জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে আগামী বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মুহাম্মদ শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সচিবালয় ভবনের ৩৪তম তলায় দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিনই (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে অংশ নেবেন তিনি। নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে তার সম্ভাব্য ভাষণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই দিন বিকেল ৩টায় অধিবেশন শুরু হবে এবং বিকালের অধিবেশনে নির্ধারিত ১৮ জন বক্তার মধ্যে তারেক রহমান ১১তম বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
ভাষণের আগে বৃহস্পতিবার সকালেই সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অস্তিত্বগত হুমকি মোকাবিলাবিষয়ক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে পাঁচ মিনিটের উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।
এরপর দুপুরে মাতৃ ও নবজাতকের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু বন্ধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় মিডওয়াইফারি অন্তর্ভুক্তিবিষয়ক আরও একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন তিনি। উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণীর সমাপনী বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
পরবর্তী সূচি অনুযায়ী, দুপুর ২টা ১৫ মিনিট থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে ৩টা পর্যন্ত 'ইউএন বাইল্যাটেরাল বুথে' থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি।
এর আগে দুপুর ১টা ১০ মিনিটে সুইডেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বিনিময় ও ফটোসেশনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
প্রেস উইং আরও জানায়, সাধারণ অধিবেশনে ভাষণদান শেষে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন অথবা তার থাকার জন্য নির্ধারিত হোটেল 'হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে' ফিরবেন। পরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির কার্যালয়ে আয়োজিত এক নৈশভোজে যোগ দেবেন তিনি।
পরের দিন শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ম্যানহাটনে জেপি মরগানের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটি আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক প্রাতঃরাশ বৈঠকে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ১১টায় কুয়েতের স্থায়ী মিশনে দেশটির ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ খালেদ আল-হামাদ আল-সাবাহর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তিনি।
এরপর দুপুরে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট প্রিন্স জায়েদ আল হুসেইনের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেবেন। যেখানে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রবণতা ও নানা ঝুঁকি নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হবে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াতে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সফর শেষে ওই দিনই (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্লাইটটি ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় (দুবাই সময়) দুবাই পৌঁছাবে।
এরপর ২৭ সেপ্টেম্বর রাত ২টায় দুবাই থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
সূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড