মনিরুল ইসলাম: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের ঘোষণায় তিনি জানান, তাকে টার্গেট করা হয়েছিল এবং দলকে বিব্রত করতে চান না বলেই পদ থেকে অব্যাহতি নেন। আজ সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।
ইশরাক বলেন, ‘আজকের দিন (সোমবার) হতে প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি চেয়েছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। আমি উনাকে বলি—আমি পদত্যাগ করতে চাই। আমার কারণে আপনার কর্মকাণ্ড ম্লান না হয়ে যায়, দল না বিব্রত হয়। তবে মাদকের বিরুদ্ধে আমি যে শুরু করেছি, তা যেন অব্যাহত থাকে।’
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমি সেদিন কোনো ভুল করিনি।’
এ সময় গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ইশরাক। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘দুই–তিন দিন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে। দেশি বিদেশি গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক কিছুটা সত্য, কিছুটা অতিরঞ্জিত। কল্পকাহিনী বানানো হয়েছে। আমাকে টার্গেট করা হয়েছে। আমাকে হেয় করা হয়েছে। দল ও বিব্রত হয়েছে।
তিনি জানান, মাদককে নির্মূলের মূল উদ্দেশ্য থেকে দৃষ্টি ভিন্ন দিকে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জমি দখল করতে যাই নাই, চাঁদা উঠাইতেও যাই নাই, মাদক নির্মূলের উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম। আমার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য একটি আগ্নেয়াস্ত্র সঙ্গে ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা থেকে আমি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েছিলাম।’
ঘুণ্টিঘর এলাকাকে মাদকের ডিস্ট্রিবিউশন এরিয়া বা বিস্তার এলাকা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী এ নিয়ে অভিযোগও করে আসছিলেন। স্থানীয় লোকেরা ভয় থেকে মুখ খোলে না।’
এর আগে অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাক হোসেনকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ দেন তারেক রহমান।