রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, এতে শুরুতে লাইভ টেলিকাস্ট হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান ইসি সচিব।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটের তারিখ রেখে তফসিল দেয় ইসি। এবার বিএনপি ও জামায়াত জোট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হতে পারে।
ভোটদান পদ্ধতি বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ সদস্যরা তাঁদের নিজ নিজ আসনে বসবেন। নির্বাচন কমিশনের সহায়তাকারী কর্মকর্তারা (স্পিকারসহ ২০ জন) ব্যালট পেপার সদস্যদের কাছে পৌঁছে দেবেন। সদস্যরা তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে চিহ্নিত করে সামনে রাখা তিনটি ব্যালট বক্সের যেকোনোটিতে ভোট প্রদান করবেন।
গণনা ও ফলাফল ঘোষণা বিষয়ে ইসি সচিব জানান, বিকেল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে অধিবেশন কক্ষেই ভোট গণনা করা হবে। মোট ব্যালট সংখ্যা ৩৪৯টি। গণনা শেষে প্রাথমিক ফলাফল সেখানে সিইসি (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) ঘোষণা করবেন এবং পরবর্তীতে সচিবালয় থেকে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করা হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংসদ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে এবং সংবাদকর্মীদের জন্য নির্ধারিত বসার ব্যবস্থা থাকবে।
ইসি সচিব বলেন, ব্যালট পেপারের দুটি অংশ থাকবে। একটা হচ্ছে মুড়ি-এতে ক্রমিক নম্বর, ভোটারের নাম, বিভক্তি নম্বর এবং স্বাক্ষরের জায়গা থাকবে। অন্য অংশে এতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে এবং পাশে ভোটারকে নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত থাকবেন এবং তাঁদের জন্য আলাদা আইডি কার্ড থাকবে। নির্বাচন কমিশনারগণও উপস্থিত থেকে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতিতে নির্বাচন হচ্ছে। তাঁরা প্রত্যক্ষ করবেন।
সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আখতার আহমেদ আরও বলেন, প্রার্থীর নামের পাশে ভোটারকে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করতে হবে।
এমপিরা নিজ দলের প্রার্থীর বিপক্ষে ভোট দিলে, তা ৭০ অনুচ্ছেদের আওতায় পড়বে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটি একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন এবং নির্বাচনের পদ্ধতিগত বিষয়ের বাইরে। তাই রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে এর উত্তর জেনে নেওয়াই ভালো।