শিরোনাম
◈ নতুন পদ্ধতি আবিষ্কার: ডিএনএ পরীক্ষায় স্তন ক্যানসারের অনেক রোগীর আর লাগবে না কেমোথেরাপি ◈ দিল্লিতে পাঁচতলা ভবন ধস, উদ্ধার ১২; শতাধিক আটকে থাকার আশঙ্কা ◈ জঙ্গল সলিমপুরে নতুন কারাগারের পরিকল্পনা, আপাতত উচ্ছেদ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ◈ ইরানের ভয়ে বাতি নিভিয়ে জাহাজ হরমুজ প্রণালী অ‌তিক্রম করছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের ◈ ইরানের অনুমতি নিয়ে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করলো ২০ জাহাজ ◈ ইরানে আমাদের হামলা করা উচিত হয়নি: ফক্স নিউজকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ◈ ঈদের টানা ৭ দিনের ছুটি শেষ, সোমবার থেকে খুলছে অফিস-আদালত, ব্যাংক ◈ টানা ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে নগরবাসী ◈ ‘জঙ্গি’ অপবাদের বোঝা বয়ে এক দশক, শেষমেশ নির্দোষ ৩ শিক্ষার্থী ◈ নিজেদের গতি কমে যাওয়ার ব্যাখ্যায় নাহিদ রানাকে টানলেন শা‌হিন আফ্রিদি 

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ১২:০৮ দুপুর
আপডেট : ৩১ মে, ২০২৬, ১২:৪২ দুপুর

প্রতিবেদক : মনিরুল ইসলাম

জঙ্গল সলিমপুরে নতুন কারাগারের পরিকল্পনা, আপাতত উচ্ছেদ নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চট্টগ্রামের বিতর্কিত জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে আর কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ অপরাধী চক্রের অভয়ারণ্য হিসেবে থাকতে দেওয়া হবে না বলে চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, জঙ্গল সলিমপুরসহ এর আশপাশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে এখনও সশস্ত্র অপরাধীদের তৎপরতার সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে। কোনো অপশক্তিকে ছাড় দেওয়া হবে না; খুব শীঘ্রই একটি সুপরিকল্পিত ও সর্বাত্মক যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা হবে।

রোববার (৩১ মে) দুপুরে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য থাকতে দেওয়া হবে না এবং চাঁদাবাজি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করবে সরকার। একই সঙ্গে সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি নতুন কারাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আপাতত এই এলাকা থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না।

তিনি আরও জানান, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশের কোথাও অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় গড়ে উঠতে দেওয়া হবে না এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গল সলিমপুর এলাকাকে কেন্দ্র করে চলমান বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে বলেও তিনি জানান।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, বর্তমান সরকার সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি—এই চারটি মারাত্মক অপরাধকে দেশ থেকে চিরতরে মুছে ফেলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সারা দেশে মাদক, সন্ত্রাস, জুয়া এবং চাঁদাবাজি—এই চারটি অপরাধকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করা হবে। পরিকল্পিত যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানের মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূলে কাজ করা হবে।”

বক্তব্যের একপর্যায়ে দেশের প্রাচীন ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিশেষ করে ১৮৬৭ সালের পুরনো জুয়া আইনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এখন অনলাইন ও অফলাইন জুয়াসহ বিভিন্ন ধরনের বেটিং কার্যক্রম চালু রয়েছে। কিন্তু বিদ্যমান আইনি কাঠামো দিয়ে সেগুলো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তাই নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী সংসদ অধিবেশনেই এ বিষয়ে আইন আনার চেষ্টা করা হবে।”

একই সঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের বিষয়েও সরকারের বড় পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “মাদক সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান আনা হবে। বর্তমানে হাজার হাজার মাদক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে আছে। বিশেষ ট্রাইব্যুনাল হলে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হবে। এভাবেই আমরা দেশকে বাঁচাতে পারব, যুব সমাজকে রক্ষা করতে পারব।”

সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে ‘কিশোর গ্যাং’-এর ক্রমবর্ধমান নৃশংসতা ও বেপরোয়া তৎপরতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কিশোর গ্যাং মোকাবিলায় কিছু আইনি সংস্কার প্রয়োজন। বর্তমানে কিশোর অপরাধীদের জন্য বিদ্যমান আইনের কিছু সুযোগ-সুবিধা অপব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে অনেকেই গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসীতে পরিণত হচ্ছে। তাই এ ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশে শতভাগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে। রাষ্ট্রে যে আইনের সুশাসন কার্যকরভাবে বিদ্যমান এবং আইনি কাঠামো যে কতটা শক্তিশালী—তা অপরাধীদের দমনের মাধ্যমে বাস্তবে প্রমাণ করে দেখানো হবে। জঙ্গল সলিমপুরের সপক্ষে তিনি বলেন, “আসলে যা হবে, তা হলো রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এবং আইনের শাসনের বাস্তব প্রয়োগ মানুষ দেখতে পাবে।”

গুরুত্বপূর্ণ পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন সরকারের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং র‌্যাব ও এলজিইডিসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়