শিরোনাম
◈ নারী ত্রিদেশীয় সিরিজের বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা ◈ ইরান যুদ্ধ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যেও ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ২.৯%: OECD ◈ পণ্য খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর ◈ আগামী শুক্র ও শনিবার ব্যাংক খোলা ◈ রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ৫ দফা প্রস্তাব: জাতিসংঘের সাইডলাইন বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো আহ্বান ◈ হুতিদের হামলা ঠেকাতে সৌদির অনুরোধে সাড়া নেই, ট্রাম্প-সালমান সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন ◈ গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, স্বাস্থ্যখাতে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা ◈ ১০ বছরে জ্বালানি তেল থেকে সরকারকে ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি ◈ লিভারপুলের অ্যানফিল্ড গুগল রেটিংয়ে এগিয়ে ◈ আফগান লিগে নাম লেখালেন তাসকিন

প্রকাশিত : ৩১ মে, ২০২৬, ০৯:৫৭ সকাল
আপডেট : ২০ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

সন্তান কথা শোনে না, জেনে নিন ৬ সহজ কৌশল

‘কতবার বললাম! শুনলে না কেন?’

বাড়িতে শিশু থাকলে এমন কথা প্রায়ই বলতে হয়। খেলায় মগ্ন, কার্টুনে ডুবে থাকা বা কল্পনার জগতে থাকা শিশুরা অনেক সময় বাবা-মায়ের কথা শুনতেই চায় না। তখন বিরক্তি বাড়ে, ধৈর্য কমে, কখনো কখনো চিৎকার করতে হয়।

advertisement

শিশু বিশেষজ্ঞ সুমাইয়া মিম বলেন, শিশুরা অবাধ্য হতে কথা শোনে না, ব্যাপারটা এমন নয়। অনেক সময় সমস্যা হয় আমাদের কথা বলার ধরনে। কথা বলার ধরনে একটু পরিবর্তন আনলেই শিশুরা অনেক বেশি মনোযোগী হতে পারে।

এক্ষেত্রে ছয়টি বিষয় মেনে চলার পরামর্শ দেন তিনি।

advertisement

একসঙ্গে অনেক কথা বলবেন না

‘টিভি বন্ধ করো, হাত ধোও, জামা বদলাও, দাঁত ব্রাশ করো, তারপর ঘুমাতে যাও।’ এতগুলো নির্দেশ একসঙ্গে দিলে ছোট শিশুর পক্ষে সব মনে রাখা কঠিন। সে হয়তো প্রথম কাজটাই করবে, বাকিগুলো ভুলে যাবে। তাই কাজগুলো ভাগ করে বলুন।

advertisement

প্রথমে বলুন, ‘কার্টুন শেষ হলে টিভি বন্ধ করো।’

সেটা হয়ে গেলে বলুন, ‘এখন দাঁত ব্রাশ করো।’

এভাবে ছোট ছোট নির্দেশ শিশুদের মেনে চলতে ও মনে রাখতে অনেক সহজ হয়।

সরাসরি বলুন

অনেক সময় আমরা মূল কথার আগে অনেক ব্যাখ্যা দিই। ‘আজ পার্কে যাব, সেখানে দৌড়াবে, খেলবে, তাই স্যান্ডেল পরে গেলে সমস্যা হবে...’ এত লম্ব কথা শুনতে গিয়ে শিশু মূল কথাটাই ভুলে যায়।

তার বদলে বলুন, ‘আমরা পার্কে যাচ্ছি। এখন জুতা পরে নাও।’ ছোট ও পরিষ্কার করে কথা বললে শিশুদের শুনতে, বুঝতে ও মানতে সুবিধা হয়।

দূর থেকে চিৎকার না করে কাছে যা

রান্নাঘর থেকে চেঁচিয়ে বললেন, ‘পড়তে বসো!’ কিন্তু শিশুর মন তখন খেলায়। সে হয়তো শুনলই না।তাই কাছে গিয়ে, চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। প্রয়োজনে কাঁধে আলতো করে হাত রাখুন। এতে সে বুঝবে, আপনি গুরুত্বপূর্ণ কিছু বলছেন।

আরেকটি মজার উপায় হলো, কথা বলার পর জিজ্ঞেস করা, ‘আমি কী বললাম, বলো তো?’
তাহলে বোঝা যাবে সে সত্যিই শুনেছে কি না।

একই কথা বারবার বলবেন না

অনেক অভিভাবক একই কথা পাঁচ-ছয়বার বলেন। ফল কী হয়?

শিশু শিখে যায় যে, প্রথমবার শুনতে হবে না। কারণ মা বা বাবা আরও কয়েকবার বলবেন!

তাই এক বা দুইবার বলুন। তারপরও না শুনলে আগে থেকে ঠিক করা নিয়ম মেনে চলুন। আবার নির্দেশ মেনে চললে প্রশংসা করতেও ভুলবেন না।

এটা ‘ভালো হয়েছে’ বা ‘ধন্যবাদ, তুমি আমার কথা শুনেছ’, এগুলো বললে শিশুরা অনেক খুশি হয়।

শোনার অভ্যাসকে মজার করে তুলুন

শিশুরা খেলতে খেলতে সবচেয়ে ভালো শেখে। হাঁটতে বের হয়ে বলুন, ‘শোনো তো, কয়টা পাখির ডাক শুনতে পাও?’

অথবা বলুন, ‘বাতাসের শব্দটা কেমন লাগছে?’

এ ধরনের ছোট ছোট খেলায় শিশুর মনোযোগ বাড়ে। শোনার অভ্যাসও গড়ে ওঠে।

তার কথা শুনুন

শিশুরা শুধু কথা শুনে শেখে না, দেখেও শেখে। আপনি যদি মোবাইল দেখতে দেখতে তার কথা শোনেন, তাহলে সে-ও একসময় অন্যের কথা গুরুত্ব দেবে না।

তাই সন্তান যখন কোনো গল্প বলছে, স্কুলের কথা বলছে বা নতুন কিছু দেখাতে চাইছে, তখন একটু সময় দিন। মোবাইলটা হাত থেকে নামিয়ে রাখুন। তার দিকে তাকান। প্রশ্ন করুন।

শিশুরা যখন বুঝতে পারে, তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনা হচ্ছে, তখন তারাও অন্যের কথা বেশি মনোযোগ দিয়ে শুনতে শেখে।

সন্তানকে কথা শোনানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো—কম কথা বলা, স্পষ্ট করে বলা, ধৈর্য ধরা এবং তার কথাও মন দিয়ে শোনা।

  • সর্বশেষ