শিরোনাম

প্রকাশিত : ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩, ০১:১৪ রাত
আপডেট : ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩, ০১:১৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

বাংলাদেশে মূলত কারা সাম্প্রদায়িক সংকট সৃষ্টি করতে চায়?

ফজলুল বারী

ফজলুল বারী: বিভিন্ন সময়ে লিখেছি আমার দাদাবাড়ি, নানাবাড়ি দুটোই বর্তমান ভারতে। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময় সিলেটের করিমগঞ্জসহ সাড়ে তিন থানা ভারতে পড়ে যায়। তখনকার করিমগঞ্জ থানা এখন জেলা। করিমগঞ্জ জেলার ভাংগার বাজারের মাছলি গ্রামে আমার দাদা বাড়ি, বদরপুরের দেওরাইল গ্রামে নানা বাড়ি। তখন গোটা তল্লাটে প্রধান কলেজ ছিল সিলেটের এমসি কলেজ। আমার আব্বা ১৯৪২ সালে এমসি কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন। আব্বার চাকরিসূত্রে আমাদের ভাইবোনদের জন্ম বাংলাদেশে। চাকরি থেকে অবসরের পর আব্বা কুলাউড়ায় বাড়ি করেন। কারণ আগে থেকেই কুলাউড়ায় আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজনের বসবাস ছিল। 

অবিভক্ত ভারতবর্ষের আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের দুটি জংশন স্টেশন ও শহর ছিল বদরপুর ও কুলাউড়া। মুক্তিযুদ্ধের পর শরণার্থীদের অনেককে ট্রেনে করে কুলাউড়া হয়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। রেলওয়ের চাকরিসূত্রেই কুলাউড়ার বদরপুরের এত লোকজন। অবসরের পর এখানে তারা বাড়িঘর করে থিতু হয়ে গেছেন। ছোটবেলা থেকে নানা বাড়ি দাদার বাড়িতে যাতায়াতে দুই দেশের অনেক স্বাভাবিক জীবন যাপন দেখেছি। রাস্তার পাশের টং দোকানের গ্লাসে করে চা খাবার মজা যেন অমৃত! যেমন ভারতে রবিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন, বাংলাদেশে শুক্রবার। আমার এক মামাতো বোনের সুর করে পাঠ্যবইয়ের কবিতা মুখস্ত করা এখনও মনে পড়ে। যেমন, ‘আলো বায়ু জল/আরও যে সকল/সকলি তোমার দান/ তোমার দয়ায় বাঁচিয়া মোরা আছি ওগো ভগবান’।

এই যে হিন্দু প্রধান দেশে থাকায় পাঠ্যবইয়ে ‘জল’, ‘ভগবান’ এসব লেখাতে ভারতীয় মুসলমানরা মোটেই শুচিবায়ুগ্রস্ত ছিলেন না। এখনও তারা সাচ্চা ভারতীয় মুসলমানই আছেন। ভারতীয়ই আছেন। ভারতে বিভিন্ন সময়ে নানা সমস্যা হয়। কিন্তু কখনও ভারতীয় এসব মুসলমানরা বাংলাদেশে চলে আসতে চাননি। যা এসেছেন ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের সময়। বাংলাদেশের বই নিয়ে নানান সমস্যা চলে। এটা আগেও ছিল। এখনও আছে। কিন্তু এখনও ভারতের সমাজ যতটা সহিষ্ণু, তা বাংলাদেশে নয়। সেখানকার মুসলমানরা সব সময় গরুর মাংসও খান। গরুর মাংস খেতে সমস্যা দেখা দিলে তাদের পক্ষে দাঁড়ান অনেক মানুষ। বাইরে বাজারে দাঁড়িয়ে গরুর মাংস খেতে পারাকে তারা বীরত্ব মনে করেননি। জীবনে বীরত্বের আরও অনেক কিছু আছে। 

বাংলাদেশে বই নিয়ে যে সব সমস্যা শুনি তাতে ছোটবেলার এসব বিষয় মনে পড়ল। আমাদের ছোটবেলায় বাংলাদেশে এসব সমস্যা ছিল না। পৃথিবী প্রতিদিন কোথায় চলে যাচ্ছে। আর বাংলাদেশের এসব লোকজন বিবি তালাকের মন্ত্র মুখস্ত করা নিয়ে ব্যস্ত। মুক্তিযোদ্ধারা জীবন দিয়ে কি দেশ দিয়ে গিয়েছিলেন। যে দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ আজও ঘোষণা দিয়ে জাতীয় সংগীত গায় না। বাংলাদেশে যারাই যখন সাম্প্রদায়িক সমস্যা সৃষ্টি করতে চেয়েছেন তারা কম পড়াশোনা করা, কম বিদেশ ভ্রমণকারী মানুষজন। অনেকে এখন মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছেন। তবে পড়তে নয়। শ্রম বিক্রি করতে। মধ্যপ্রাচ্যের আধুনিক জীবনধারণাও এদের সবার হয় না। বাংলাদেশের যারা চিকিৎসার জন্য, বিয়ের বাজার করার জন্য ভারতে যান, তাদের সবাই সেখানকার জীবন সংস্কৃতি জানতে যান না। ফেসবুকে মুসলমান হিন্দু, মৌলবাদী দুই দেশেই আছেন। এরা সংখ্যায় কম হলেও বিপজ্জনক। লেখক: অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সাংবাদিক। ফেসবুক থেকে 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়