শিরোনাম
◈ এভিয়েশন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী ইতালি, বাংলাদেশে গড়তে চায় এমআরও হাব ◈ রাশিয়ার পর বাংলাদেশের পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের নজর ◈ বুক কাঁপছে আতঙ্কে, তবু থামছে না জীবিকার লড়াই : জীবিকার টানে সৌদি ফিরছেন প্রবাসীরা ◈ রাত গভীর হলেই বাড়ে বিদ্যুতের চাহিদা, ৩ হাজার মেগাওয়াট যাচ্ছে কোথায়? ◈ ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেস, ওঠা যাবে যেসব স্টেশন থেকে ◈ ওয়ান‌ডে সি‌রি‌জে অ‌স্ট্রেলিয়ার কা‌ছে হোয়াইট ওয়াশ বাংলাদেশ নারী দল  ◈ দেশের আট বিভাগে হচ্ছে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, বাড়বে সাইবার অপরাধ দমনের সক্ষমতা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ভারতের আন্দোলনে পথ দেখিয়েছে বাংলাদেশের তরুণরা: নেহা বোরা (ভিডিও) ◈ যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে বড় পরিবর্তন, মেয়াদ শেষ হলেই বন্ধ কাজের সুযোগ ◈ আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন

প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ০৯:২১ রাত
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

দেশ গঠনে ব্যক্তিগত উদ্যোগের মানুষদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: প্রধানমন্ত্রী

মনিরুল ইসলাম : সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে। দেশ গঠনে নায়লা শারাফ, মো. আলতাফ হোসেন ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের মতো মানুষের আরও বেশি প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বুধবার  ১৪ অক্টোবর বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নিজ কর্ম ও উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা তিন ব্যক্তি হলেন—বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে প্রায় তিন দশক ধরে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু সাক্ষাতের বিষয়টি জানান।

Advertisement

দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তিন ব্যক্তির জীবনসংগ্রাম, ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তাদের প্রত্যেকের কাজের প্রশংসা করেন এবং এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।’

নিজ নিজ অবস্থান থেকে সমাজের মানুষের জন্য কাজ করে যাওয়া ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষের কল্যাণে কাজ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগ সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

বুয়েটের প্রকৌশলী থেকে শিশুদের শিক্ষক নায়লা শারাফ

প্রচলিত পেশাগত সাফল্যের ধারণা থেকে বেরিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নায়লা শারাফ। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। পরে জনতা ব্যাংকেও কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন।

এ ছাড়া ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন তিনি। এত সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন নায়লা।

গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ ও আনন্দদায়ক করতে নিজেই তৈরি করছেন বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

শিক্ষার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকা শিশুদের শেখার প্রক্রিয়াকে সহজ করার এই উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় বহন করে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নায়লা শারাফের ব্যতিক্রমী পেশা নির্বাচন এবং শিশুদের শিক্ষায় তাঁর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

দুই হাত নেই, পা দিয়ে লিখেই গড়েছেন বিদ্যালয়

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মানুষের স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না, তার অনন্য উদাহরণ নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন।

জন্ম থেকেই তাঁর দুই হাত নেই। কিন্তু এই শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁকে থামিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করে নিজের জীবনকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।

২০০৭ সালে নরসিংদীর পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়টি গড়ে তোলেন তিনি।

বর্তমানে তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়ে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাদের পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন ১০ জন শিক্ষক। নিজের পা দিয়েই লেখালেখি ও বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করেন আলতাফ হোসেন।

নিজের প্রতিকূলতাকে জয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি শুধু নিজের স্বপ্নই বাস্তবায়ন করেননি, বরং এলাকার শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতেও ভূমিকা রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আলতাফ হোসেনের জীবনসংগ্রাম ও বিদ্যালয় পরিচালনার বিষয়টি উঠে আসে। তাঁর কথা শুনে বিদ্যালয়ের জন্য নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলে জানান উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।

তিন দশক ধরে গাছ লাগিয়ে দৃষ্টান্ত বাবুলের

পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনকল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগের আরেক অনন্য উদাহরণ ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। ইমামতির পাশাপাশি প্রায় তিন দশক ধরে নিজের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে বিভিন্ন সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন তিনি।

বৃক্ষরোপণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিজের পৈতৃক সম্পত্তিও বিক্রি করেন বাবুল। সেই অর্থ দিয়ে একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। পরে নার্সারিতে উৎপাদিত চারা বিভিন্ন এলাকায় রোপণ করতে শুরু করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় তাঁর লাগানো অনেক গাছ এখন বড় হয়েছে। এসব গাছের ছায়া উপভোগ করছেন পথচারীরা। ব্যক্তিগত উদ্যোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও মানুষের উপকারে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।

নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পরিবেশের জন্য কাজ করার এই উদ্যোগ এলাকায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবুলের দীর্ঘদিনের বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তাঁকে নিজের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

ব্যক্তিগত উদ্যোগেই বদলাতে পারে সমাজ

নায়লা শারাফ, আলতাফ হোসেন ও রেজাউল কিবরিয়া বাবুলের কর্মযজ্ঞের ধরন আলাদা। একজন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছেন, অন্যজন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। আরেকজন দীর্ঘদিন ধরে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখছেন।

  • সর্বশেষ