শিরোনাম
◈ বঙ্গভবনে প্রথম দিনের দাপ্তরিক কাজ শুরু নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির ◈ প্রাথমিক শিক্ষায় মনিটরিং-জবাবদিহিতায় আসছে নতুন নীতিমালা ◈ রাজধানীতে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য ◈ আইসি‌সি র‌্যা‌ঙ্কিং‌, টেস্ট ক্রিকে‌টে বাংলাদেশ এখন ৬ নম্বর দল ◈ রাজনৈতিক মতাদর্শ নয়, সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ◈ চলতি সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ ◈ দ্বিতীয় টে‌স্টে নাকাল বাংলাদেশ, টাইগার‌দের বিধ্বস্ত করে জিতলো অস্ট্রেলিয়া ◈ বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত, যাত্রা শুরু ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’র ◈ ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ২৬ আগস্ট ছুটি পাবেন না যারা ◈ একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যা, বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশিত : ০২ জুন, ২০২৬, ০২:১৬ রাত
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির দৌড়ে ড. খলিল, ইতিহাস গড়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে লড়ছে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস। আজ মঙ্গলবার নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদ কক্ষে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ১৯৩ সদস্যবিশিষ্ট সাধারণ পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এক বছরের মেয়াদের জন্য তাদের পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন করবে। ঐতিহাসিকভাবে এই নির্বাচন বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। কেননা, দীর্ঘ প্রায় চার দশকের মধ্যে এবারই ড্রাইভিং সিটে রয়েছে বাংলাদেশ।

প্রচলিত আঞ্চলিক রোটেশন পদ্ধতি অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত। নির্বাচনে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তার প্রতিপক্ষ সাইপ্রাসের বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত ও রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেজ কাকাউরিস। নির্বাচিত প্রার্থী বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যানালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন। জাতিসংঘের ৮০ বছরের ইতিহাসে বেয়ারবক সাধারণ পরিষদের পঞ্চম নারী সভাপতি।

এমন এক প্রেক্ষাপটে এই ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন বিশ্ব জুড়ে একাধিক সংঘাত, ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক বিভাজন, জাতিসংঘের আর্থিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন জোরালো হয়েছে। একই সঙ্গে বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হতে যাওয়ায় জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। ফলে ৮১তম অধিবেশনকে জাতিসংঘের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচজন নতুন অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনের একদিন আগে।

বাংলাদেশের প্রার্থিতা: চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেয়া ড. খলিলুর রহমান এর আগে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নির্বাচনী ভিশন বিবৃতিতে ছয়টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে। যার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ, সকল দেশকে সমান অধিকারের মাধ্যমে এগিয়ে নেয়া এবং বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।

খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি সকলের জন্য পূর্ণকালীন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বলেছেন, গ্লোবাল সাউথের একজন প্রার্থী হিসেবে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা বহন করলেও নির্বাচিত হলে সমগ্র সদস্যপদের স্বার্থে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, মহামারি প্রস্তুতি, উন্নয়নের অধিকার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের মতো বিষয়গুলো আগামী অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সম্মিলিত সংকল্পের পরীক্ষা নেবে। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচিত হলে আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং সদিচ্ছাপূর্ণ আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারে কাজ করবেন। খলিলুর রহমান নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বাংলাদেশ থেকে দ্বিতীয় সভাপতি। এর আগে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশের কূটনীতিক ও সাবেক জাতীয় সংসদ স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ৪১তম অধিবেশনের সভাপতি ছিলেন।

সাইপ্রাসের অবস্থান: অন্যদিকে, চার দশকেরও বেশি কূটনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্দ্রেজ কাকাউরিস বর্তমানে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহুপক্ষীয় কূটনীতি বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে সাইপ্রাসের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার এবং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাইপ্রাস সরকার তাদের প্রার্থিতাকে বাস্তবমুখী বহুপক্ষীয়তা, জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্তর্জাতিক সংকটের সময়ে সাধারণ পরিষদের ভূমিকা শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরেছে।

নিজের ভিশন বিবৃতিতে কাকাউরিস পাঁচটি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র নির্ধারণ করেছেন। যার মধ্যে সাধারণ পরিষদের সক্ষমতা জোরদার, মানুষের সুরক্ষা, সংকট প্রতিরোধ, জলবায়ু, মহাসাগর ও দুর্যোগ প্রস্তুতির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক সংলাপে কাকাউরিস বলেন, জাতিসংঘ আমাদের সবার যৌথ আবাসভূমি। এ প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর রাখতে বাস্তবমুখী বহুপক্ষীয়তা, আস্থা পুনর্গঠন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সবার কল্যাণে কাজ করে এমন একটি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কাকাউরিস নির্বাচিত হলে তিনিই হবেন প্রথম সাইপ্রাসের সভাপতি।

গুরুত্বপূর্ণ এক ভোট: এবারের নির্বাচন শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন সাধারণ পরিষদকে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, আর্থিক চাপ, বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার প্রতি আস্থা সংকট এবং ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক মেরূকরণের মতো জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বর্তমান সভাপতি আনালেনা বেয়ারবকও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, বৈশ্বিক সংকট এবং চলমান সংস্কার প্রক্রিয়ার কারণে আগামী অধিবেশনটি জাতিসংঘের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

ফলে এবারের ভোটকে অনেকেই জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার ও নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা নির্ধারণে একটি তাৎপর্যপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন। বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে বাংলাদেশও এক গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। দীর্ঘ এক নায়কতান্ত্রিক শাসনের পর ঢাকায় নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান নানামুখী চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপি সরকার। যারমধ্যে রোহিঙ্গা ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্তর্বর্তী আমলে এ নিয়ে কিছুটা দৌড়ঝাঁপ দেখা দেখা গেলেও কার্যকরী কোনো ফল দৃশ্যমান হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারকেও বাংলাদেশের ওপর চেপে বসা ওই রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা করতে হবে। এক্ষেত্রে জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভূমিকা কী হবে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। উৎস: মানবজমিন।

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়