মাহবুব কবির মিলন, ফেইসবুক থেকে: নেদারল্যান্ডস এর বেসরকারি গরুর খামারে গেলাম ভিজিটে। দুইশত গরু। সবগুলোর নম্বর দেয়া আছে। জিজ্ঞেস করলাম, তোমরা গরুকে এন্টিবায়োটিক দেয়ার প্রয়োজন হলে কী কর বা প্রটোকল কী। উত্তরে বলল, আমাদের দেশের সব গরুর খামার ন্যাশনাল ফুড সেইফটি অথোরিটির সার্ভারের সাথে যুক্ত আছে। আমরা প্রতিদিন ডাটা ইনপুট দেই সেখানে।
গরু অসুস্থ হলে এবং এন্টিবায়োটিক দেয়ার প্রয়োজন হলে তা সার্ভারে আপলোড করা হয় এবং যতদিন এন্টিবায়োটিকের কার্যকরীতা থাকে, ততদিন আমরা দুধ বিক্রি করি না।
সেই কয়দিন দুধ কী কর, জিজ্ঞেস করলাম তাকে। উত্তরে বলল, প্রতিদিন ঐ নম্বরের গরুর যে কয় লিটার দুধ হবে, তা ফেলে দেয়া হয় একটি নির্দিষ্ট জায়গায়। সব ডাটা প্রতিদিন আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
তোমরা যদি ডাটা না দাও, মানে গরু যে অসুস্থ, এন্টিবায়োটিক দিয়েছ, সেটা জানালে না বা এন্টিবায়োটিকের তথ্য দিয়ে দুধ ফেলে না দিয়ে বিক্রি করে দিলে। আমার প্রশ্ন।
আঁতকে উঠে বলল, বল কি!! যে খাদ্য মানুষ খায়, সেখানে ভেজাল বা কোনো অনিয়ম বা তথ্য গোপনের তো প্রশ্নই ওঠে না। এটা তো কোনো দেশে কেউ করবে না।
এবার আমি আঁতকে উঠে চুপ মেরে গেলাম। মুখ ফসকে কী যেন বলতে গিয়ে মুখ চেপে ধরলাম নিজের। যে দেশে শুধুমাত্র নামাজ জান্নাতের চাবিকাঠি, সে দেশে সবাই তো জান্নাতি। কোনো অনিয়ম, খাদ্যে ভেজাল, দুর্নীতি, হক ধ্বংস, জুলুম কিছুই নেই যে সেখানে।