), আর বছরে উত্তোলন হচ্ছে ১ টিসিএফ। যদি তাই হয় তাহলে তো আগামী ১১ বছরেই উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদ শেষ হয়ে যাবে। কমিশন আরও বলেছে, গত একদশকে এক টিসিএফ গ্যাসও রিজার্র্ভে যুক্ত হয়নি। এমতাবস্থায় চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২০২৫ সালে গ্যাসের রিজার্ভ ৬ টিসিএফ এবং ২০৩০ সালে ৫ টিসিএফ’এ নেমে আসবে যা ব্যাপকভাবে এলএনজি আমদানি নির্ভর করে তুলবে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে। পেট্রোবাংলা সূত্রে আরো জানা যায়, বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট যার বিপরীতে দেশি-বিদেশি কোম্পানি গুলো সহ মোট  ২ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট, সেই সাথে সাড় ৫ শত মিলিয়ন ঘনফুট আমদানিকৃত এলএনজি সহ দৈনিক মোট ৩ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। যতোই দিন যাচ্ছে, গ্যাসের উৎপাদন ততোই ফুরিয়ে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎখাত ঝুঁকিতে পড়ছে। বিদ্যুতের স্বাভাবিক উৎপাদন ধরে রাখতে হলে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে হবে। লেখক: সাংবাদিক

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়