শিরোনাম
◈ বাংলা‌দে‌শের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দ‌লে নেই শান্ত ◈ হলফনামায় চমক: জোনায়েদ সাকির চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ অনেক বেশি ◈ নি‌জের মাঠেই হোঁচট খে‌লো লিভারপুল ◈ বাছাইয়ের প্রথম দিনে বিএনপি-জামায়াতসহ হেভিওয়েট যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলো ◈ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিলে কী পাবেন, ‘না’ দিলে কী পাবেন না ◈ বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ◈ ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন: ইনকিলাব মঞ্চ (ভিডিও) ◈ খালেদা জিয়ার ভারতের জলপাইগুড়িতে জন্ম ও শৈশব নিয়ে যা জানা যায় ◈ ২১ বছর পর চূড়ান্ত হলো জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিমালা, নগরায়ণে নতুন দিশা দিচ্ছে সরকার ◈ আমি আমার মতো করেই রাজনীতি চালিয়ে যাব: রুমিন ফারহানা

প্রকাশিত : ০২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৩:৪১ দুপুর
আপডেট : ০২ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০০ রাত

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

২১ বছর পর চূড়ান্ত হলো জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিমালা, নগরায়ণে নতুন দিশা দিচ্ছে সরকার

প্রথমবারের মতো 'জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিমালা-২০২৫' অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দেশের মোট জনসংখ্যার ৫ কোটি (৩২ শতাংশ) নগরে বসবাস করলেও তাদের জন্য পৃথক নীতিমালা ছিল না। এ নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাসযোগ্য গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।

একইসঙ্গে নগর ও শহরগুলোর বিকেন্দ্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে নগরবাসীদের সার্বিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনই এ উদ্যোগের 'লক্ষ্য'।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে নীতিমালাটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দীর্ঘ ২১ বছর পর জাতীয় নগর উন্নয়ন নীতিমালা চূড়ান্ত অনুমোদন পেল। 

পরে বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে 'জাতীয় নগর উন্নয়ন কাউন্সিল' গঠিত হবে, যার সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ২০০৪ সালে জাতীয় নগরনীতি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাটানি এবং বিভিন্ন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট গ্রুপের কারণে এ নীতিমালাটি চূড়ান্ত হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও একাধিকবার অনুমোদনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। শেষ পর্যন্ত গতকাল নীতিমালাটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

২০২২ সাল থেকে এ নীতিমালাটি প্রণয়নে যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহযোগিতায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সংযুক্ত ছিল বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়নে নগরায়ণ বর্তমানে অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশের মোট জনসংখ্যার ৩২ শতাংশ নগরে বসবাস করলেও জাতীয় উৎপাদনে নগর বাসিন্দাদের অবদান ৬০ শতাংশের বেশি।

এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন নগরে জনসংখ্যা সাড়ে ৫ কোটির বেশি, যা প্রতি বছর ৩ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং নাগরিক অবকাঠামোর ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। আবাসন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। 

এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং টেকসই ও পরিকল্পিত নগর নিশ্চিত করতেই 'জাতীয় নগর নীতি, ২০২৫' প্রণয়ন করা হয়েছে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে।

নীতিমালায় জনসংখ্যা ও আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে নগরগুলোকে চারটি স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে। সেগুলো হলো—মেগাসিটি (এক কোটি বা তদূর্ধ্ব): এখানে জনসংখ্যার চাপ কমাতে শিল্পকারখানাকে নিরুৎসাহিত করে অন্য অঞ্চলে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা হবে; মহানগর (৫ লাখ থেকে এক কোটি): এগুলো আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে; মাঝারি/জেলা শহর (৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ): এগুলো কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ ও বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র হবে; উপজেলা/ছোট শহর (২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার): এখানে প্রশাসনিক ও পেশাগত সেবা প্রদান এবং খামারের দ্রব্যাদি বিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

এদিকে, গতকালের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মোবাইল আমদানি ও দেশে উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুল্ক, অগ্রিম কর ও ভ্যাটের পরিমাণ ৬১ দশমিক ৮০ থেকে ৪৩ শতাংশে কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ (এনআইডি) আপাতত নির্বাচন কমিশনের অধীনে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ইসি থেকে এনআইডি সেবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে দেওয়ার লক্ষ্যে 'জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন-২০২৩' প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত ৬ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকার ওই আইনটি বাতিল করতে 'জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৫' এর অনুমোদন দেয়। যার মাধ্যমে এনআইডি সেবা নির্বাচন কমিশনের অধীনেই থাকে। 

পরে অন্তর্বর্তী সরকারও এনআইডি সেবাকে ইসি থেকে সরিয়ে 'সিভিল রেজিস্ট্রেশন কমিশনে' দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও এখনো কমিশন গঠন হয়নি।

গতকালের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে ইসির অধীনেই এনআইডি সেবা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া বৈঠকে 'বাংলাদেশে হাইটেক পার্ক অধ্যাদেশ-২০২৫' উপস্থাপন হলেও অনুমোদন পায়নি।

অন্যদিকে, শ্রম আইন আবারও সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দেবে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়নি। উৎস: ডেইলি স্টার।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়