প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধে জীবনযাপন মুগ্ধ করেছে দেশের মানুষকে। অনেকেই বলছেন, এমন নিরহংকার সরকারপ্রধান অতীতে কখনো দেখেনি বাংলাদেশ। ব্যক্তি তারেক রহমানের প্রতি মানুষের এই আস্থা ও ভালোবাসা একরকম নজিরবিহীন। কিন্তু সরকারের ১০০ দিনে এসে প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে-তার ব্যক্তিত্বের এই উজ্জ্বলতা কি সরকারের কাজেও ছড়িয়ে পড়েছে? যে প্রত্যাশা নিয়ে মানুষ বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছে, তা কি আদৌ মিটেছে?
মানুষের সবচেয়ে বড় চাওয়া ছিল জীবনযাত্রায় স্বস্তি, নিরাপত্তা, আইনের শাসন ও কর্মসংস্থান। দেশে নতুন কোনো বিনিয়োগের খবর নেই। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও অনিশ্চিত। অথচ এ দুটিই ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম স্বপ্ন। পাশাপাশি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি আর আর্থিক খাতের অস্থিরতায় জীবনযাত্রা সংকটে পড়েছে। নিরাপত্তা, আইনের শাসনসহ বেশকিছু বিষয়েও জনমনে অসন্তোষ ও প্রশ্ন রয়েছে।
সরকার অবশ্য নিজেদের অর্জন তুলে ধরছে জোর দিয়েই। ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষ্যে সোমবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, সংস্কার উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খাদের কিনারে থাকা রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ট্র্যাকে ফেরানোর চেষ্টায় কমতি ছিল না। তবে সরকার নিজেও স্বীকার করছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনো ঘাম ঝরাচ্ছে।
এদিকে বিরোধীরা বলছে, ১০০ দিনেও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না হওয়াটাই সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এছাড়া সমালোচনার কেন্দ্রে আছে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তি এবং ব্যাংকিং খাতের কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত। গুম কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন বাতিল করে সরকার বলেছিল আরও শক্তিশালী আইন করবে; কিন্তু ১০০ দিনেও তা করতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ, যার মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি, গুম প্রতিরোধ এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ রয়েছে। এগুলো বিল আকারে উত্থাপন না করার সুপারিশ করা হয়। ফলে ১০ এপ্রিলের পর এগুলো কার্যকারিতা হারায়।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের নির্বাসন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর আগে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ তাকে দীর্ঘদিনের মামলা থেকে খালাস দেন। এরপর নির্বাচনে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয় এবং ১৭ ফেব্রুয়ারি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন দেশের কোটি মানুষের প্রত্যাশায় আলো জ্বালানো তারেক রহমান। এপ্রিলে তিনি জায়গা করে নেন টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় বসা এ সরকারের জন্য জনগণের আস্থা ধরে রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যে সততা আর সাদাসিধে জীবন দিয়ে তারেক রহমান দৃষ্টান্ত গড়েছেন, নিজের দলের নেতাকর্মীরাই সেই পথ কতটুকু অনুসরণ করতে পারছেন-সেটাই এখন বিবেচ্য বিষয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কর্মকাণ্ড সরকারের সফলতাকেও ম্লান করে দিচ্ছে।
সূত্র: যুগান্তর