শর্বাণী দত্ত: ‘নক্ষত্রের রাত-নাটকে মনীষার বাবা যে রাতে মারা গেলো, তার বোধহয় এক কি দু’দিন পর দুপুরে হঠাৎ বাড়ির কাজের লোক এসে জানিয়ে দিলো বাড়িতে কোনো বাজার সদাই নেই। মনীষার ফুপু তবু শুকনো গলায় হেসে বললো, বাজারের ব্যবস্থা আমি করছি-তুমি আপাতত আমাদের দুজনের জন্য কড়া করে দু’কাপ চা বানিয়ে আনো তো! কাজের লোক নির্বিকারভাবে উত্তর দিলো, চা পাতাও শ্যাষ। মনীষা তখন অল্প অল্প হাসছে; ফুপু জিজ্ঞাসা করলো, কি আশ্চর্য, হাসছিস কেন? এরপর মনীষা অদ্ভুত সুন্দর একটা কথা বললো।
‘সংসারের দাবি দেখে হাসছি। একটা মানুষ মরে গেলো এখনো গুনে গুনে ৪৮ ঘণ্টা হয়নি, এর মধ্যেও সব কি স্বাভাবিকভাবে চলছে। বাড়ির বাজার দু’দিন অপেক্ষা করছেনা, ক্ষুধাতৃষ্ণা কেউ, কিচ্ছু থেমে থাকছে না! কী অদ্ভুত তাই না এ সংসারের সবকিছু?’
‘নক্ষত্রের রাত’ নাটকে আমার অনেকগুলো প্রিয় সংলাপ আছে। তবু এই সংলাপটা নিয়েই আমি প্রায় ভাবি। ‘সংসারের দাবি’। সত্যিই ভারী অদ্ভুত এই সংসার। সবকিছু সাজাতে, গোছাতে আমরা নিরন্তর ছুটে চলি, কতো তাগিদ, কতো তাড়া! এই সংসারের প্রতিটা কোণায় তো তবে আমাদের ছাপ থেকে যাওয়ার কথাÑ অথচ অথচ আমরা চলে গেলে সংসারের কিছু থেমে থাকে না। বলতে গেলে একটা দিনের জন্যও না। সংসার তার সমস্ত দাবি নিয়ে নির্লজ্জ্বের মতো তাড়া দিতে থাকে। এতো ঠুনকো তবু এতো বন্ধন, যে এড়ানো যায় না। ভালো না বেসে থাকা যায়না, দায়িত্ব পালন না করে স্বস্তি আসে না... সংসার আসলেই বড় খারাপ জায়গা। ফেসবুক থেকে