ডেস্ক রিপোর্ট : জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের বিষয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা পৃথক দুটি রিট পিটিশন খারিজ করে হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রকাশিত রায়ে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, গ্রামীণফোনের শেয়ারের প্রকৃত মালিক গ্রামীণ টেলিকম; গ্রামীণ কল্যাণ কেবল একটি চুক্তির অধীনে অর্থের অংশীদার হলেও সরাসরি শেয়ারহোল্ডার নয়। ফলে এই আয়কে ‘লভ্যাংশ আয়’ দেখিয়ে কম হারে কর দেয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং প্রদেয় রাজস্ব সরকারের কাছে অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। একই সাথে গ্রামীণ কল্যাণের নিকট থেকে অনাদায়ী কর আদায়ের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে চাহিদা পত্র জারি করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। -- স্টার নিউজ
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন । সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত রায়ের একটির ৩২ পৃষ্ঠা (রিট পিটিশন নং ১৪৩৬৪/২০১৭) এবং অন্যটির ১৫ পৃষ্ঠা (রিট পিটিশন নং ১৭৭২৭/২০১৭)।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গ্রামীণ কল্যাণ বিভিন্ন দাতা সংস্থার অনুদান ও ঋণ সমন্বয়ে গঠিত ৩২০, ১৮, ৫৪, ৪০৪ টাকার একটি এন্ডোমেন্ট ফান্ডের অর্থ নিয়ে ২০১১ সালের ১৩ এপ্রিল গ্রামীণ টেলিকমের সাথে একটি নিবন্ধিত ‘ইকুইটি পার্টিসিপেশন এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষর করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোন লিমিটেডের শেয়ার কেনার উদ্দেশ্যে গ্রামীণ কল্যাণ মোট ৫৩ কোটি ২৫ লাখ ৬২,৯৪১ টাকা প্রদান করে এবং বিনিময়ে অর্জিত আয়ের ৪২.৬৫ শতাংশ পাওয়ার সুযোগ পায়।
পরবর্তী সময়ে ২০১২-২০১৩ থেকে ২০১৬-২০১৭ করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণ তাদের রিটার্নে এই প্রাপ্ত আয়কে ‘ডিভিডেন্ড ইনকাম’ বা লভ্যাংশ আয় হিসেবে প্রদর্শন করে এবং ডিভিডেন্ডের জন্য নির্ধারিত মাত্র ২০ শতাংশ হারে কর হিসেব করে জমা দেয়।
হাইকোর্ট রায়ে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার চুক্তির ২ নম্বর শর্ত উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেন, চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা ছিল, গ্রামীণ কল্যাণ অর্থ সহায়তার বিনিময়ে গ্রামীণ টেলিকমের কাছে কখনোই গ্রামীণফোনের শেয়ারের মালিকানা দাবি করতে পারবে না।
আদালত আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ২(২৬) ধারা বিশ্লেষণ করে বলেন, আইনিভাবে ‘ডিভিডেন্ড’ সুবিধা পেতে হলে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে অবশ্যই সরাসরি ‘শেয়ারহোল্ডার’ হতে হবে। যেহেতু গ্রামীণ কল্যাণ সরাসরি গ্রামীণফোনের শেয়ারহোল্ডার নয়, তাই তাদের অর্জিত এই অর্থকে লভ্যাংশ হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ আইনত নেই। এই আয়কে আয়কর অধ্যাদেশের ৩৩ ধারা অনুযায়ী ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’ হিসেবে গণ্য করতে হবে, যার ওপর আয়কর প্রদান করতে হবে।
হাইকোর্ট চূড়ান্ত আদেশে গ্রামীণ কল্যাণের দায়ের করা দুটি রিট পিটিশনের রুল খারিজ করেছেন এবং পূর্বে দেয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করেছেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ কল্যাণের নিকট থেকে অনাদায়ী কর আদায়ের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে চাহিদা পত্র জারি করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিবাদীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।