শিরোনাম
◈ তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বি মাওলানা ফারুকের ইন্তেকাল ◈ আরও ১৭১ খেলোয়াড় ক্রীড়া কার্ড পেলেন ◈ ওয়াশিংটনের দাবিকে ‘অবাস্তব’ আখ্যা, আলোচনায় না যাওয়ার ঘোষণা ইরানের ◈ যে জেলায় আগের দামেই মিলছে জ্বালানি তেল! ◈ ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন শেয়ার করায় গ্রেফতারের পর কারাগারে, সংসদে হাসনাত ও চিফ হুইপের মধ্যে বিতর্ক ◈ জোট শরিকরা সংরক্ষিত নারী আসনে কে কতটি পেল জামায়াত থেকে ◈ বিদ্যুৎ খাতে ৫২ হাজার কোটি টাকা বকেয়া, ঋণের বোঝা দেড় লাখ কোটি: সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী ◈ বাসে ৬৪ শতাংশ, লঞ্চ ভাড়া দেড়গুণ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব ◈ ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে পৌঁছাল মার্কিন দল ◈ সোমবার বগুড়ায় যাত্রা, ‘ই-বেইল বন্ড’ চালুর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত : ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৮:১০ রাত
আপডেট : ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ইসলামী ব্যাংক কেন খেয়ে দিচ্ছে বিএনপি? যা বললেন পিনাকী ভট্টাচার্য (ভিডিও)

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের এক সময়ের স্তম্ভ, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড কেন আজ পুনরায় চিহ্নিত লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এবং এর পেছনে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কোন শক্তি কাজ করছে, তা নিয়ে সম্প্রতি ইউটিউব ভিডিওতে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন প্রবাসী লেখক ও আলোচিত অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য। "ইসলামী ব্যাংক কেন খেয়ে দিচ্ছে বিএনপি?"—শীর্ষক এই আলোচনায় তিনি ব্যাংকটির পুনরায় দখল প্রক্রিয়া, লুটপাটের ধরণ এবং বর্তমান সংকটের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরেছেন।

​পিনাকী ভট্টাচার্য তার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, ইসলামী ব্যাংক এক সময় শুধু বাংলাদেশের নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী ও সফল ব্যাংক হিসেবে স্বীকৃত ছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্যাংকটি বারবার পুরস্কৃত হয়েছে। আইডিবি, কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস এবং দুবাই ইসলামী ব্যাংকের মতো বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই ব্যাংকের অংশীদার ছিল। গ্লোবাল ফিন্যান্স এবং দ্য ইকোনমিস্টের মতো আন্তর্জাতিক সাময়িকীগুলোতেও ইসলামী ব্যাংকের পারফরম্যান্স এবং ব্যালেন্স শিটের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছিল। ব্যাংকটি ছিল বাংলাদেশের রেমিট্যান্স আহরণের প্রধান মাধ্যম এবং দেশের শক্তিশালী অর্থনীতির এক নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।

​ভিডিওটিতে পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, হাসিনার আমলে ইসলামী ব্যাংকের এই পতন কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক ঘটনা নয়, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক চক্রান্ত। তিনি একে ‘অড জব ফর এ স্পাই এজেন্সি’ (গোয়েন্দা সংস্থার জন্য এক অদ্ভুত কাজ) হিসেবে অভিহিত করেন। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি ঢাকার একটি হোটেলে তৎকালীন ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এক প্রকার জিম্মি করে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই দখলদারিত্বের মাধ্যমে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয় দুর্ধর্ষ লুটেরা ও আওয়ামী দু:শাসনের অর্থ সরবরাহকারী এস আলম গ্রুপের হাতে।

​ব্যাংকটিকে দখলের পেছনে একটি শক্তিশালী ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করা হয়েছিল। পিনাকী জানান, ব্যাংকটির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘জঙ্গি অর্থায়ন’ বা ‘টেররিস্ট ফিন্যান্সিং’-এর অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ইসলামী ব্যাংক ধ্বংসের প্রক্রিয়ার ব্যবচ্ছেদ করতে গিয়ে দেশের সমালোচিত অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারাকাতের একটি পুরনো গবেষণাপত্র এবং তার তাত্ত্বিক অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। পিনাকীর মতে, ইসলামী ব্যাংককে আদর্শিকভাবে কোণঠাসা করার পেছনে ড. বারাকাতের ‘রাজনৈতিক অর্থনীতি’র তত্ত্ব একটি বড় ঢাল হিসেবে কাজ করেছে।

পিনাকী উল্লেখ করেন যে, ড. আবুল বারাকাত দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিশেষ তত্ত্ব প্রচার করে আসছিলেন, যা তার "The Economics of Fundamentalism and the Growth of Political Islam in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় উঠে এসেছে। এই তত্ত্বে বারাকাত দাবি করেছিলেন যে, বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী প্রতিষ্ঠানগুলো একটি ‘বিকল্প অর্থনীতি’ তৈরি করছে যা শেষ পর্যন্ত ‘মৌলবাদ’ ও ‘জঙ্গিবাদ’কে অর্থায়ন করছে। ড. বারাকাতের এই গবেষণাপত্রটি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের জন্য ইসলামী ব্যাংক দখলের একটি ‘ইন্টেলেকচুয়াল জাস্টিফিকেশন’ বা বুদ্ধিবৃত্তিক অজুহাত হিসেবে কাজ করেছিল। পিনাকী বলেন, যখন কোনো প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় শক্তিতে দখল করতে হয়, তখন তার আগে একটি ‘ন্যারেটিভ’ বা বয়ান তৈরি করতে হয় যে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জন্য ক্ষতিকর। ড. বারাকাত তার লেখনীর মাধ্যমে সেই বয়ানটিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।

প্রবাসী এই লেখক জানান, পশ্চিমা বিশ্ব এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে ব্যাংকটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এই অভিযোগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়। অথচ এর বিপরীতে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ কখনোই সামনে আনা হয়নি। এইচএসবিসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সাব-কমিটি রিপোর্টেও এই অভিযোগের কোনো সারবত্তা পাওয়া যায়নি। মূল লক্ষ্য ছিল ব্যাংকটিকে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া এবং আদর্শিক শত্রু মনে করে একে ধ্বংস করা।

​এরপর পিনাকী ভট্টাচার্য ভিডিওতে এস আলম গ্রুপের অধীনে ইসলামী ব্যাংকের অর্থ লুটপাটের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অসংখ্য ‘শেল কোম্পানি’ বা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া হয়েছে। তিনি একসেল ডাইং, আরাম স্পিনিং, এবিসি ভেঞ্চার্স এবং গ্র্যান্ড বিজনেসের মতো কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করেন, যাদের কোনো বাস্তব ব্যবসায়িক ভিত্তি নেই অথচ তারা ব্যাংক থেকে বিশাল অংকের ঋণ পেয়েছে।এই লুটপাটের ফলে ব্যাংকটি তার তারল্য সংকট বা লিকুইডিটি ক্রাইসিসে পড়ে।

​সে সময় ব্যাংকিং খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এই অনিয়মগুলো ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে বলে পিনাকী কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদেই এই লুটপাট সম্ভব হয়েছে। এমনকি ব্যাংকিং আইন পরিবর্তন করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে টাকা দিয়ে এই দেউলিয়া ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে, যা অর্থনীতিতে বড় ধরণের ‘মরাল হ্যাজার্ড’ বা নৈতিক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

​পিনাকী ভট্টাচার্যের মতে, ইসলামী ব্যাংকের পতন কেবল একটি ব্যাংকের পতন নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং হাজার হাজার আমানতকারীর আস্থার পতন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিকভাবে ব্যাংকটিকে ধ্বংস করা হয়েছিল কারণ এটি একটি বিশেষ রাজনৈতিক ধারার শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হতো। মালিকানা পরিবর্তনের পর ব্যাংকটি এমন এক অবস্থায় পৌঁছায় যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের জমানো টাকা ফেরত পেতে হিমশিম খায়।

পিনাকী ভট্টাচার্য তার আলোচনায় উল্লেখ করেন যে, ইসলামী ব্যাংকের ভয়াবহ ঋণ জালিয়াতি ও এস আলম গ্রুপের লুটপাটের খবর যখন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হতে শুরু করে, তখন সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। জালিয়াতির খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যাংকটি থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছিল। কোনো কোনো দিন এই অংক আরও বেশি ছিল।

বিপুল পরিমাণ আমানত তুলে নেওয়ার ফলে ব্যাংকটি তীব্র তারল্য সংকটে পড়ে। পিনাকী উল্লেখ করেন যে, ইসলামী ব্যাংক তার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যেখানে গ্রাহকদের ডিমান্ড ড্রাফট বা চেকের টাকা পরিশোধ করার মতো নগদ অর্থ ভল্টে ছিল না।

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে রাষ্ট্রক্ষমতায় পরিবর্তন আসে এবং পিনাকীর মতে, ইসলামী ব্যাংককে রক্ষায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বেশ কিছু শক্ত পদক্ষেপ নেয়। সরকার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে এস আলম গ্রুপের মনোনীত পর্ষদ ভেঙে দেয় এবং সেখানে সৎ ও দক্ষ পেশাদারদের নিয়োগ দেয়। পিনাকী উল্লেখ করেন যে, ইসলামী ব্যাংককে লুটেরাদের হাত থেকে মুক্ত করার এটিই ছিল প্রথম ধাপ। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রতিটি বড় লেনদেনের ওপর কঠোর নজরদারি শুরু করা হয়। বিশেষ করে এস আলমের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে আর কোনো অর্থ বের করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হয়।সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে আমানতকারীদের আশ্বস্ত করা হয় যে তাদের টাকা নিরাপদ। পিনাকী দাবি করেন, এই পদক্ষেপগুলোর কারণেই আমানত তুলে নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমে আসে এবং ব্যাংকটি আবার ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে।

ভিডিওতে পিনাকী ভট্টাচার্য তৎকালীন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের একটি কঠোর ও স্পষ্ট অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। ব্যাংকটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় ড. মনসুরের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। আহসান এইচ মনসুর অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে, "লুটেরাদের আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।" তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, যারা ব্যাংক থেকে বেনামি ঋণের নামে টাকা সরিয়ে নিয়েছে, তাদের সম্পদ বিক্রি করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।

পিনাকী উল্লেখ করেন যে, মনসুর ব্যাংকটিকে আন্তর্জাতিক অডিট বা নিরীক্ষার আওতায় আনার ওপর জোর দিয়েছিলেন যাতে লুটপাটের প্রকৃত চিত্র বের হয়ে আসে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা যায়।তিনি বারংবার সাধারণ আমানতকারীদের আশ্বস্ত করেছেন যে, ব্যাংক খাতের এই ক্ষত সারাতে সময় লাগলেও সরকার কোনো ব্যাংককে বন্ধ হতে দেবে না।

পিনাকী ভট্টাচার্যের মতে, ৫ আগস্ট পরবর্তী এই প্রশাসনিক কঠোরতা ইসলামী ব্যাংককে একদম খাদের কিনারা থেকে ফিরে আসতে সাহায্য করেছে। এসব কারণেই বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরকে সরানোর জন্য পর্দার আড়ালে গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়।

এরপর ইসলামী ব্যাংককে পুনরায় এস আলম বা পুরনো লুটেরা গোষ্ঠীর হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপির তথাকথিত ভূমিকা ও উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন পিনাকী।তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিএনপি এবং তার ভেতরের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইসলামী ব্যাংককে পুনরায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে এবং পরোক্ষভাবে এস আলম গ্রুপের মতো লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

'তিনি ব্যাংক রেজোলিউশন অ্যাক্ট’ নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকগুলোকে যেভাবে লুটপাট করার সুযোগ দিয়েছিল, বর্তমান সময়ে বিএনপি সেই একই ধারা বজায় রাখতে চাইছে। পিনাকীর মতে, বিএনপি একটি বিশেষ আইন বা ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের রেখে যাওয়া দায়ভার সাধারণ মানুষের কাঁধে চাপিয়ে দেওয়া যায়।

পিনাকী অভিযোগ করেন যে, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের লুটপাটের পরিমাণ কত তা নির্ধারণের জন্য বারবার ‘অডিট’ করার কথা বলা হচ্ছে। তার মতে, এটি একটি সুপরিকল্পিত কালক্ষেপণ। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান প্রশাসন এবং বিএনপির থিংক-ট্যাঙ্ক এই অডিটের মাধ্যমে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করছে যেখানে এস আলমের শেয়ারগুলো সরাসরি বাজেয়াপ্ত না করে বরং সেগুলোকে কৌশলে রক্ষা করা যায়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন লুটপাটের প্রমাণ দিবালোকের মতো স্পষ্ট, তখন নতুন করে অডিটের নামে সময় নষ্ট করার উদ্দেশ্য কী?

ভিডিওর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পিনাকী দাবি করেন যে, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান বোর্ডে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন কিছু ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে যারা ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির সাথে যুক্ত থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে এস আলম গ্রুপের সুবিধাভোগী। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি এখন এই ‘ডাবল এজেন্ট’দের ব্যবহার করে ব্যাংকটিকে পরিচালনা করছে। এর ফলে ব্যাংকের ভেতরে থাকা এস আলমের পুরনো কর্মকর্তাদের সরানো হচ্ছে না, বরং তারা আগের মতোই প্রভাবশালী অবস্থানে থেকে ব্যাংকের তথ্য ও সম্পদ সরিয়ে ফেলার সুযোগ পাচ্ছে।

পিনাকী একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, বিএনপির প্রভাবশালী শীর্ষ নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের সাথে এস আলম গ্রুপের ব্যবসায়িক ও পারিবারিক যোগসূত্র রয়েছে। এই সম্পর্কের কারণেই বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে এস আলমের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো অবস্থান নিচ্ছে না। বরং তাদেরকে পুনর্বাসন করছে।

আলোচিত এই অনলাইন অ্যাক্টিভিটি বলেন, "এস আলম গ্রুপের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি সৈয়দ হাবিব হাসনাত হলেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের আপন ভায়রা ভাই। ২০১৫ সালের ১০ই মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে এস আলমের ব্যাংকার এই হাসনাতের বাসা থেকেই সালাউদ্দিন আহমেদকে তুলে নেওয়া হয়েছিল বলে জানান পিনাকী। গণঅভ্যুত্থানের পরে যখন দেশে তিনি ফিরে আসলে এই এস আলমের গাড়িতে করে সংবর্ধনা নিয়েছেন। পরে তিনি অবশ্য অবশ্য দাবি করেছিলেন যে তিনি জানেন না। পরে হাবিব হাসনাত হয়ে গেলেন বিএনপি নেতা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের পটিয়া আসন থেকে বিএনপি থেকে  নমিনেশন নেওয়ার জন্য তদবিরও করেছিল, যে পটিয়া থেকে এস আলম হাজার হাজার অদক্ষ কর্মী ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগ দিয়েছিল।

সৈয়দ হাবিব হাসনাত ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়ার প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। পিনাকী ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন যে, এই পারিবারিক সম্পর্কের কারণেই কি বিএনপি ইসলামী ব্যাংকের এই বিপুল লুটপাটের বিরুদ্ধে জোরালো কোনো অবস্থান নিচ্ছে না বা নীরব ভূমিকা পালন করছে।

পিনাকী বিএনপির সাথে যোগসূত্র তুলে ধরে বলেন, "হাসিনার আমলে এস আলম ব্যাংক লুট করেছে, তার প্রধান সহযোগী ছিল বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের ভাইরা এই হাবিব হাসনাত। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর সেই লুটেরাদের ফিরে আসার আইন বানাচ্ছে। সালাউদ্দিনের ছেলে বহু আগে থেকেই এস আলমের অফিসে বসেন। হাসিনা পালানোর পর এস আলম পরিবারের সম্পদের অলিখিত নিয়ন্ত্রণ সালাউদ্দিন পরিবারের হাতে। এস আলম ও সালাউদ্দিন দুইটা আলাদা নাম কিন্তু একই স্বার্থ।"

উপসংহারে পিনাকী আক্ষেপ করে বলেন, বিএনপির সুযোগ ছিল জনতার শক্তির উপর ভরসা করে এই ফ্যাসিস্ট কাঠামোর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, ভেঙে ফেলা। তারা সেটা করল না বরং তারা এটা আরো শক্তিশালী করল। তারা বিএনপি'র অধীনে হাসিনার মত একটি ফ্যাসিস্ট শাসন চাই।"

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়