শিরোনাম
◈ ঢাকায় যাত্রাবিরতিতে ভুটানের রাজা, স্বাগত জানালেন রাষ্ট্রপতি ◈ গ্যাস সংকট মোকাবিলায় রেশনিংয়ের সিদ্ধান্ত, উদ্যোক্তারা আনতে পারবেন ভোলার গ্যাস ◈ বাংলা‌দে‌শের বিরু‌দ্ধে দ্বিতীয় টে‌স্টে ইচ্ছে করেই এমন পিচ বানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া : সু‌নীল গাভাস্কার ◈ চেন্নাই সুপার কিং‌সের ২৫ শতাংশ মালিকানা চেয়ে বসলেন ধোনি: না বলে দিলো সিএসকে, সম্পর্ক তলানিতে   ◈ সায়দাবাদে এসি বাসের জন্য আলাদা টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত ◈ খুচরা বিক্রেতাদের সার বিক্রি অব্যাহত রাখতে নির্দেশ সরকারের ◈ আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.), দেশজুড়ে নানা আয়োজন ◈ মিয়ানমারে সহিংসতা-নির্যাতনে বিপর্যস্ত মানুষ, রোহিঙ্গাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ: জাতিসংঘ ◈ ‘উপহার’ হিসেবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নেবে মালয়েশিয়া: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ◈ রংপুরে চার হত্যা: ‘ধর্ষণের আলামত’ নিয়ে ডোম-চিকিৎসকের বক্তব্যে ভিন্নতা

প্রকাশিত : ১৫ জুন, ২০২৬, ০৭:২০ সকাল
আপডেট : ২১ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনা বিনিয়োগ টানতে বিশেষ পরিকল্পনা, জানালেন বিডা চেয়ারম্যান

চীনা বিনিয়োগকারীদের কাছে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ দিবস’ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।

চীনের খুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত ‘চায়না-সাউথ এশিয়া এক্সপো’-তে অংশগ্রহণকালে সিএমজির সিনিয়র প্রতিবেদক ইয়াং ওয়েইমিং স্বর্ণাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আশিক চৌধুরী জানান, এখনো অনেক চীনা উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারী বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং রূপান্তরের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নন। তার মতে, ইন্টারনেট বা বই থেকে তথ্য জানার চেয়ে সরাসরি বাংলাদেশ সফর করে দেশের বাস্তবতা ও সম্ভাবনা দেখা সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতা।

তিনি বলেন, এসব এক্সপোর সবচেয়ে বড় অর্জন হলো চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেওয়া। একবার কোনো বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে এলে তিনি উপলব্ধি করতে পারেন যে, দেশটি বিপুল সম্ভাবনায় ভরপুর। পাশাপাশি এসব আয়োজনের মাধ্যমে চীনা ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের দূতাবাস, ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাচ্ছেন, যা বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সরকার ও বিডার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ভাষাগত ও কারিগরি জটিলতা দূর করতে চীন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবর্ধন পরিষদ (সিসিপিআইটি)-এর সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছে। এর ফলে চীনা বিনিয়োগকারীরা নিজস্ব ভাষায় বিডা ও সিসিপিআইটির কাছ থেকে যৌথভাবে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।

তিনি আরও জানান, চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য একটি শক্তিশালী শিল্পভিত্তি গড়ে তুলতে বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিকটবর্তী এলাকায় চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বৃহৎ ও নির্দিষ্ট ‘ডেডিকেটেড ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক’ প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে। চীন ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই শিল্পপার্ক ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার প্রক্রিয়াকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গ্লোবাল কনসালট্যান্ট, চীনা ব্যবসায়ী সংগঠন এবং বিভিন্ন থিংক ট্যাংকের সঙ্গে গবেষণার ভিত্তিতে আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোও চিহ্নিত করেছে বিডা।

ঐতিহ্যবাহী তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর বাইরে চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পাঁচটি খাত হলো— চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটি সেবা এবং অটোমোবাইল ও ইলেকট্রিক ভেহিকেল শিল্প। এসব খাতের স্থানীয় ও আঞ্চলিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান জোর দিয়ে বলেন, আগামী ৩ থেকে ৫ বছরে সরকারের নীতিগত পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এসব খাত। ফলে চীনা বিনিয়োগকারীরা যদি এই খাতগুলোতে বিনিয়োগ করেন, তাহলে তারা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ নীতিগত সহায়তা ও সুবিধা পাবেন।

বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সরকার ও বিডা যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, আশিক চৌধুরীর বক্তব্যে তারই সুস্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে।

  • সর্বশেষ