শিরোনাম
◈ রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী ◈ বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে দুর্নীতি করে জাতিকে সংকটে ফেলেছে সরকার: মির্জা ফখরুল ◈ বিএনপির রাজনীতি মানেই সাম্প্রদায়িক রাজনীতি: কাদের ◈ দেশে ৫ কোটি ৫৬ লাখ ডোজের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ◈ জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়, দেশ পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ: জিএম কাদের ◈ রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে যোগাযোগ বন্ধ, আটকা পড়েছেন হাজারো পর্যটক ◈ রাশিয়ার চেয়ে আট গুণ ক্ষতির মুখে পড়বে ইউক্রেনের অর্থনীতি: বিশ্ব ব্যাংক ◈ যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন বৃহস্পতিবার ◈ খিলগাঁওয়ে বাসা থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার ◈ খেরসনের অংশবিশেষ পুনরুদ্ধার করেছে ইউক্রেন (ভিডিও)

প্রকাশিত : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৫৪ রাত
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ১১:৫৪ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাউডার-কেগ ক্রিটিক্যাল স্টেজে পৌঁছালে সামান্য স্পার্কেই এক্সপ্লোসিভ পার্কোলেশন ঘটায় 

কামরুল ইসলাম মামুন

কামরুল হাসান মামুন, ফেসবুক থেকে: মানুষের মধ্যে খণ্ড খণ্ড বিভাজিত ক্ষোভ যখন পুঞ্জিবিত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন ক্লাস্টার হিসাবে একটা ক্রিটিক্যাল অবস্থায় পৌঁছায় এইটাকে বলে powder-keg! অর্থাৎ ক্ষোভের ক্লাস্টারগুলোর সাইজ প্রায় সমান কিন্তু সংখ্যার দিক থেকে অনেক। এই পাউডার-কেগ এমন একটি ক্রিটিক্যাল স্টেজ-এ পৌঁছুতে পারে যেখানে সামান্য একটু স্পার্ক কোথাও হলে সেটা মুহূর্তের মধ্যে খণ্ড খণ্ড ছোট ছোট ক্ষোভের ক্লাস্টারগুলো একত্রিত হয়ে হঠাৎ ক্ষোভের বিশাল একটি ক্লাস্টারে পরিণত হয় - যাকে পদার্থবিজ্ঞানের ভাষায় এক্সপ্লোসিভ পার্কোলেশন বলে। স্পার্ক হলে পরে পাউডার কেগ ইফেক্ট disseminate হয় এক্সপ্লোশনের মত করে। আমি ২০১৭ সাল থেকে এই বিষয়ে গবেষণা করছি। ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে আমার বেশ কয়েকটি আর্টিকেল ফিজিক্যাল রিভিউ, সাইন্টিফিক রিপোর্টস এর মত জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং বর্তমানে আরো ৬টি আর্টিকেল পাইপলাইনে আছে। এইরকম ছোটখাটো এক্সপ্লোসিভ পার্কোলেশনের ঘটনা আমাদের দেশেও ঘটেছে যেমন নিরাপদ সড়ক আন্দোলন। এছাড়া মানুষের মধ্যে কিন্তু ক্ষোভের ক্লাস্টার পাউডার-কেগ তৈরী হয়ে আছে। যেকোন সময় যেকোন ঘটনা স্পার্ক করতে পারে। 
মাশা আমিনীর বয়স মাত্র ২২ বছর। প্রায় আমার কন্যা বিয়াংকার সমান। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়ে উঠতে না উঠতেই ইরানের মোরালিটি পুলিশের মোরালিটিগিরি দেখাতে গিয়ে মেরে ফেলে। এ কেমন দেশ যেই দেশে মোরালিটি পুলিশ বাসে, ট্রেনে, রাস্তায়, শপিং মলে অর্থাৎ ঘরের বাহিরে সর্বত্র শকুন চোখ নিয়ে খুঁজে বেড়ায় - কার হিজাব ঠিক নেই, কে ঢিলাঢালা পোশাকের বদলে টাইট পোশাক পরলো, কার চুল একটু খানি দেখা যায় ইত্যাদি। এই শকুন চোখা মানুষগুলো কারা? পুরুষ। অর্থাৎ পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সারাদিন নারীদের শরীর স্ক্যান করার। এইটা কি শরিয়তি কাজ? নারীদের অমন করে সারাদিন দেখা কি ভালো কাজ? এইবার বুঝুন ঐসব সমাজে পুরুষ হয়ে জন্মানো কতটা ব্লেসিং আর নারী হয়ে জন্মানো কতটা দুর্ভাগ্যের! এইজন্যই ঐসব দেশ থেকে একবার কোন নারী বিদেশে যেতে পারলে আর ফিরে যেতে চায় না। আমিনীর বাবা এক সাক্ষাৎকারে বলেছে মৃত্যুর পর তিনি মেয়ের সমস্ত শরীর পরখ করে দেখতে চান শরীরের কোথাও কোন জখম বা অত্যাচারের দাগ আছে কিনা। পুলিশ কেবল তার মেয়ের কেবল  ভধপব ধহফ ভববঃ ছাড়া শরীরের অন্য কোন অংশ দেখতে দেয়নি। 
মাশা আমিনীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানের মেয়েরা এখন রাস্তায় নেমে এসেছে। তারা উৎসবের সাথে তাদের হিজাব পুড়িয়ে প্রতিবাদ করছে, চুল কেটে পতাকা বানিয়ে মোরাল পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রতিবাদ করছে। পরিবর্তনের জন্য এইটাও হয়ত যথেষ্ট না। তবে এই ধরণের ঘটনা ঘটতে ঘটতে একদিন না একদিন এমন বিশাল আন্দলোন হবে যার মাধ্যমে phase transition  ঘটবেই।

কামরুল ইসলাম মামুন: অধ্যাপক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়