মহসিন কবির: বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর চাঙ্গা চাঙ্গা কূটনৈতিক মিশনগুলো। একের পর এক দেশ অভিনন্দন জানাচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ড. খলিলুর রহমানকে ফোন করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রদূত এ কথা বলেন। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে চীনের সম্পর্কে কোনো তৃতীয় দেশের হস্তক্ষেপ মানবে না চীন। নতুন সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে পাশে থাকবে চীন।
এ সময় তিস্তা প্রকল্প নিয়েও কথা বলেন চীনের রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, তিস্তা প্রজেক্ট সম্পর্কে কথা হয়েছে। প্রজেক্টটি এখন বাংলাদেশের ওপর নির্ভর করছে। চীন প্রস্তুত আছে। তিস্তা প্রজেক্ট নিয়ে চীন আশাবাদী। বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নতুন সরকারের সঙ্গে চীন স্থিতিশীল সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে কাজ করতে চায়।
তারেক রহমানকে সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন, দ্রুতই এ সফর হবে বলে আশাবাদ জানান রাষ্ট্রদূত। ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল জিয়াউর রহমানের হাত ধরে। সেটি উন্নত করেছেন খালেদা জিয়া, এই সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন তারেক রহমান, এমনটাই প্রত্যাশা চীনের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। রোববার বিকেলে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের সময় এই আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন।
রোববার সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা তার সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে একটি অগ্রগামী ও ভারসাম্যপূর্ণ অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে বাংলাদেশের অভিপ্রায় তুলে ধরেন। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার করতে নিয়মিত ও গঠনমূলক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয়পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে ফোন করেছেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। রোববার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ফোনে আলাপকালে তারা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণে সম্মত হন। সেই সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসময় সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে বাংলাদেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান তিনি।
আলোচনায় দুই নেতা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার আগ্রহ প্রকাশ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এছাড়া বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাত এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একটি অগ্রসর ও ভবিষ্যতমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন দুই মন্ত্রী।
পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ ও দুই দেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, আমরা সবসময়ই একটি দূরদর্শী পন্থায় জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা জোরদার করার জন্য একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশার কথা জানিয়ে এসেছি। আমার মতে, জনগণের মধ্যে বিনিময় আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা সত্যিই আশা করি, ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী উপায়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করার বিষয়গুলোকে এগিয়ে নিতে পারবো।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সুবিধা ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে চাই। বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে এবং বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে আমরা আগ্রহী। আমরা বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ হিসেবে সমর্থন করার প্রতিশ্রুতি জানিয়েছি। আজকের বৈঠকেও আমি মূলত একই অনুভূতি প্রকাশ করেছি এবং আমাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছি।
ভিসা ইস্যুতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা সরাসরি কোনো সময়সীমা না দিলেও দ্রুতই এর সমাধানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত সমাধানের ব্যাপারে তারা আশাবাদী।