শিরোনাম
◈ ‘দুই কেজি চাল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমারে গলা ধরে ধাক্কা দেয়’ ◈ নরসিংদীর ডিকশনারি থেকে চাঁদাবাজি শব্দটি মুছে ফেলতে চাই বলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বদলি ◈ ইরান এতগুলো দেশে প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবে ভাবিনি, আমরা হতবাক: ট্রাম্প ◈ যেসব এলাকায় বুধ ও বৃহস্পতিবার খোলা থাকবে ব্যাংক ◈ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ইউএনও আলাউদ্দিন ওএসডি ◈ ভিয়েনায় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য বৈঠক, নিরাপত্তা ও পুলিশ সংস্কারে সহযোগিতার আলোচনা ◈ জোর করে শক দিতে বাধ্য করা হতো: অনলাইন প্রতারণার আখড়া কম্বোডিয়ায় নির্যাতনের শিকার কর্মীদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা ◈ ঈদে চন্দ্রা টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের চাপ, ১০ কিমি দীর্ঘ যানজট ◈ শিলাবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ◈ না ফেরার দেশে অভিনেতা শামস সুমন

প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৫ রাত
আপডেট : ১৮ মার্চ, ২০২৬, ০২:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনে ‘ফাটল’, কাউন্টারটেরোরিজম প্রধানের পদত্যাগ

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। মঙ্গলবার নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সময় কেন্ট জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধকে তিনি ‘বিবেকবর্জিত’ বলে মনে করেন এবং এর সমর্থনে কাজ চালিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।

সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এই কর্মকর্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ইরান আমাদের দেশের জন্য কোনও আসন্ন হুমকি ছিল না। এটি এখন স্পষ্ট যে ইসরায়েল এবং সে দেশের শক্তিশালী আমেরিকান লবির চাপে আমরা এই যুদ্ধ শুরু করেছি।

সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত হুমকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এনসিটিসি’র প্রধান হিসেবে কেন্টের এই মন্তব্য ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরে বড় ধরনের ফাটল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সাবেক গ্রিন বেরে (স্পেশাল ফোর্সেস) সদস্য এবং সিআইএ’তে কাজ করা জো কেন্ট গত জুলাই মাসে ৫২-৪৪ ভোটে এই পদে নিশ্চিত হয়েছিলেন। ডানপন্থি চরমপন্থিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং ২০২০ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় নিয়ে ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী হওয়ার অভিযোগে ডেমোক্র্যাটরা শুরু থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তবে রিপাবলিকানরা তার সামরিক ও গোয়েন্দা অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তাকে যোগ্য মনে করেছিলেন।

কেন্টের এই পদত্যাগ প্রমাণ করছে যে ইরানে শক্তি প্রয়োগের যৌক্তিকতা নিয়ে খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠী এবং প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মধ্যেও গভীর অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে গত এক সপ্তাহে মিশিগানের একটি সিনাগগ এবং ভার্জিনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলার পর যখন দেশে অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উদ্বেগ তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটলো।

কেন্টের নিয়োগের বিরোধিতা করলেও তার পদত্যাগের কারণকে সমর্থন জানিয়েছেন সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সিনেটর মার্ক ওয়ার্নার। তিনি বলেন, তার অনেক অবস্থানের সঙ্গে আমি একমত নই, কিন্তু এই পয়েন্টে তিনি সঠিক। মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ শুরু করার মতো ইরানের কোনও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির প্রমাণ ছিল না।

আগামী সপ্তাহে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড, সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে ইরানের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৫ জন নিহতের ঘটনা প্রাধান্য পেতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, সেকেলে বা ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ওই হামলা চালানো হয়েছিল।

কেন্টের পদত্যাগ নিয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউজ বা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসি গ্যাবার্ডের দফতর থেকে কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ছয় বছর আগে হাওয়াইয়ের কংগ্রেস সদস্য থাকাকালীন গ্যাবার্ড নিজেই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের পরিণাম নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে পুরোদস্তুর যুদ্ধ ইরাক বা আফগানিস্তান যুদ্ধকে পিকনিকের মতো সহজ মনে করাবে। তবে গত মাসে অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গ্যাবার্ড এ বিষয়ে রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছেন।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধের পক্ষে একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ইসরায়েলের চাপে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে, এমন দাবি তিনি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। তবে হাউজ স্পিকার মাইক জনসন সম্প্রতি আভাস দিয়েছেন, ইসরায়েল একাই হামলা চালাতে বদ্ধপরিকর ছিল, যা ট্রাম্পকে একটি ‘কঠিন সিদ্ধান্তের’ মুখে ফেলে দিয়েছিল।

প্রশাসনে আসার আগে জো কেন্ট ওয়াশিংটন স্টেট থেকে দুবার কংগ্রেস নির্বাচনে লড়ে পরাজিত হন। সামরিক জীবনে ১১ বার স্পেশাল ফোর্সে মোতায়েন হওয়া এই কর্মকর্তা ২০২২ সালের প্রচারণার সময় ‘প্রাউড বয়েজ’-এর মতো চরমপন্থি গোষ্ঠীর সদস্যকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার পেছনে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের উসকানি ছিল, এমন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের দিক থেকেও তিনি মুখ ফিরিয়ে নেননি।

সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির রিপাবলিকান চেয়ারম্যান সিনেটর টম কটন এক সময় কেন্টের প্রশংসা করে বলেছিলেন, তিনি আমেরিকানদের নিরাপদ রাখতে জীবন উৎসর্গ করেছেন। সেই কেন্টের পদত্যাগ এখন ট্রাম্পের ইরান নীতিকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিলো।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়