পিলখানা হত্যাকাণ্ডে ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে এবার ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে। সাক্ষ্যে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, নতুন কমিশনের তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদর দফতর পিলখানায় হত্যা করা হয় ৫৭ সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে।
এ হত্যাযজ্ঞ কেন ঘটলো, নেপথ্যের কুশীলবইবা কারা সেই বিষয়টি উঠে এসেছে তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে। পাশাপাশি সাক্ষ্য প্রমাণে বেরিয়ে আসছে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে নূর তাপস ও জাহাঙ্গীর কবির নানকের নাম।
বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সাবেক সেনাকর্মকর্তা মেজর জাহিদি আদালতে, ফজলে নূর তাপসের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন। সাহারা খাতুনের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন মেজর মোকাররম আহম্মেদ। সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন জানায়, বিস্ফোরক মামলার সাক্ষীতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে শেখ হাসিনা, শেখ তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তৎকালীন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতার নাম উঠে এসেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও জানিয়েছে প্রসিকিউশন।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে বিডিআরের ১৩৯ জন সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২৮৩ জনকে খালাস দিয়েছেন উচ্চ আদালত। তবে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলা বিচারিক আদালতে এখনো চলমান। আসামিপক্ষের আইনজীবীর অভিযোগ, হত্যা মামলায় খালাস পেলেও প্রায় এক যুগ ধরে দ্বিতীয় মামলায় কারাভোগ করছেন অনেকে।
বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ সাক্ষীর মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ।