শিরোনাম

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪০ দুপুর
আপডেট : ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ভোর থেকেই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠছে ইসরায়েল

ইরান থেকে ছোড়া নতুন দফার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর মধ্য ইসরায়েলের বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আছড়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি পুলিশ। 

বুধবার (১৮ মার্চ) স্থানীয় সময় ভোর ৫টার কিছু আগে তেল আবিব জেলা পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং বোমা ডিসপোজাল ইউনিটগুলো এই ধ্বংসাবশেষ পড়া এলাকাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে। 

পুলিশের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্রের অংশবিশেষ বা যুদ্ধাস্ত্রের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে এবং সেগুলো নিরাপদ করতে বিশেষ দল কাজ করছে। এই নতুন দফার হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।

জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা গেছে, একটি আবাসিক এলাকার রাস্তায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আছে এবং পাশে একটি যানবাহনে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত এই সুনির্দিষ্ট ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে কর্মকর্তারা সম্ভাব্য বিস্ফোরণ বা বিপদ এড়াতে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানগুলোকে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখ্য যে, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে বুধবার ভোরেই ইরানের অন্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্য ইসরায়েলে দুই জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছিল।

ইরানের এই উপর্যুপরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মূলত সম্প্রতি তাদের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যক্তিত্বদের ওপর ইসরায়েলি হামলার সরাসরি প্রতিশোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হলেও সেগুলোর ধ্বংসাবশেষ জনবহুল এলাকায় পড়ায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। 

তেল আবিব ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা ইসরায়েলের অভ্যন্তরে গভীর আঘাত হানতে বদ্ধপরিকর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি বাহিনীও বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। পাল্টাপাল্টি এই হামলার ফলে দুই দেশের বেসামরিক নাগরিকদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কা করছে। বুধবার ভোরের এই ধ্বংসাবশেষ পড়ার ঘটনাটি কেবল বস্তুগত ক্ষতি করলেও এর আগের প্রাণহানি পরিস্থিতিকে অনিয়ন্ত্রিত সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এই হামলার মাত্রা আরও কতটুকু বাড়বে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সূত্র: সিএনএন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়