শিরোনাম
◈ গাবতলী থেকে পুরান ঢাকা হয়ে নারায়ণগঞ্জ রুটে আসছে মেট্রোরেল ◈ মামলা কমিয়ে খেলাপি ঋণ আদায়ে নতুন কৌশল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ◈ পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন তথ্য দিলেন অর্থ উপদেষ্টা ◈ দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের আলোচনা ◈ আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে বিএনপি: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ◈ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও ৭০ অনুচ্ছেদ: জুলাই সনদে যেসব পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল ◈ বাবাজী, আমার যৌবন বা বেডরুম নিয়ে মিছামিছি দিবা স্বপ্ন দেখা বন্ধ করুন: বাবা রামদেবকে বললের কঙ্গনা ◈ হোটেল নোংরা করার অভিযোগ, জেমসের মুখপাত্র বললেন ‘রুমটি জেমসের ছিল না’ ◈ রাষ্ট্রপতির শপথ, শুক্রবার বন্ধ থাকবে যেসব সড়ক ◈ জলাবদ্ধতায় এইচএসসি পরীক্ষা দিতে না পারা শিক্ষার্থীদের ৩ বিষয়ের পরীক্ষা কবে, জানুন কেন্দ্র ও কারা দিতে পারবেন

প্রকাশিত : ১১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:৩৭ রাত
আপডেট : ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ০১:০০ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রীসভায় রদবদলের ইঙ্গিত: পারফরম্যান্স রিপোর্টেই নির্ধারিত হবে মন্ত্রীসভার ভাগ্য

মনিরুল ইসলাম: সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্তি সামনে রেখে আগামী আগস্টে মন্ত্রীসভায় সম্ভাব্য রদবদল ও মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। যদিও সরকারিভাবে এখনো এ বিষয়ে কোনও ঘোষণা আসেনি, তবুও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়,কর্মদক্ষতা মূল্যায়নই মূল ফ্যাক্টর। সরকার গঠনের সময় থেকেই মন্ত্রীদের কাজের ওপর নিবিড় নজরদারি রাখা হচ্ছে। ছয় মাস পূর্তির এই সময়টিকে একটি মূল্যায়ন পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে কিছু মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আনা হতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা  বলেন, প্রথম ছয় মাস  পারফরম্যান্স পর্যবেক্ষণ করা হবে—এটা শুরুতেই বলা হয়েছিল। এখন সেই মূল্যায়নের সময় এসেছে। সবকিছু বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট  সূত্রগুলো বলছে, যেসব মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের কাজের চাপ কমাতে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক কার্যক্রমে ধীরগতি ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে সরকারের উচ্চপর্যায়ে। এ অবস্থায় কার্যকরতা বাড়াতে কিছু মন্ত্রণালয় পুনর্গঠন কিংবা দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, মন্ত্রীসভার আকার সামান্য বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। নতুন মুখ অন্তর্ভুক্ত করে সরকার তার কার্যক্রমে গতি আনতে চাইতে পারে। একই সঙ্গে দুইজন মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য নিশ্চিত নয়।

এদিকে সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে মন্ত্রীসভার সদস্যরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন। তাদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনার এখতিয়ার একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা সম্ভব নয়।
প্রেক্ষাপট

গত জাতীয় নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শুরুতে তার মন্ত্রিসভায় ৪৯ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান গত ১ জুন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। আগস্টে সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে—এ সময়টিকে কেন্দ্র করেই প্রশাসনিক পুনর্মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য পুনর্গঠনের আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ছয় মাস শেষে মন্ত্রীসভায় সীমিত রদবদল একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে সরকার একদিকে পারফরম্যান্সে গতি আনতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

 প্রশাসনিক এলাকা সচিবালয়ে গুন্জন রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক পরিবহন ও কৃষিসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আসতে পারে নতুন মুখ।শিক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহাদী আমিনকে।স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েও রদবদলের গুন্জন চাউর রয়েছে।

নতুন করে আলোচনায় আছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়,  অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেল, অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া। তবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়   মন্ত্রীসভায়  যুক্ত হতে না পেরে  বলেছিলেন, ' মৃত্যুর আগপর্যন্ত আর মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না"। মন্ত্রী হওয়ার চেয়ে সংসদে জনগণের কথা তুলে ধরা এবং নিয়মের শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

এদিকে, সব মিলিয়ে, মন্ত্রিসভায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না—বরং কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের এই পর্যায়ে কিছু না কিছু সমন্বয় আসার আভাস স্পষ্ট। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়