সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর কন্যা জাইমা রহমান–এর বাংলা ভাষা চর্চা ও দেশপ্রেম নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রসঙ্গে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানতে চান, দেশের অনেক ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার্থী ঠিকভাবে বাংলা বলতে বা পড়তে পারে না। এতে তারা নিজেদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে কি না। জবাবে তারেক রহমান তাঁর পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার সময় তাঁর মেয়ে জাইমা রহমানের বয়স ছিল মাত্র ১২ বছর। এরপর দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর বিদেশে, বিশেষ করে ইংল্যান্ডে থাকা ও বিদেশি শিক্ষাব্যবস্থায় বেড়ে ওঠার পরও জাইমা নিজের শেকড় ভুলে যায়নি।
গর্বের সঙ্গে তিনি জানান, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার নামের পাশাপাশি অধিকাংশ থানার নামও তাঁর মেয়ে বলতে পারে। এমনকি তার কথা বলা বা আচরণে বোঝার উপায় নেই যে সে দীর্ঘদিন বিদেশে ছিল।
ইংলিশ মিডিয়ামে পড়াশোনা করলেই বাংলা ভাষা ভুলে যেতে হবে—এমন ধারণাকে তিনি ‘মানসিকতার বিষয়’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অনেক পরিবার সন্তানদের সঙ্গে সবসময় ইংরেজিতে কথা বলতে উৎসাহ দেয়, যা ভাষা চর্চার জন্য ভালো হলেও কখনো কখনো মাতৃভাষা থেকে দূরত্ব তৈরি করে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আইন করে চাপিয়ে দেওয়ার নয়; বরং এটি পারিবারিক শিক্ষা ও ব্যক্তিগত মানসিকতার ওপর নির্ভর করে। শেষে প্রশ্নকর্তাকে উদ্দেশ করে তিনি রসিকতার ছলে বলেন, মন থেকে বিশ্বাস করলেই পরিবর্তন সম্ভব।