শিরোনাম
◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে দুবাই থেকে এমিরেটসের সব ফ্লাইট স্থগিত ◈ “বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেব”: মমতা ◈ আসিফ নজরুলের দুর্নীতি? ◈ ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ জানাল আরব আমিরাত ◈ যাকাত ব্যবস্থাপনায় ১০–১৫ বছরে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব: তারেক রহমান ◈ ‘ভালো লাগা’ থেকে যুদ্ধ? ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্রেই তীব্র প্রশ্ন ◈ ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার ◈ নারীর অধিকার ও সমতা নিশ্চিতেই উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য: তারেক রহমান ◈ তেল নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, আরও ২ ভ্যাসেল আসছে: জ্বালানি মন্ত্রী ◈ বিদেশি কর্মী নিয়োগে সুখবর দিলো মালয়েশিয়া

প্রকাশিত : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৪:২০ দুপুর
আপডেট : ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০৭ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

পাম্পে ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড, খুচরা বাজারে চড়া দামে বিক্রি

জ্বালানি তেলের সংকট
সিরিয়ালে মিলছে ২০০ টাকার তেল, খোলা বাজারে বিক্রি চড়া মূল্যে
 
ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি তেল সংকট দেখা দিয়েছে। মোটরসাইকেলসহ ছোট-বড় যানবাহনগুলোকে সীমিত পরিসরে তেল নিতে হচ্ছে।

শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জের কয়েকটি জ্বালানি তেলের পাম্পে ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন পয়েন্টের পাম্পগুলোতে তেলের সংকট।

গত দুই তিন দিন ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন পাম্প ছাড়াও উপজেলার জ্বালানি তেলের পাম্পে ঝুলছে বড় করে লেখা ‘তেল নাই’ সাইনবোর্ড। যাও দু’একটি পাম্পে জ্বালানি পাওয়া যায়, সেখানে সিরিয়াল অনুযায়ী নিতে হচ্ছে সীমিত পরিমাণে তেল।
অন্যদিকে পাম্পগুলোতে জ্বালানি তেল নিতে মোটরসাইকেল চালককে হেলমেট পরিহিত থাকতে হচ্ছে। প্রতিটি মোটরসাইকেলকে দিনে একবার ২০০ টাকা বা ২৪০ টাকার তেল (অকটেন) দেওয়া হচ্ছে।

এত অল্প টাকার জ্বালানি পাম্প থেকে দেওয়ায় অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে খোলা বাজারে অতিরিক্ত মূল্যে চাহিদা অনুযায়ী পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল মিলছে– এমন অভিযোগও রয়েছে।

সুজন মাহমুদ নামের এক পণ্য সরবরাহকারী (ডেলিভারি ম্যান) বলেন, সকাল সাড়ে ৯টায় কয়েকটি পাম্পে গিয়ে দেখি তেল নাই। পরে একজন বলল, পদ্মা পাম্প তেল দিচ্ছে।

আমি তেল নিতে এসে ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র দুইশ টাকার অকটেন– ১.৬৭ লিটার পেলাম। যেতে হবে শহর থেকে দৌলতপুর, যার দূরত্ব আসা-যাওয়ায় আনুমানিক ৫০ কিলোমিটারের বেশি। পণ্য নিয়ে নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পারলেও ফেরার ক্ষেত্রে দেখা দেবে অনিশ্চয়তা। তখন খুচরা বাজার থেকে অতিরিক্ত মূল্যে তেল কিনে আমাকে ফিরে আসতে হবে। যাদের মূলত প্রয়োজন তাদের যাচাই-বাছাই করে তেল দিলে ভালো হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী আবুল কাশেম বলেন, সকাল বেলায় ঘুরে তিনটি পাম্প থেকে সাড়ে ছয়শ টাকার তেল নিয়েছি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নামের একজন বলেন, যার যতটুকু তেল প্রয়োজন ঠিক ওইটুকু তেল সংগ্রহ করলে কোনো সমস্যা হতো না। আমরা হুজুগের জাতি, শুনেছি জ্বালানি তেল সংকট আর হুমড়ি খেয়ে তেল ক্রয় করছি। অপরদিকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খুচরা বাজারে প্রতি লিটার তেল ২০ থেকে ৩০ টাকা অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছেন। প্রশ্ন হলো খুচরা বাজারে অতিরিক্ত তেল কোথায় থেকে এলো? এখানে অসাধু পাম্প কর্তৃপক্ষ জড়িত থাকতে পারে। এ অবস্থার জন্য জরুরি ভিত্তিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক খুচরা তেল বিক্রেতা বলেন, আমরা অতিরিক্ত দামে (অকটেন, পেট্রোল, ডিজেল) কিনেছি পাম্প থেকে।

কখন কীভাবে তেল সংগ্রহ করছেন এমন প্রশ্নে তারা বলেন, মধ্যরাতের দিকে পাম্পগুলো থেকে তেল নিয়ে আসি ভ্যানে করে। অনেক পাম্পে তেল আছে, তবে তারা সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে ‘তেল নাই’। আবার অনেকের কাছে পর্যাপ্ত তেল আছে, কিন্তু চাহিদার নাটক দেখিয়ে আমাদের মতো খুচরা পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের কাছে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত দামে কিনছি বলেই তো চড়া দামে তেল বিক্রি করছি।

জেলার একাধিক পাম্প কর্তৃপক্ষ বলেছে, ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় গ্রাহকদের পর্যাপ্ত তেল দিতে পারছে না। যতটুকু তেল আছে, সেটুকু সব গ্রাহকের মধ্যে ২০০ ও ২৪০ টাকার করে দেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মানিকগঞ্জ কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মরত সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা যাবে না। নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির প্রমাণ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উৎস: বাংলানিউজ24

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়