শিরোনাম
◈ ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ভুয়া ভোটার সন্দেহে আটক ৩ শিক্ষার্থী ◈ পুলিশের দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয় বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ কুষ্টিয়ায় ৬ জনকে হত্যার মামলায় হানিফের মৃত্যুদণ্ড, ৩ আওয়ামী লীগ নেতার আমৃত্যু কারাদণ্ড ◈ সরকারি এলপিজির দাম ৭৭৭ টাকা, কোথায় যায় কারা পায়: ধরাছোঁয়ার বাইরে সাধারণ মানুষ ◈ ভুয়া এনআইডিতে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিচ্ছেন রোহিঙ্গারা, পুলিশ ভেরিফিকেশন ফেরানোর চিন্তা ◈ বাকি টাকা মাগরিবের আগে পাঠান, না হলে বোটে আগুন জ্বালিয়ে দেব: যুবদল নেতার সঙ্গে মৎস্য কর্মকর্তার অডিও ভাইরাল ◈ গাজীপুরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে বাসায় হামলা, আহত দম্পতির অভিযোগ মামলা নেয়নি পুলিশ ◈ ৯৯৯-এ কল পেয়ে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার, পকেটে আইফোন, হাতে ঘড়ি—যেভাবে শনাক্ত হলো ◈ হায়দরাবা‌দে টেনিসের জমিতে মসজিদ গড়ছেন সানিয়া মির্জা, বিতর্ক তুঙ্গে! ◈ হাসিনার পালানোর ভিডিও ধারণ নিয়ে আলোচনায় আসা সাবেক লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত : ০৯ জুন, ২০২৬, ০৯:০২ রাত
আপডেট : ২২ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কী থাকবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যুক্ত হতে যাওয়া নতুন চার বিষয়ের মধ্যে?

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন।। ২০২৮ সাল থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার, সেখানে নতুন আরও চারটি বিষয় যুক্ত করা হবে।

সেগুলো হলো– আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা।

শিক্ষার্থীদেরকে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টি চতুর্থ শ্রেণি থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে পড়তে হবে।

আর মাধ্যমিক স্তরে পা রাখার পর, অর্থাৎ ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তাদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' এবং 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' পড়তে হবে।

Advertisement

নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় আরেকটি ভাষা শিক্ষায়ও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

কী থাকবে এসব বিষয়ে
সোমবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

মঙ্গলবার মাহ্দী আমিন ও ববি হাজ্জাজ, উভয়ের সাথে কথা বলে বিবিসি বাংলা।

আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা — মানে কী, মূলত কী থাকবে এগুলোতে, কারা পড়াবেন, কীভাবে পড়াবেন, এসব জানতে চাওয়া হয় তাদের কাছে।

এসব প্রশ্নের জবাবে ববি হাজ্জাজ খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় দু'টো নিয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেন, স্কুলে স্কুলে বিভিন্ন খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চা চালু থাকলেও এগুলোর কোনোটিই বর্তমান শিক্ষাক্রমের অংশ না এবং আগেও কখনও ছিল না।

কিন্তু ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সবসময় শিক্ষাক্রমে থাকা উচিৎ উল্লেখ করে তিনি বলেন যে, সেজন্যই সরকার যত শীঘ্র সম্ভব এই বিষয় দু'টোকে শিক্ষাক্রমে যুক্ত করবে।

তবে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার কারণে সবগুলো বিষয় প্রথম দিন থেকেই কার্যকর করতে পারবে না সরকার।

"যেমন, আমরা প্রাথমিকে আটটি খেলা যুক্ত করতে চাই। কিন্তু একবারে এটি সম্ভব না। তাই, আমরা চেষ্টা করবো অন্তর দুই-তিনটি খেলাকে যোগ করতে," বলছিলেন তিনি।

অর্থাৎ, আপাতত ফুটবল, দাবাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। বাকীগুলো পরে যোগ করা হবে।

অবশ্য মাহ্দী আমিন জানিয়েছেন, ক্রিকেটকেও এখন থেকেই যুক্ত করা যেতে পারে।

সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও তাই। গান, আবৃত্তি, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা্র মতো বিষয়গুলো থাকবে।

তবে সংস্কৃতি বিষয়টিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক. পারফরমেটিভ। দুই. এক্সপ্রেসিভ।

"গান, নাচ, বক্তৃতা, পেইন্টিং, সাহিত্য ইত্যাদি থেকে শিক্ষার্থীরা বাছাই করতে পারবে যে সে কোনটি নিবে। পাইলটের পরে এগুলো পরিবর্তন হবে," বলছিলেন ববি হাজ্জাজ।

পারফরমেটিভ বলতে বোঝানো হচ্ছে যে শিক্ষার্থীরা কোনো শিল্প বা সাংস্কৃতিক কাজ সরাসরি পরিবেশন করবে। অর্থাৎ, শিক্ষার্থীকে অন্যদের সামনে নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করতে হয়। আর এক্সপ্রেসিভে মঞ্চে পরিবেশনের চেয়ে নিজের ভাবনা বা অনুভূতি প্রকাশের বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখানে মূল বিষয় হলো সৃজনশীলভাবে নিজেকে প্রকাশ করা।

'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা' কী? জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, "কারিগরি শিক্ষাকে সমাজের চোখে ভিন্ন চোখে দেখা হয়। এই ধারণা ভেঙ্গে আমরা এটিকে মূলধারার শিক্ষায় আনতে চাই। আমরা চাই, বাংলাদেশের সব স্কুলে যেন একটি করে কারিগরি ল্যাব থাকে।"

এতে করে পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাটা সুনিশ্চিত করা যাবে বলে মত তার।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একমাত্র পথ নয়। অনেক শিক্ষার্থী যদি স্কুল পর্যায় থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে না গিয়েও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে এবং স্বাবলম্বী হতে পারবে।

লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস কী?
এখন থেকে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদেরকে 'কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা'র পাশাপাশি 'আনন্দময় শিক্ষা' বা 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' নামক বিষয়টিও পড়তে হবে।

কিন্তু যে কোনো শিক্ষাই তো আনন্দময় হওয়া উচিৎ। তাহলে 'আনন্দময় শিক্ষা' নামক আলাদা একটি বিষয় চালু করার কারণ কী? কী থাকবে এই বিষয়ে?

এ নিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, "লার্নিং উইথ হ্যাপিনেসের দুইটা দিক আছে।"

"এক, এটা হলো পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার ভ্যালু ও প্রিন্সিপ্যাল। যেভাবে আমরা শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই, যে আনন্দময় শিক্ষাব্যবস্থা হবে, উৎসবমুখর পরিবেশে ক্লাস করবে।"

অর্থাৎ, তিনি বোঝাতে চাইছেন যে 'আনন্দময় শিক্ষা' কেবল কোনো আলাদা বিষয় নয়। বরং, পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে কীভাবে পরিচালনা করা হবে, তার একটি নীতি হলো এটি। শিক্ষার্থীরা যেন ভয় বা চাপ থেকে না, বরং অংশগ্রহণমূলক পরিবেশে আনন্দ নিয়ে পড়ে, শেখে।

"দুই, এই সাবজেক্টের মাধ্যমেই তারা নীতি, পারিবারিক মূল্যবোধ, পারিবারিক সুশিক্ষা শিখবে।"

অর্থাৎ, à¦