‘আমার স্বামী মেলাই অসুস্থ। তিন বছর ধরে ক্যান্সার রোগে ভুগছে। রাত্রিবেলা বিছানায় একটু ঘুমায় না। শরীরের শিরাডা ধরে টাটায়। যেটুক সময় বিছানায় ঘুমায়, মাথাডা উঁচু করে ঘুমায়। কম কষ্টের জন্যি চাউল আনতি যাইনি।’ কথাগুলো বলছিলেন নড়াইলের নলদি ইউনিয়নের বাসিন্দা সাফিয়া বেগম (৩৪)। তার অভিযোগ, গতকাল সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সরকারি বরাদ্দের চাল নিতে নলদি ইউনিয়ন পরিষদে যান সাফিয়া বেগম।
এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাকে ধাক্কা দেন এবং একপর্যায়ে গলা চেপে ধরেন। এতে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তিনি। সাফিয়া বেগমের বাড়ি নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার নলদি ইউনিয়নের চাকুলিয়া গ্রামে। ১৬ বছর বয়সে জাহাঙ্গীর সঙ্গে সামাজিকভাবে বিয়ে হয় তার।
বিয়ের পর থেকে অভাব-অনটনের মধ্যে দিন কাটান সাফিয়া। গত তিন বছর হলো স্বামী জাহাঙ্গীর ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত। অন্যের বাড়ি কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে চার সদস্যের সংসার পরিচালনা করেন সাফিয়া। বড় ছেলে পারভেজ (১৭) ইটভাটায় কাজ করেন এবং মেয়ে রহিমা খানম মিঠাপুর মাদরাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
সাফিয়া বেগম আরো বলেন, ‘আমার মেয়েটা সেয়ানা হয়েছে।
মেয়েডারে ঈদের কাপড় কিনে দিতে পারিনি। কম কষ্টের জন্যি মানষির কাছে যাইনি। বাবার বাড়ি থেকে ৪ কানি জাগা কিনে দিছে, সেই জাগায় থাকি। অল্প বয়সে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে অভাব অনটনের সংসার। চাল আনতে চেয়ারম্যানের কাছে গেলে দুই কেজি চাল দেয়। দুই কেজি চাল দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আমারে গলা ধরে ধাক্কা দেয়, এরপর গলা চেপে ধরে রাখে।’
ঘটনাস্থলে প্রত্যক্ষদর্শী চাকুলিয়া গ্রামের পলি পারভিন বলেন, ‘আমাদের চাল আনতে যেতে বলা হয়েছে, আমরা গিয়েছি। আমার সঙ্গে সাফিয়া চাল আনতে গিছিল। সাফিয়ার স্বামীর ক্যান্সার হয়েছে সেটি সবাই জানে। মহিলাডারে যেভাবে গলা চাপে ধরেছে এটা আমরা সবাই দেখেছি। আমি প্রতিবাদ করতে গেলে আমাকে ও গলা টানে ছিঁড়ে ফেলার হুমকি দেন। সেখানে অনেক লোক উপস্থিত ছিল। একজন মহিলাকে গায় হাত দেওয়া এটা ঠিক হয়নি।’
মিঠাপুর গ্রামের শহিদ শেখ বলেন, ‘খুবই অসহায় সাফিয়া। অসুস্থ স্বামী নিয়ে সে খুব কষ্টে দিন পার করছে। অভাবের কারণে ১০ কেজি চালের জন্য চেয়ারম্যানের নিকট গেছে, তিনি এক জন চেয়ারম্যান হয়ে একজন মহিলা মানুষের গায়ে হাত দিল এর সঠিক বিচার আমরা চাই।’
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে নলদি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ পাখী বলেন, ‘ও মহিলা চাউল নিতে এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল। আমি তাকে মাথায় হাত দিয়ে বুঝিয়েছি। তাকে তো আমি চিনি না। পরে জানতে পারলাম তার বাড়ি চাকুলিয়া।’
লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী কায়সার বলেন, ‘এ বিষয়ে কেউ আমার কাছে অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সূত্র: কালের কণ্ঠ